স্বাস্থ্য বীমাকারীদের জন্য বিরাট স্বস্তি! হাসপাতালের বিলের ‘লুট’ রুখতে কড়া হচ্ছে IRDAI, আসছে নতুন নিয়ম

স্বাস্থ্য বীমাকারীদের জন্য বিরাট স্বস্তি! হাসপাতালের বিলের ‘লুট’ রুখতে কড়া হচ্ছে IRDAI, আসছে নতুন নিয়ম

বীমা বা ইনস্যুরেন্স থাকলেই কি হাসপাতালের বিল আকাশচুম্বী হয়ে যাচ্ছে? সাধারণ রোগীদের তুলনায় বীমা আছে এমন রোগীদের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা আদায় করার অভিযোগ দীর্ঘদিনের। এই অসাধু চক্র বন্ধ করতে এবং সাধারণ মানুষের আর্থিক স্বস্তি নিশ্চিত করতে এবার কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছে ইনস্যুরেন্স রেগুলেটরি অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট অথরিটি অফ ইন্ডিয়া (IRDAI)।

হাসপাতালের বাড়তি বিলে লাগাম টানার উদ্যোগ

সাধারণত দেখা যায়, কোনো রোগীর স্বাস্থ্য বীমা আছে জানলে হাসপাতালগুলো চিকিৎসার খরচ কয়েক গুণ বাড়িয়ে দেয়। এই বৈষম্য দূর করতে আইআরডিএআই একটি বিশেষ কমিটি গঠন করেছে। এই কমিটির প্রধান লক্ষ্য হলো চিকিৎসার খরচ যুক্তিযুক্ত করা। একই শহরের বিভিন্ন হাসপাতালে একই রোগের চিকিৎসার খরচে কেন এত বিশাল পার্থক্য থাকে, তা খতিয়ে দেখছে এই কমিটি। বেসরকারি হাসপাতালগুলোর বিলিং প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা আনাই এর মূল উদ্দেশ্য।

ডিজিটাল পদ্ধতিতে দ্রুত ক্লেম সেটলমেন্ট

হাসপাতাল থেকে ছুটি পাওয়ার পর বীমার টাকা অনুমোদনের জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করার দিন শেষ হতে চলেছে। ‘ন্যাশনাল হেলথ ক্লেম এক্সচেঞ্জ’ (NHCX) নামক ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে এখন থেকে ক্লেম প্রক্রিয়া হবে আরও দ্রুত।

  • প্রশাসনিক জটিলতা হ্রাস: ডিজিটাল ব্যবস্থার মাধ্যমে বীমা জালিয়াতি রোধ করা হবে এবং কাগজপত্রের ঝামেলা কমিয়ে দ্রুত টাকা পাওয়ার ব্যবস্থা করা হবে।
  • সহজ নিয়মাবলী: সাধারণ মানুষ যাতে সহজেই বীমার শর্ত বুঝতে পারেন, সেজন্য একটি ‘বেসিক প্রোডাক্ট’ বা মৌলিক বীমা মডেল তৈরির কাজ শুরু হয়েছে।

প্রিমিয়াম নিয়ন্ত্রণ ও পোর্টেবিলিটি

চিকিৎসা খরচ বৃদ্ধির কারণে প্রতি বছর স্বাস্থ্য বীমার প্রিমিয়াম বাড়ছে। এই চাপ কমাতে বীমা কো ম্পা নিগুলোর ক্লেম ট্রেন্ড বিশ্লেষণ করছে নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। এছাড়া ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য বীমাকে সরকারি স্বাস্থ্য প্রকল্পের সাথে যুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। এতে এক কো ম্পা নি থেকে অন্য কো ম্পা নিতে বীমা স্থানান্তর বা পোর্টেবিলিটি করা আরও সহজ হবে।

কেন এই পরিবর্তন জরুরি

অসুস্থতার সময়ে হাসপাতালের বিলিং বিভাগের গাফিলতি বা অনৈতিক সুবিধার কারণে যেন গ্রাহক হয়রানির শিকার না হন, তা নিশ্চিত করাই আইআরডিএআই-এর প্রধান লক্ষ্য। এই নতুন নিয়মগুলো কার্যকর হলে স্বাস্থ্য বীমা কেবল ধনীদের বিলাসিতা থাকবে না, বরং মধ্যবিত্ত ও সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে আসবে।

একঝলকে

  • বীমা থাকলেই হাসপাতালের বাড়তি বিল নেওয়ার প্রবণতা বন্ধ হবে।
  • চিকিৎসা খরচ এবং বিলিং পদ্ধতিতে স্বচ্ছতা আনতে বিশেষ কমিটি গঠন।
  • NHCX ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে দ্রুত ক্লেম সেটলমেন্টের ব্যবস্থা।
  • বীমার শর্তাবলী সহজ করা এবং প্রিমিয়াম নিয়ন্ত্রণে রাখার উদ্যোগ।
  • এক কো ম্পা নি থেকে অন্য কো ম্পা নিতে বীমা পরিবর্তন বা পোর্টেবিলিটি সহজতর করা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *