ইন্দো-নেপাল সীমান্তে জাল নোটের বড় চক্র ফাঁস! পুলিশের জালে ৫ পাণ্ডা, উদ্ধার লক্ষ লক্ষ টাকা

ইন্দো-নেপাল সীমান্তে জাল নোটের বড় চক্র ফাঁস! পুলিশের জালে ৫ পাণ্ডা, উদ্ধার লক্ষ লক্ষ টাকা

উত্তরপ্রদেশের বস্তি জেলায় এক বড়সড় অভিযানে আন্তঃসীমান্ত জাল নোট পাচার চক্রের পর্দাফাঁস করেছে পুলিশ। নেপাল সীমান্তকে করিডোর হিসেবে ব্যবহার করে ভারতীয় অর্থনীতিতে আঘাত হানার এই গভীর ষড়যন্ত্র রুখে দিয়ে পুলিশ ৪ লাখ ২০ হাজার টাকার জাল নোট উদ্ধার করেছে। এই ঘটনায় মূল চক্রীসহ পাঁচজন অপরাধীকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

পুলিশি অভিযান ও নাটকীয় গ্রেফতার

একটি গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বস্তি জেলার ওয়াল্টারগঞ্জ থানা পুলিশ, সোয়াত (SWAT) এবং নজরদারি দল যৌথভাবে বক্সাই ঘাট সেতুর কাছে ওত পাতে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে তিনটি মোটরসাইকেলে করে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে দুষ্কৃতীরা। তবে পুলিশি তৎপরতায় চক্রের মূল হোতা মোস্তফা এবং তার চার সহযোগীকে হাতেনাতে ধরা সম্ভব হয়। তল্লাশিতে তাদের কাছ থেকে ৫০০, ২০০ এবং ১০০ টাকার মোট ১৭টি জাল নোটের বান্ডিল উদ্ধার করা হয়।

আন্তর্জাতিক সংযোগ ও অপরাধের ধরণ

তদন্তে উঠে এসেছে যে, গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে মণিকান্ত চৌধুরী নেপালের রূপানদেহি জেলার বাসিন্দা, যা এই চক্রের আন্তর্জাতিক যোগসূত্রকে স্পষ্ট করে। বর্তমানে সে উত্তরপ্রদেশের মহারাজগঞ্জে আস্তানা গেড়েছিল। অন্য এক অভিযুক্ত নবীউল্লাহ ওসমানীর বিরুদ্ধে আগে থেকেই গোরক্ষপুর ও কুশীনগরে জাল নোটের মামলা রয়েছে। পুলিশ মনে করছে, নেপাল সীমান্ত ব্যবহার করে এই নোটগুলো ভারতের বাজারে ছড়ানো হচ্ছিল।

সাধারণ মানুষকে ঠকানোর অভিনব কৌশল

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শ্যামাকান্ত জানিয়েছেন, এই চক্রটি মূলত সহজ-সরল কৃষক এবং মধ্যবিত্ত মানুষদের টার্গেট করত। তাদের প্রতারণার ধরণ ছিল নিম্নরূপ:

  • টাকা দ্বিগুণ করার টোপ: ব্যাংক থেকে বড় অঙ্কের টাকা তুলে বের হওয়া ব্যক্তিদের রাসায়নিকের মাধ্যমে টাকা দ্বিগুণ করে দেওয়ার প্রলোভন দেখাত তারা।
  • কৌশলী মোড়ক: নোটের বান্ডিলের উপরে ও নিচে আসল নোট রেখে ভেতরে জাল নোট ঢুকিয়ে দেওয়া হতো।
  • ভিড়ের সুযোগ: জনাকীর্ণ এলাকায় আসল টাকা হাতিয়ে নিয়ে জাল নোটের বান্ডিল ধরিয়ে দিয়ে চম্পট দিত এই প্রতারক দল।

উদ্ধারকৃত সামগ্রী ও আইনি পদক্ষেপ

অভিযান শেষে পুলিশ জাল নোট ছাড়াও বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ জিনিস বাজেয়াপ্ত করেছে:

  • নগদ ৪ লাখ ২০ হাজার টাকার জাল নোট।
  • ৭টি স্মার্টফোন এবং ৩টি মোটরসাইকেল।

ধৃত মোস্তফা, নবীউল্লাহ, নবীউল্লাহ ওসমানী, হাবিবুর রহমান এবং মণিকান্ত চৌধুরীর বিরুদ্ধে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (BNS) অনুযায়ী জালিয়াতি ও জাল নোট কারবারের কঠোর ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে। সীমান্ত এলাকায় এই ধরনের চক্রের সক্রিয়তা দেশের নিরাপত্তার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ বলে মনে করছে প্রশাসন।

একঝলকে

  • ঘটনা: আন্তঃসীমান্ত জাল নোট পাচার চক্রের পাঁচ সদস্য গ্রেফতার।
  • স্থান: বক্সাই ঘাট সেতু এলাকা, বস্তি জেলা, উত্তরপ্রদেশ।
  • উদ্ধার: ৪ লক্ষ ২০ হাজার টাকার জাল নোট এবং ৩টি বাইক।
  • মূল টার্গেট: ব্যাংক গ্রাহক এবং সাধারণ কৃষক।
  • সংযোগ: নেপাল সীমান্ত ও স্থানীয় অপরাধী নেটওয়ার্ক।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *