ভোটের আবহেও লক্ষ্মীলাভ! ধান কেনায় নয়া নজির গড়ল রাজ্য সরকার

পশ্চিমবঙ্গে নির্বাচন চলাকালীনও কৃষকদের স্বার্থে ধান কেনার প্রক্রিয়া স্বাভাবিক রয়েছে। চলতি খরিফ মরশুমে রাজ্য সরকারের উদ্যোগে ইতিমধ্যেই ৪৮ লক্ষ টনের বেশি ধান সরাসরি চাষিদের কাছ থেকে কেনা হয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় ন্যূনতম সহায়ক মূল্য বা এমএসপি নিশ্চিত হওয়ায় সরাসরি লাভবান হয়েছেন ২৭ লক্ষেরও বেশি কৃষক। তবে ধান কেনা সন্তোষজনক হলেও উৎপাদিত চাল সরকারি গুদামে জমা পড়ার গতি নিয়ে কিছুটা উদ্বেগ প্রকাশ করেছে খাদ্যদপ্তর।
চাল সংগ্রহে পিছিয়ে থাকা জেলাগুলোর ওপর কড়া নজর
খাদ্যদপ্তরের সাম্প্রতিক পর্যালোচনা বৈঠকে দেখা গেছে, সংগৃহীত ধান থেকে প্রত্যাশিত ৩২ লক্ষ টন চালের বিপরীতে মাত্র ১৫.২০ লক্ষ টন চাল সরকারি ভাণ্ডারে এসেছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় বেশ কিছু জেলাকে বিশেষ নজরদারির আওতায় আনা হয়েছে।
- সংগ্রহে পিছিয়ে থাকা জেলা: চাল সংগ্রহে সবচেয়ে পিছিয়ে আছে উত্তর দিনাজপুর (৩৫%), মুর্শিদাবাদ (৩৬%) এবং মালদহ (৪২%)।
- অন্যান্য জেলা: পূর্ব মেদিনীপুর, কোচবিহার ও বীরভূমেও চাল আদায়ের হার ৪৫ শতাংশের নিচে।
- গুদাম ব্যবস্থাপনা: সংগৃহীত চাল রাখার জন্য গুদামে যাতে স্থানের অভাব না ঘটে, সে বিষয়ে জেলা প্রশাসনকে সতর্ক করা হয়েছে।
সেন্ট্রাল পুল ও স্টেট পুলের চাল নিয়ে কড়া নির্দেশিকা
সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, কেনা ধান রাইস মিলে গিয়ে চালে রূপান্তরিত হয় এবং তা সেন্ট্রাল ও স্টেট পুলে জমা পড়ে। এই চাল মূলত রেশন এবং বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের গ্রাহকদের জন্য বরাদ্দ থাকে। খাদ্যদপ্তর নির্দেশ দিয়েছে যে, সেন্ট্রাল পুলের চালের পুরো অংশ আগামী ৩০ জুনের মধ্যে জমা করতে হবে। হুগলি, মুর্শিদাবাদ এবং পূর্ব বর্ধমানের মতো জেলাগুলোতে সেন্ট্রাল পুলের চালের বকেয়া বেশি থাকায় সেখানে বিশেষ তৎপরতা শুরু হয়েছে।
রাইস মিল মালিকদের সমস্যা ও পুষ্টিকর চালের চ্যালেঞ্জ
রাইস মিল থেকে চাল সরবরাহে ধীরগতির কারণ হিসেবে ফর্টিফায়েড রাইস কারনেল (এফআরকে) সরবরাহের ঘাটতিকে দায়ী করেছেন ওয়েস্ট বেঙ্গল রাইস মিল ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি আব্দুল মালেক। সাধারণ চালের সঙ্গে পুষ্টিকর এফআরকে মিশিয়ে সরবরাহ করা এখন বাধ্যতামূলক। কেন্দ্রীয় সরকারের নীতিগত পরিবর্তনের কারণে এই বিশেষ উপাদানটি পেতে সমস্যা হচ্ছে বলে মিল মালিকদের দাবি। নির্দিষ্ট সময়ে চাল জমা দিতে না পারলে মিল মালিকদের ব্যাংক গ্যারান্টি বাজেয়াপ্ত করার মতো শাস্তিমূলক ব্যবস্থার সংস্থান থাকলেও, মালিকপক্ষ দ্রুত সরবরাহের আশ্বাস দিয়েছেন।
বোরো মরশুম ও আগামী লক্ষ্যমাত্রা
রাজ্য সরকার চলতি মরশুমে মোট ৬৭ লক্ষ টন ধান কেনার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে। মে মাসের পর বোরো ধান উঠতে শুরু করলে ধান কেনা এবং চাল উৎপাদনের পরিমাণ আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। এর ফলে সরকারি খাদ্য সুরক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী হবে।
একঝলকে
- ধান সংগ্রহ: ৪৮ লক্ষ টনের বেশি (চলতি খরিফ মরশুম)।
- উপকৃত কৃষক: ২৭ লক্ষেরও বেশি।
- চাল আদায়ের লক্ষ্য: ৩২ লক্ষ টন (প্রাপ্তি ১৫.২০ লক্ষ টন)।
- সময়সীমা: সেন্ট্রাল পুলের চাল জমার শেষ তারিখ ৩০ জুন।
- সমস্যা: ফর্টিফায়েড রাইস কারনেল (এফআরকে) সরবরাহে ঘাটতি।
- চূড়ান্ত লক্ষ্যমাত্রা: ৬৭ লক্ষ টন ধান সংগ্রহের পরিকল্পনা।