৪ মে বিজেপির গণতান্ত্রিক বিসর্জন, খুঁটিপুজো সেরে হুঙ্কার অভিষেকের

৪ মে বিজেপির গণতান্ত্রিক বিসর্জন, খুঁটিপুজো সেরে হুঙ্কার অভিষেকের

বাংলার বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে চড়ছে রাজনীতির পারদ। রবিবার হুগলির সপ্তগ্রাম ও চুঁচুড়ার তৃণমূল প্রার্থীদের সমর্থনে আয়োজিত জনসভা থেকে বিজেপিকে কড়া ভাষায় আক্রমণ করেন তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। আগামী ৪ মে নির্বাচনের ফলাফল ঘোষণার দিনটিকে তিনি ‘অসুররূপী বিজেপি’র গণতান্ত্রিক বিসর্জনের দিন হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। নববর্ষের প্রাক্কালে অভিষেকের এই ঘোষণা রাজনৈতিক মহলে বেশ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।

বিসর্জনের হুঁশিয়ারি ও রাজনৈতিক রণকৌশল

তৃণমূলের সেনাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় মনে করেন, বাংলার মানুষ বিজেপিকে প্রত্যাখ্যান করার সিদ্ধান্ত নিয়ে নিয়েছেন। হুগলি থেকে কেশপুর পর্যন্ত বিভিন্ন সভায় মানুষের ভিড় দেখে তিনি প্রত্যয়ী যে, ৪ মে ব্যালট বক্সের মাধ্যমেই বিরোধী শিবিরের রাজনৈতিক পতন ঘটবে। তিনি বলেন, ‘বিসর্জনের খুঁটিপুজো শুরু করে দিলাম, ৪ মে হবে চূড়ান্ত বিসর্জন।’

কর্ম বনাম ধর্মের রাজনীতি

জনসভা থেকে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় উন্নয়নের খতিয়ান তুলে ধরে বিজেপির বিরুদ্ধে বঞ্চনার অভিযোগ আনেন। তাঁর ভাষণের মূল বিষয়গুলো ছিল:

  • বিজেপির গ্যারান্টি: তিনি দাবি করেন, বিজেপির দেওয়া প্রতিশ্রুতির কোনো স্থায়িত্ব বা ‘ওয়ারেন্টি’ নেই। তারা নির্বাচন কমিশনকে ব্যবহার করে মানুষের অধিকার কেড়ে নিচ্ছে।
  • তৃণমূলের প্রতিশ্রুতি: মমতার সরকারের গ্যারান্টি মানেই আজীবনের নিশ্চয়তা। আগামী দিনে প্রতিটি মানুষের মাথার ওপর পাকা ছাদ এবং ঘরে ঘরে পানীয় জল পৌঁছে দেওয়ার অঙ্গীকার করেন তিনি।
  • বাঙালির সম্মান: এবারের ভোটকে তিনি কেবল সরকার গড়ার লড়াই হিসেবে দেখছেন না, বরং বাংলা ও বাঙালির আসাম্মানের বিরুদ্ধে জবাব দেওয়ার লড়াই হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

ভোটারদের প্রতি বার্তা

অভিষেক স্পষ্ট জানান, তৃণমূল ধর্ম নিয়ে নয় বরং কর্মের ভিত্তিতে রাজনীতি করে। সাধারণ মানুষের কাছে তাঁর আবেদন, উন্নয়নের ধারা বজায় রাখতে যেন তৃণমূলকেই বেছে নেওয়া হয়। বিরোধীদের কটাক্ষ করে তিনি বলেন, এমনভাবে ভোট দিন যাতে ফলাফল ঘোষণার দিন বিজেপি ‘সরষে ফুল’ দেখে।

একঝলকে

  • মূল বক্তা: অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় (তৃণমূল সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক)।
  • মূল দাবি: ৪ মে বিধানসভা নির্বাচনের ফলে বিজেপির পরাজয় বা ‘বিসর্জন’ নিশ্চিত।
  • রাজনৈতিক অবস্থান: উন্নয়নের নিরিখে ভোটদান এবং ধর্মের রাজনীতির বিরোধিতা।
  • প্রতিশ্রুতি: পাকা বাড়ি ও পানীয় জলের সুব্যবস্থা করা।
  • লক্ষ্য: বাঙালির আত্মসম্মান রক্ষা ও বিজেপিকে বাংলা থেকে উৎখাত করা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *