বড় চমক! ভোটের আগে তৃণমূলে নেতাজির প্রপৌত্র, বিজেপির অস্বস্তি বাড়িয়ে মাস্টারস্ট্রোক মমতার

বড় চমক! ভোটের আগে তৃণমূলে নেতাজির প্রপৌত্র, বিজেপির অস্বস্তি বাড়িয়ে মাস্টারস্ট্রোক মমতার

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচন ২০২৬-এর দামামা বাজার আগেই রাজ্যের রাজনীতিতে এক অভাবনীয় পালাবদল ঘটে গেল। আজাদ হিন্দ ফৌজের সর্বাধিনায়ক নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বোসের প্রপৌত্র চন্দ্র কুমার বোস আনুষ্ঠানিকভাবে তৃণমূল কংগ্রেসে (TMC) যোগ দিয়েছেন। রবিবার, ১২ এপ্রিল কলকাতায় আয়োজিত এক জমকালো অনুষ্ঠানে তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলের সদস্যপদ গ্রহণ করেন। নির্বাচনের ঠিক আগে এই দলবদল বিজেপির জন্য বড় বিপর্যয় এবং তৃণমূলের জন্য এক রাজনৈতিক ‘মাস্টারস্ট্রোক’ হিসেবে দেখা হচ্ছে।

আদর্শিক সংঘাত ও বিজেপির সঙ্গ ত্যাগ

চন্দ্র কুমার বোস ২০১৬ সালে বেশ ধুমধাম করেই বিজেপিতে যোগ দিয়েছিলেন। সেই বছরের বিধানসভা নির্বাচনে তিনি ভবানীপুর কেন্দ্রে খোদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে নজর কেড়েছিলেন। তবে গত কয়েক বছর ধরে বিজেপির কেন্দ্রীয় ও রাজ্য নেতৃত্বের সঙ্গে তাঁর দূরত্ব ক্রমেই বাড়ছিল। ২০২৩ সালে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে বিজেপি থেকে পদত্যাগ করেন।

তৃণমূলে যোগ দেওয়ার পেছনে তিনি বিজেপির রাজনৈতিক দর্শনের সঙ্গে তাঁর আদর্শিক পার্থক্যের কথা স্পষ্ট করেছেন। তাঁর মতে, বিজেপি নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বোস এবং তাঁর ভাই শরৎ চন্দ্র বোসের অন্তর্ভুক্তিমূলক ও ধর্মনিরপেক্ষ আদর্শ অনুসরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে। তিনি একাধিকবার বঙ্গ বিজেপির রণকৌশল নিয়ে পরামর্শ দিলেও তা গুরুত্ব পায়নি। শেষ পর্যন্ত ‘বিভাজনমূলক রাজনীতির’ সঙ্গে আপস করতে না পেরেই তিনি ঘাসফুল শিবিরে নাম লেখালেন।

নেতাজির উত্তরসূরির রাজনৈতিক পথচলা

রাজনীতিতে চন্দ্র কুমার বোসের পদার্পণ ঘটেছিল নেতাজির আদর্শ ও ঐতিহ্যকে জনমানসে ছড়িয়ে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে। তাঁর পিতা অমিয় নাথ বোসও রাজনীতির ময়দানে সক্রিয় ছিলেন। বিজেপি ছাড়ার পর চন্দ্র কুমার বোস কিছুদিন ‘অল ইন্ডিয়া ফরওয়ার্ড ব্লক’ সহ বিভিন্ন মঞ্চের সঙ্গে যুক্ত থাকলেও ২০২৬-এর চূড়ান্ত লড়াইয়ের আগে তিনি তৃণমূলকেই বেছে নিলেন।

ভোটের সমীকরণে সম্ভাব্য প্রভাব

বাংলার রাজনীতিতে নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বোস কেবল একটি নাম নন, বরং সাধারণ মানুষের এক গভীর আবেগ। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, চন্দ্র কুমার বোসের তৃণমূল যোগদানের ফলে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সমীকরণ তৈরি হতে পারে:

  • বঙালিয়ানা ও অস্মিতার রাজনীতি: মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বরাবরই নিজেকে বাংলার সংস্কৃতি ও অস্মিতার রক্ষক হিসেবে দাবি করে আসছেন। নেতাজির পরিবারের একজন সদস্যের অন্তর্ভুক্তি এই দাবিকে আরও জোরালো করবে।
  • মধ্যবিত্ত ও জাতীয়তাবাদী ভোটার: নেতাজির উত্তরাধিকারের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার ফলে মধ্যবিত্ত বাঙালি এবং জাতীয়তাবাদী চিন্তাধারার ভোটারদের মধ্যে তৃণমূলের গ্রহণযোগ্যতা বাড়তে পারে।
  • বিজেপির বিরুদ্ধে হাতিয়ার: তৃণমূল এখন আরও জোরালোভাবে প্রচার করতে পারবে যে, বিজেপি নেতাজির পরিবারকেই সম্মান দিতে পারেনি, তাঁর আদর্শ রক্ষা করা তো দূরের কথা।

একঝলকে

  • যোগদানের তারিখ: ১২ এপ্রিল, ২০২৬।
  • গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্ব: চন্দ্র কুমার বোস (নেতাজির প্রপৌত্র)।
  • পূর্বতন দল: বিজেপি (২০১৬-এ যোগ, ২০২৩-এ পদত্যাগ)।
  • মূল কারণ: বিজেপির সঙ্গে আদর্শিক মতভেদ এবং নেতাজির ধর্মনিরপেক্ষ আদর্শ অনুসরণ না করা।
  • সম্ভাব্য প্রভাব: ২০২৬-এর নির্বাচনে বঙালিয়ানা ও অস্মিতার লড়াইয়ে তৃণমূলের সুবিধাজনক অবস্থান।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *