“ইরানের অস্তিত্ব বিপন্ন, গুঁড়িয়ে দিয়েছি পারমাণবিক শক্তি!” লেবাননের সাথে শান্তি আলোচনায় বসার আগে হুঙ্কার নেতানিয়াহুর

পশ্চিম এশিয়ায় চলমান তীব্র উত্তেজনার মাঝে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এক চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন। তিনি জানিয়েছেন, ইসরায়েলি বাহিনীর বিশেষ অভিযানে ইরানের পরমাণু ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নেতানিয়াহুর মতে, ইরান এখন নিজের অস্তিত্ব রক্ষার লড়াই চালাচ্ছে। ইসরায়েল যে সাহসিকতার পরিচয় দিয়েছে, তাতে শত্রুপক্ষের দীর্ঘদিনের দম্ভ ও ভয়ের দেয়াল ভেঙে পড়েছে।
ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী দেশবাসীর উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে দাবি করেন, ইসরায়েল একটি সিংহের মতো জেগে উঠেছে। ইরান এবং তার মিত্ররা বর্তমানে অত্যন্ত কোণঠাসা অবস্থায় রয়েছে। তিনি স্পষ্ট করেছেন যে, ইরানের গভীরে গিয়ে হামলা চালানোর মাধ্যমে ইসরায়েল প্রমাণ করেছে তাদের সক্ষমতা কতটা বিস্তৃত। এই অভিযানের ফলে ইরানের পরমাণু প্রকল্পের ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে বলে তিনি মনে করেন।
লেবাননের সঙ্গে শান্তি আলোচনার প্রেক্ষাপট
যুদ্ধবিধ্বস্ত লেবাননের পক্ষ থেকে শান্তি আলোচনার প্রস্তাব দেওয়া হলেও নেতানিয়াহু দুটি কঠোর শর্তারোপ করেছেন। তার মতে, কোনো অস্থায়ী সমাধান ইসরায়েলের কাম্য নয়। লেবাননের সাথে দীর্ঘমেয়াদী শান্তির জন্য তিনি নিম্নলিখিত বিষয়গুলোতে জোর দিয়েছেন:
- হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণ: ইসরায়েল-লেবানন সীমান্তে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহকে তাদের সমস্ত সামরিক সক্ষমতা ত্যাগ করতে হবে।
- ভবিষ্যৎ প্রজন্মের নিরাপত্তা: কোনো চুক্তি যেন কেবল কাগজের পাতায় সীমাবদ্ধ না থাকে, বরং তা যেন আগামী প্রজন্মের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে।
নেতানিয়াহু জানিয়েছেন যে, লেবানন সরকার ইতিমধ্যে তাদের সাথে যোগাযোগ করেছে এবং আগামী সপ্তাহ থেকেই এই আলোচনার প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে।
কূটনৈতিক তৎপরতা ও মাঠপর্যায়ের বাস্তবতা
আশ্চর্যের বিষয় হলো, যখন পাকিস্তানের ইসলামাবাদে আমেরিকা ও ইরানের প্রতিনিধিদের মধ্যে উত্তেজনা প্রশমনে প্রথম দফার আলোচনা শেষ হয়েছে, ঠিক সেই সময়েই ইসরায়েল তাদের হামলা জোরদার করেছে। ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর দাবি অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় তারা লেবাননের অভ্যন্তরে হিজবুল্লাহর অন্তত ২০০টি আস্তানায় বিধ্বংসী হামলা চালিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, নেতানিয়াহুর এই কড়া অবস্থান ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ইসরায়েল তাদের জাতীয় নিরাপত্তার প্রশ্নে কোনো প্রকার আপস করতে রাজি নয়। একদিকে শান্তি আলোচনার সম্ভাবনা উঁকি দিচ্ছে, অন্যদিকে মাঠপর্যায়ে সামরিক অভিযান অব্যাহত রয়েছে, যা পশ্চিম এশিয়ার রাজনীতিকে এক জটিল মোড়ে দাঁড় করিয়ে দিয়েছে।
একঝলকে
- ইরানের পরমাণু ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা ইসরায়েলি হামলায় বিধ্বস্ত হওয়ার দাবি।
- নেতানিয়াহুর মতে, ইরানের মাটিতে সরাসরি আঘাত করে ভয়ের প্রাচীর ভেঙে দিয়েছে ইসরায়েল।
- লেবাননের সঙ্গে শান্তি আলোচনায় হিজবুল্লাহর নিরস্ত্রীকরণ বাধ্যতামূলক শর্ত।
- আগামী সপ্তাহ থেকে লেবাননের সাথে আনুষ্ঠানিকভাবে আলোচনা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা।
- ইসলামাবাদে শান্তি আলোচনার মধ্যেই লেবাননে ২০০টি লক্ষ্যবস্তুতে ইসরায়েলি বিমান হামলা।