স্কুলে নেই শিক্ষক, তবুও ১৫৮ কোটির বাদ্যযন্ত্র! বিহারে ‘সংগীত কেলেঙ্কারি’র পর্দা ফাঁস করলেন তেজস্বী

স্কুলে নেই শিক্ষক, তবুও ১৫৮ কোটির বাদ্যযন্ত্র! বিহারে ‘সংগীত কেলেঙ্কারি’র পর্দা ফাঁস করলেন তেজস্বী

বিহারে শিক্ষা খাতের বরাদ্দ নিয়ে এনডিএ সরকারের বিরুদ্ধে মারাত্মক দুর্নীতির অভিযোগ আনলেন বিরোধী দলনেতা তেজস্বী যাদব। তাঁর দাবি, রাজ্যের সরকারি স্কুলগুলিতে গান-বাজনা শেখানোর কোনো শিক্ষক না থাকলেও কেবল বাদ্যযন্ত্র কেনার নামেই ব্যয় করা হয়েছে ১৫৮ কোটি ৪৪ লক্ষ টাকা। রবিবারের এই অভিযোগ ঘিরে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে বিহারের রাজনীতি।

শিক্ষক নেই কিন্তু কোটি টাকার সরঞ্জাম

তেজস্বী যাদবের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বিহারে ৭৬ হাজারেরও বেশি প্রাথমিক ও উচ্চ প্রাথমিক স্কুল রয়েছে যেখানে কোনো সঙ্গীত শিক্ষক নিযুক্ত নেই। অথচ সরকারি নথিতে সেতার, সরোদ, সানাই, হারমোনিয়াম এবং তবলার মতো দামি বাদ্যযন্ত্র কেনার জন্য বিপুল অঙ্কের অর্থ খরচ দেখানো হয়েছে। আরজেডি নেতার অভিযোগ, যেখানে ছাত্রছাত্রীদের শেখানোর মতো কেউ নেই, সেখানে এই কেনাকাটা কেবল দুর্নীতির উদ্দেশ্যেই করা হয়েছে।

অব্যবস্থাপনা ও নথিপত্রের অভাব

এই ঘটনার গভীরে গিয়ে তেজস্বী আরও কিছু গুরুতর প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর অভিযোগগুলি হলো:

  • স্কুল কর্তৃপক্ষ বা শিক্ষকদের পক্ষ থেকে বাদ্যযন্ত্র কেনার কোনো চাহিদাপত্র দেওয়া হয়নি।
  • সরঞ্জাম কেনা সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় নথিপত্রের ব্যাপক অভাব রয়েছে।
  • এসব যন্ত্র ব্যবহারের জন্য শিক্ষকদের কোনো প্রশিক্ষণের ব্যবস্থাও করা হয়নি।
  • কেনা সরঞ্জামগুলি আদতে ক্লাসরুমে পৌঁছানোর বদলে দুর্নীতির খাতায় নাম তুলেছে।

রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া ও জবাবদিহির দাবি

বিহারে বর্তমান ‘সুশাসন’ বা এনডিএ সরকারকে লক্ষ্য করে তেজস্বী বলেন যে, প্রশাসনের উচ্চপদস্থ আধিকারিক থেকে শুরু করে মন্ত্রীরা পর্যন্ত এই দুর্নীতির কমিশনের ভাগ পেয়েছেন। একে তিনি ‘দুর্নীতির সংগ্রহশালা’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। মুখ্যমন্ত্রী নীতীশ কুমার ও তাঁর সহযোগীদের অবিলম্বে জনগণের কাছে এই খরচের হিসাব এবং জবাবদিহি করার দাবি জানিয়েছেন তিনি। সেই সঙ্গে রাজ্যে শিক্ষকদের শূন্যপদ পূরণ না করে এই ধরণের অপচয়কে বেকারদের সঙ্গে উপহাস বলে বর্ণনা করেছেন তিনি।

একঝলকে

  • দুর্নীতির পরিমাণ: ১৫৮ কোটি ৪৪ লক্ষ টাকা।
  • প্রধান অভিযোগ: শিক্ষকহীন স্কুলে বাদ্যযন্ত্র ক্রয়।
  • স্কুলের সংখ্যা: ৭৬ হাজারেরও বেশি প্রাথমিক ও উচ্চ প্রাথমিক বিদ্যালয়।
  • অভিযুক্ত: বিহারের এনডিএ (বিজেপি-জেডিইউ) জোট সরকার।
  • দাবি: মুখ্যমন্ত্রীকে জনসমক্ষে এই দুর্নীতির জবাব দিতে হবে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *