“হিস্ট্রি শিটারদের এখনই চাই!”—পর্যবেক্ষকদের কড়া ফরমানে ঘুম ছুটল থানার বড়বাবুদের

আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে নজিরবিহীন সক্রিয়তা দেখাচ্ছে নির্বাচন কমিশন। বিশেষ করে কলকাতার বিভিন্ন থানায় পুলিশ পর্যবেক্ষকদের অতর্কিত সফর এবং কড়া নির্দেশিকায় রীতিমতো তটস্থ পুলিশ আধিকারিকরা। এলাকার চিহ্নিত অপরাধী বা ‘হিস্ট্রি শিটার’দের অবিলম্বে ধরে এনে সতর্ক করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
পর্যবেক্ষকদের কড়া মেজাজ ও থানার ব্যস্ততা
সূত্রের খবর, পুলিশ পর্যবেক্ষকরা সরাসরি বিভিন্ন থানায় গিয়ে হিস্ট্রি শিটারদের তালিকা পরীক্ষা করছেন। গত পাঁচ বছরে এলাকায় দাপট দেখিয়েছে এমন দুষ্কৃতীদের দ্রুত থানায় হাজির করার নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে পর্যবেক্ষকরা নিজেরা উপস্থিত থেকে অপরাধীদের হুঁশিয়ারি দিচ্ছেন। কোনো অফিসার যদি লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ব্যর্থ হন বা খালি হাতে ফেরেন, তবে তাঁকে তীক্ষ্ণ প্রশ্নের মুখে পড়তে হচ্ছে। ফলে অপরাধীদের খুঁজে বের করতে কার্যত কালঘাম ছুটছে পুলিশ কর্মীদের।
নির্বাচন কমিশনের কৌশল ও কড়া বার্তা
ভোটের দিন কোনোভাবেই যাতে ভোটাররা আতঙ্কিত না হন বা এলাকায় কোনো তাণ্ডব না চলে, তা নিশ্চিত করাই কমিশনের মূল লক্ষ্য। পর্যবেক্ষকদের তদন্তে উঠে এসেছে যে, অনেক থানা আগে থেকেই হিস্ট্রি শিটারদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি করলেও বাস্তবে তার প্রতিফলন ঘটেনি। তাই এখন সরাসরি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। ধৃত বা চিহ্নিত ব্যক্তিদের স্পষ্ট জানানো হচ্ছে যে:
- ভোটের দিন এলাকায় কোনো গোলমাল পাকালে দীর্ঘমেয়াদী ফল ভুগতে হবে।
- ভোটারদের বাধা দিলে বা ভয় দেখালে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
- আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে কোনো ধরনের সক্রিয়তা ধরা পড়লে তার পরিণতি হবে অত্যন্ত ভয়াবহ।
পুলিশি তৎপরতা ও বর্তমান চ্যালেঞ্জ
নির্দেশ পাওয়ার পর পুলিশের বিশেষ টিম অপরাধীদের ডেরায় হানা দিচ্ছে। অনেক সময় অভিযুক্তদের এলাকায় পাওয়া না গেলে তাদের বর্তমান অবস্থান, মোবাইল লোকেশন এবং পালানোর সম্ভাব্য জায়গা নিয়ে বিস্তারিত রিপোর্ট তলব করছেন ভিন রাজ্য থেকে আসা পুলিশ পর্যবেক্ষকরা। মূলত স্বচ্ছ ও ভয়মুক্ত নির্বাচন নিশ্চিত করতেই মাঠ পর্যায়ে এই বিশেষ অভিযান চালানো হচ্ছে।
একঝলকে
- মূল লক্ষ্য: দীর্ঘ অপরাধের রেকর্ড থাকা ব্যক্তিদের (হিস্ট্রি শিটার) নির্বাচনের আগে নিয়ন্ত্রণে আনা।
- পর্যবেক্ষকদের ভূমিকা: সরাসরি থানায় গিয়ে নথিপত্র যাচাই এবং অপরাধীদের মুখোমুখি জিজ্ঞাসাবাদ।
- কড়া নির্দেশ: ভোটারদের বাধা দিলে বা অশান্তি ছড়ালে কড়া আইনি পরিণতির হুঁশিয়ারি।
- পুলিশি ব্যবস্থা: নথিপত্রে গড়িমসি ধরা পড়ায় মাঠ পর্যায়ে সরাসরি অভিযানে নেমেছে পুলিশ।