ব্যর্থ শান্তি বৈঠক: পারমাণবিক জেদ ছাড়েনি ইরান, এবার হরমুজ প্রণালী সম্পূর্ণ অবরুদ্ধ করার নির্দেশ ট্রাম্পের!

পাকিস্তান সরকারের মধ্যস্থতায় ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত আমেরিকা ও ইরানের মধ্যকার উচ্চপর্যায়ের শান্তি আলোচনা কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হয়েছে। দীর্ঘ ২০ ঘণ্টার ম্যারাথন বৈঠক ব্যর্থ হওয়ার পরপরই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প পারস্য উপসাগরের কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমজ প্রণালীতে কঠোর নৌ-অবরোধের ঘোষণা দিয়েছেন। এই সিদ্ধান্তের ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহ এবং আন্তর্জাতিক নৌ-চলাচলে চরম অস্থিরতার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ব্যর্থ বৈঠক ও জেডি ভেন্সের বক্তব্য
ইসলামাবাদের সেরেনা হোটেলে শনিবার রাতভর চলা এই আলোচনায় দুই দেশ দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছিল। তবে রবিবার ভোরে এক সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভেন্স জানান, কোনো সমঝোতা ছাড়াই তারা ফিরে যাচ্ছেন। পরমাণু ইস্যুতে ইরানের অনমনীয় অবস্থানই এই অচলাবস্থার মূল কারণ হিসেবে দেখছে ওয়াশিংটন।
হরমজ প্রণালীতে নৌ-অবরোধের নতুন নির্দেশনা
আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ এক দীর্ঘ পোস্টে ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, মার্কিন নৌবাহিনী এখন থেকে হরমজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াতকারী প্রতিটি জাহাজ তল্লাশি করবে। ট্রাম্পের নির্দেশনার প্রধান দিকগুলো হলো:
- প্রতিটি জাহাজের নাকেবন্দি: হরমজ প্রণালীতে প্রবেশ বা বাহির হওয়া প্রতিটি জাহাজ মার্কিন নৌবাহিনী আটকাবে।
- অবৈধ টোল আদায় বন্ধ: ইরানকে যারা নৌ-চলাচলের জন্য ‘টোল’ বা মাশুল দিয়েছে, আন্তর্জাতিক জলসীমায় সেই জাহাজগুলোকে আর নিরাপত্তা দেবে না আমেরিকা।
- তল্লাশি ও মাইন অপসারণ: মার্কিন নৌবাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে প্রতিটি জাহাজ তল্লাশি করতে এবং সমুদ্রপথে ইরানের বসানো মাইনগুলো ধ্বংস করতে।
- কঠোর হুঁশিয়ারি: ট্রাম্প স্পষ্ট করেছেন, যদি কোনো ইরানি বাহিনী মার্কিন সেনা বা শান্তিপূর্ণ কোনো জাহাজের ওপর গুলি চালায়, তবে তাদের কঠোর পরিণতির সম্মুখীন হতে হবে।
সংকটের কারণ ও ট্রাম্পের বিশ্লেষণ
ট্রাম্পের মতে, আলোচনার প্রায় সব বিষয়ে একমত হওয়া গেলেও পরমাণু ইস্যুতে ইরান তাদের উচ্চাকাঙ্ক্ষা ছাড়তে রাজি হয়নি। তিনি অভিযোগ করেন, ইরান হরমজ প্রণালী খুলে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিলেও তা রক্ষা করেনি, যা বিশ্বজুড়ে বিশৃঙ্খলা ও দুর্ভোগ সৃষ্টি করেছে। তবে এই কঠিন পরিস্থিতিতে আলোচনার পরিবেশ তৈরির চেষ্টার জন্য তিনি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ ও তার প্রতিনিধি দলকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
সম্ভাব্য প্রভাব
হরমজ প্রণালী বিশ্বের খনিজ তেল পরিবহনের অন্যতম প্রধান পথ। আমেরিকার এই কঠোর নাকেবন্দি এবং ইরানের সম্ভাব্য পাল্টা ব্যবস্থার ফলে বিশ্ব অর্থনীতিতে বড় ধরনের ধাক্কা আসতে পারে। আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্পের এই ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি মধ্যপ্রাচ্যে সরাসরি সামরিক সংঘাতের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিয়েছে।
একঝলকে
- স্থান: সেরেনা হোটেল, ইসলামাবাদ, পাকিস্তান।
- বৈঠকের ফলাফল: পরমাণু ইস্যুতে মতভেদের কারণে আলোচনা সম্পূর্ণ ব্যর্থ।
- প্রধান ঘোষণা: হরমজ প্রণালীতে মার্কিন নৌবাহিনীর পূর্ণ অবরোধ।
- মার্কিন নির্দেশ: ইরানকে টোল দেওয়া জাহাজের পথ আটকে তল্লাশি এবং সমুদ্র থেকে মাইন অপসারণ।
- মূল বাধা: ইরান পরমাণু কর্মসূচি ত্যাগে অস্বীকৃতি জানানোয় অচলাবস্থা।