“বিজেপির নেশা মেশানো চা-মিষ্টি খাবেন না, ভোট লুট করতে আসছে!” বাঁকুড়ায় বিস্ফোরক মমতা

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজ্যের রাজনৈতিক ময়দান। বাঁকুড়া ও বর্ধমানের একাধিক জনসভায় দাঁড়িয়ে বিজেপি এবং কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে একাধিক গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর দাবি, তৃণমূল কংগ্রেসকে ক্ষমতা থেকে সরাতে হাজার কোটি টাকার বিশাল অঙ্কের ডিল করা হয়েছে এবং রাজ্যকে তিন ভাগে ভাগ করার গভীর ষড়যন্ত্র চলছে।
বঙ্গভঙ্গ ও সীমানা পুনর্নির্ধারণের আশঙ্কা
মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ করেন যে, বিজেপি সরকার সীমানা পুনর্নির্ধারণ বা ডিলিমিটেশনের মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গকে তিনটি ভাগে বিভক্ত করার পরিকল্পনা করছে। তাঁর দাবি অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গের কিছু অংশ বিহার বা ওড়িশার সাথে মিশিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে, যার ফলে ওইসব অঞ্চলে বসবাসকারী বাঙালিদের চরম ভোগান্তির শিকার হতে হবে। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, বিজেপি সোনার বাংলা গড়ার কথা বললেও আদতে বাঙালিদের ওপর অত্যাচার চালাচ্ছে এবং বাইরে থেকে অ-বাঙালি ভোটার নিয়ে আসার চেষ্টা করছে।
নির্বাচনী ষড়যন্ত্র ও ভোট লুটের অভিযোগ
নির্বাচন প্রক্রিয়াকে প্রভাবিত করতে বিজেপি অভিনব ও বিতর্কিত সব কৌশল গ্রহণ করছে বলে অভিযোগ করেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তাঁর উল্লেখযোগ্য কিছু অভিযোগ হলো:
- নশীলা পানীয় ও খাদ্য: বিজেপি ভোটারদের “নশীলা চা ও মিষ্টি” খাইয়ে ঘুম পাড়িয়ে রেখে ভোট লুটের পরিকল্পনা করেছে। এ ব্যাপারে তিনি সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেন।
- হাজার কোটি টাকার চুক্তি: তৃণমূলকে ক্ষমতাচ্যুত করতে বিজেপি একটি নির্দিষ্ট দলের সাথে ১,০০০ কোটি টাকার চুক্তি করেছে বলে দাবি করেছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি অভিযোগ করেন, সংখ্যালঘু ভোট ভাগ করার উদ্দেশ্যে এই ডিল করা হয়েছে।
- ইভিএম ও ধীরগতির ভোট: ভোটদান প্রক্রিয়া এবং গণনা ধীরগতিতে করার জন্য বিজেপি ষড়যন্ত্র করেছে। তৃণমূল প্রার্থীদের ভয় দেখানো এবং নির্বাচনে সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পেলে সমর্থন আদায়ের জন্য চাপ দেওয়া হচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেন।
কেন্দ্রীয় বাহিনী ও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
মুখ্যমন্ত্রী অভিযোগ তুলেছেন যে, কেন্দ্রীয় বাহিনী তল্লাশির নামে মহিলাদের সাথে অপমানজনক আচরণ করছে। এছাড়া নির্বাচন কমিশনের বিরুদ্ধে পক্ষপাতিত্বের অভিযোগ এনে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জনসভার অনুমতি দ্রুত দেওয়া হলেও, তাঁর র্যালির অনুমতি দিতে টালবাহানা করা হয়েছে।
বেকারত্ব ও কর্মসংস্থান নিয়ে মোদী সরকারকে বিঁধে মমতা প্রশ্ন তোলেন, বছরে দুই কোটি চাকরির যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, তার ভবিষ্যৎ কী হলো? তিনি সাফ জানান, ২০২৬ সালে কেন্দ্রের সরকার পড়ে যাবে এবং বর্তমান সরকার কর্তৃক প্রণীত সমস্ত জনবিরোধী আইন বাতিল করা হবে।
একঝলকে
- মূল অভিযোগ: পশ্চিমবঙ্গকে তিন ভাগে ভাগ করার চক্রান্ত ও ১,০০০ কোটি টাকার রাজনৈতিক ডিল।
- সতর্কবার্তা: ভোটারদের মাদক মেশানো চা-মিষ্টি খাওয়া থেকে বিরত থাকতে এবং ইভিএমের ওপর নজর রাখতে অনুরোধ।
- টার্গেট: বিজেপি তথা কেন্দ্রীয় সরকার এবং তাদের সীমানা পুনর্নির্ধারণ পরিকল্পনা।
- রাজনৈতিক দাবি: তৃণমূল প্রার্থীদের ভয় দেখিয়ে সমর্থনের জন্য চাপ দিচ্ছে বিজেপি।
- চাকরি নিয়ে প্রশ্ন: কেন্দ্রের দুই কোটি চাকরির প্রতিশ্রুতি পালন না হওয়া নিয়ে কড়া সমালোচনা।