২০৫০-এ দেশে বয়স্ক হবেন ৩৩ কোটি, রুপোলি প্রজন্মের সুরক্ষায় কতটা প্রস্তুত ভারত?

ভারতে প্রবীণ নাগরিকদের সংখ্যা অভাবনীয় হারে বাড়ছে। সাম্প্রতিক এক সমীক্ষায় উঠে এসেছে যে, ২০৫০ সাল নাগাদ দেশে প্রবীণদের সংখ্যা বর্তমানের তুলনায় কয়েক গুণ বৃদ্ধি পেয়ে ৩৩ কোটিতে পৌঁছাবে। ভারতের প্রখ্যাত বণিকসভা ‘ফিকি’-র একটি বিশেষ অধিবেশনে বিশেষজ্ঞরা এই উদ্বেগজনক তথ্য তুলে ধরেন। ভারতের ভবিষ্যৎ সামাজিক কাঠামো এবং বয়স্কদের সুরক্ষায় এখনই বিশেষ পরিকল্পনার ওপর জোর দিচ্ছেন তাঁরা।
প্রবীণদের কল্যাণে বিশেষ ব্যবস্থার দাবি
বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের এই ক্রমবর্ধমান প্রবীণ জনসংখ্যার জন্য একটি শক্তিশালী সুরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা অপরিহার্য। তাঁদের মতে, শুধুমাত্র পরিবারের ওপর নির্ভরশীল না থেকে সরকারের পক্ষ থেকে আর্থিক সুরক্ষা এবং উন্নত স্বাস্থ্য পরিষেবা নিশ্চিত করা জরুরি। বয়স্কদের দীর্ঘমেয়াদী সেবা এবং দৈনন্দিন সহায়তার জন্য সরকারি ও বেসরকারি উভয় খাতের সম্মিলিত প্রচেষ্টা এখন সময়ের দাবি।
বাড়তে থাকা চ্যালেঞ্জ ও নতুন পরিষেবার সুযোগ
আগামী কয়েক দশকে প্রবীণদের প্রয়োজনীয়তাকে কেন্দ্র করে সেবার পরিসর অনেক বিস্তৃত হবে। বিশেষজ্ঞরা বেশ কিছু মূল বিষয়ের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন:
- স্বাস্থ্যসেবা: বার্ধক্যজনিত শারীরিক জটিলতা মোকাবিলায় বিশেষায়িত হাসপাতাল ও হোম কেয়ার সার্ভিসের চাহিদা বাড়বে।
- আর্থিক নিরাপত্তা: পেনসন ও জীবনবিমার মতো খাতগুলোতে প্রবীণদের জন্য সহজলভ্য স্কিম প্রয়োজন।
- মানসিক ও সামাজিক যত্ন: একাকীত্ব দূর করতে এবং সামাজিক মেলামেশার জন্য আলাদা কমিউনিটি সেন্টার গড়ে তোলা জরুরি।
- নতুন উদ্যোগ: এই চাহিদা মেটাতে ইতিমধ্যেই কলকাতা ও এর পার্শ্ববর্তী শহরতলিতে বয়স্কদের পরিষেবা দেওয়ার লক্ষ্য নিয়ে বেশ কিছু নতুন সংস্থা কাজ শুরু করেছে।
সম্ভাব্য প্রভাব ও বিশ্লেষণ
বয়স্ক মানুষের সংখ্যা বৃদ্ধি মানেই দেশের অর্থনীতি ও স্বাস্থ্য অবকাঠামোর ওপর চাপ। বর্তমান তরুণ প্রজন্ম যখন বার্ধক্যে পৌঁছাবে, তখন তাদের দেখভালের জন্য পর্যাপ্ত লোকবলের অভাব দেখা দিতে পারে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, টেকনোলজি বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে প্রবীণদের দৈনন্দিন কাজ সহজ করা এবং তাঁদের জন্য ‘সিলভার ইকোনমি’ বা প্রবীণ-বান্ধব অর্থনীতি গড়ে তোলার এখনই উপযুক্ত সময়। যদি সময় থাকতে যথাযথ পরিকল্পনা না নেওয়া হয়, তবে ভবিষ্যতে বড় ধরনের সামাজিক সংকটের সৃষ্টি হতে পারে।
একঝলকে
- ২০৫০ সাল নাগাদ ভারতে প্রবীণ নাগরিকের সংখ্যা দাঁড়াবে ৩৩ কোটিতে।
- ফিকার সভায় বিশেষজ্ঞদের পক্ষ থেকে সরকারি সহযোগিতার ওপর গুরুত্বারোপ।
- কলকাতা ও শহরতলিতে বয়স্কদের জন্য বিশেষ সেবা প্রদানকারী সংস্থার সংখ্যা বাড়ছে।
- প্রবীণদের স্বাস্থ্য ও আর্থিক সুরক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার পরামর্শ।