পিতা নয়, যেন পিশাচ! ১১ বছর বয়স থেকে মেয়ের ওপর অত্যাচার, অবশেষে পুলিশের খাঁচায় পাষণ্ড বাবা

দিল্লির বুরারি এলাকায় সম্প্রতি একটি রোমহর্ষক ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে যা সামাজিক নৈতিকতা ও পারিবারিক সুরক্ষার ভিত নাড়িয়ে দিয়েছে। নিজের জন্মদাতার লালসার শিকার হয়ে দীর্ঘ ১০ বছর অমানবিক নির্যাতনের মধ্য দিয়ে যেতে হয়েছে এক তরুণীকে। তবে দমে না গিয়ে অসীম সাহসিকতার পরিচয় দিয়ে ডিজিটাল প্রযুক্তির সহায়তায় নিজের ওপর হওয়া অন্যায়ের প্রমাণ সংগ্রহ করে অভিযুক্ত বাবাকে শ্রীঘরে পাঠিয়েছেন ২১ বছর বয়সী ওই তরুণী।
২০১৫ সাল থেকে শুরু হওয়া এই নারকীয় অধ্যায়
নির্যাতিতা তরুণী পুলিশের কাছে যে জবানবন্দি দিয়েছেন তা রীতিমতো শিউরে ওঠার মতো। তার অভিযোগ অনুযায়ী:
- নির্যাতনের শুরু: ২০১৫ সালে যখন তার বয়স ছিল মাত্র ১১ বছর, তখন মা বাড়িতে না থাকার সুযোগ নিয়ে বাবা প্রথমবার তাকে যৌন হেনস্তা করে।
- দীর্ঘমেয়াদী আতঙ্ক: সেই শৈশব থেকেই শুরু হওয়া এই অত্যাচার টানা ১০ বছর ধরে চলতে থাকে। বড় হওয়ার সাথে সাথে এই নির্যাতন আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করে।
- নিরুপায় শৈশব: শৈশবে বিষয়টি ঠিকমতো বুঝতে না পারলেও পরবর্তী সময়ে তিনি বুঝতে পারেন যে তিনি এক ভয়ংকর অপরাধের শিকার হচ্ছেন।
মায়ের উদাসীনতা ও সামাজিক লোকলজ্জার ভয়
এই ঘটনার সবচেয়ে দুঃখজনক দিক হলো নির্যাতিতার মায়ের ভূমিকা। মেয়ে ১৬ বছর বয়সে পৌঁছে যখন তার সাথে ঘটা সমস্ত ঘটনা মাকে খুলে বলেন, তখন তিনি পাশে দাঁড়ানোর বদলে মেয়েকে চুপ থাকার হুমকি দেন। পরিবারের সম্মানের দোহাই দিয়ে তিনি নিজের স্বামীর এই জঘন্য অপরাধ আড়াল করার চেষ্টা করেন। এমনকি দিল্লির এইমস (AIIMS) হাসপাতালের চিকিৎসকের কাছে গিয়েও কোনো সুরাহা হয়নি। মা সেখানে কৌশলে ডাক্তারকে বোঝান যে তার মেয়ের মানসিক বিভ্রম বা কল্পনা করার সমস্যা রয়েছে।
যেভাবে ফাঁস হলো বাবার আসল চেহারা
সহায়তা না পেয়ে এক পর্যায়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন ওই তরুণী। তবে পরবর্তীতে তিনি পরিস্থিতির মুখোমুখি হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। অভিযুক্ত বাবাকে আইনের আওতায় আনতে তিনি এক নিখুঁত পরিকল্পনা করেন। প্রায় এক বছর ধরে নিজের ঘরে গোপন ক্যামেরা এবং মোবাইল ফোনের মাধ্যমে বাবার কুকর্মের ভিডিও রেকর্ড করেন। গত ১০ এপ্রিল তার এক বান্ধবীর সহায়তায় পুলিশের কাছে সেই সমস্ত ভিডিও প্রমাণ হিসেবে জমা দিলে পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করে।
আইনি পদক্ষেপ ও বর্তমান অবস্থা
তরুণীর জমা দেওয়া অকাট্য ভিডিও প্রমাণ দেখে হতবাক হয়ে যায় দিল্লি পুলিশ। অভিযুক্ত বাবাকে গ্রেপ্তার করে তার বিরুদ্ধে পকসো (POCSO) আইনের আওতায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। পাশাপাশি এই অপরাধ ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে নির্যাতিতার মায়ের বিরুদ্ধেও তদন্ত শুরু করেছে প্রশাসন।
ঘটনার বিশ্লেষণ ও সামাজিক প্রভাব
এই ঘটনাটি কেবল একটি অপরাধ নয়, বরং আমাদের পারিবারিক কাঠামোর এক গভীর ক্ষতকে সামনে নিয়ে আসে। যেখানে রক্ষক হিসেবে বাবার এবং আশ্রয় হিসেবে মায়ের ভূমিকা পালনের কথা, সেখানে এমন আচরণ অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তবে এই ঘটনায় ওই তরুণীর লড়াই প্রমাণ করে যে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে অপরাধীকে ধরা এখন আগের চেয়ে সহজ। তার এই পদক্ষেপ নির্যাতিতদের জন্য এক অনুকরণীয় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
একঝলকে
- ঘটনার স্থান: দিল্লির বুরারি এলাকা।
- নির্যাতনের সময়কাল: ২০১৫ থেকে ২০২৫ পর্যন্ত টানা ১০ বছর।
- নির্যাতনের ধরন: বাবার হাতে যৌন নির্যাতন ও মায়ের অসহযোগিতা।
- প্রমাণের মাধ্যম: গোপন ক্যামেরায় ধারণ করা ভিডিও ফুটেজ।
- পুলিশের ব্যবস্থা: অভিযুক্ত বাবা গ্রেপ্তার এবং পকসো আইনে মামলা।