ইরানের চারদিকে আমেরিকান খাঁচা! কোনো জাহাজ ঢুকবে না, বেরোবেও না— দিনক্ষণ ঘোষণা ট্রাম্পের

শান্তি আলোচনার টেবিলে কোনো সমঝোতা না হওয়ায় ইরান ও আমেরিকার মধ্যকার সম্পর্ক চরম উত্তেজনার দিকে মোড় নিল। সোমবার সকাল ১০টা থেকে ইরানের সমস্ত সমুদ্রবন্দরের প্রবেশ ও প্রস্থান পথ সম্পূর্ণ অবরোধ করার ঘোষণা দিয়েছে আমেরিকান সেন্ট্রাল কমান্ড। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই কড়া পদক্ষেপের ফলে মিত্র হোক বা শত্রু— কোনো দেশের জাহাজই আর ইরানি বন্দরে ভিড়তে বা সেখান থেকে বের হতে পারবে না।
রণকৌশলে বড় পরিবর্তন
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দীর্ঘদিন ধরে হরমুজ প্রণালী বন্ধের হুঁশিয়ারি দিলেও এবার আঘাত হানলেন ভিন্ন কৌশলে। আমেরিকান সেন্ট্রাল কমান্ডের বিবৃতি অনুযায়ী, আরব সাগর এবং ওমান উপসাগরের সমস্ত ইরানি বন্দরই এই অবরোধের আওতায় পড়বে। তবে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের কথা মাথায় রেখে হরমুজ প্রণালী দিয়ে ইরান বাদে অন্য সব দেশের জাহাজের যাতায়াত নিরাপদ রাখা হবে বলে জানানো হয়েছে।
ট্রাম্পের অভিযোগ ও আন্তর্জাতিক তোলাবাজি
ইরানের ইসলামিক রেভোলিউশনারি গার্ড কর্পসের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার দাবি, ইরান হরমুজ প্রণালীতে মাইন পেতে রেখেছে এবং সেই মাইনের অবস্থান জানানোর বিনিময়ে বিভিন্ন দেশের কাছ থেকে অর্থ আদায় করছে। ট্রাম্প এই ঘটনাকে ‘আন্তর্জাতিক তোলাবাজি’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন যে, আমেরিকা এই ধরনের চাপের কাছে নতি স্বীকার করবে না। যারা ইরানকে এই ‘টোল’ বা অর্থ প্রদান করেছে, সেইসব জাহাজ শনাক্ত ও আটক করার নির্দেশও দিয়েছেন তিনি।
নাবিকদের জন্য বিশেষ সতর্কতা
অবরোধ কার্যকর হওয়ার আগে বন্দরে অবস্থানরত বাণিজ্যিক জাহাজের নাবিকদের নিরাপদ প্রস্থানের জন্য প্রয়োজনীয় তথ্য সরবরাহ করবে সেন্ট্রাল কমান্ড। ওমান উপসাগর ও হরমুজ প্রণালী দিয়ে যাতায়াতকারী জাহাজগুলোকে সরকারি নির্দেশিকার ওপর নজর রাখতে বলা হয়েছে। জরুরি প্রয়োজনে চ্যানেল ১৬-এর মাধ্যমে আমেরিকান নৌবাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
বিশ্ব অর্থনীতি ও যুদ্ধের আশঙ্কা
ইরানের ওপর এই সর্বাত্মক অবরোধ বিশ্ব অর্থনীতি ও জ্বালানি সরবরাহের ওপর বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা। যদিও ইরান এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি, তবে দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি আগেই হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন যে লড়তে এলে তারাও লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত। এর ফলে যুদ্ধবিরতি ভেঙে নতুন করে সংঘর্ষ শুরু হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।
একঝলকে
- সোমবার সকাল ১০টা থেকে ইরানের সব বন্দরে আমেরিকার অবরোধ কার্যকর হচ্ছে।
- মিত্র বা শত্রু কোনো দেশের জাহাজই ইরানি বন্দরে প্রবেশ বা প্রস্থান করতে পারবে না।
- হরমুজ প্রণালীতে ইরান মাইন পেতে ‘তোলাবাজি’ করছে বলে ট্রাম্পের অভিযোগ।
- হরমুজ প্রণালী দিয়ে ইরান বাদে অন্য দেশের জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক থাকবে।
- এই পদক্ষেপের ফলে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে যুদ্ধের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।