রণক্ষেত্র মাথাভাঙ্গা: তৃণমূল কাউন্সিলরের রক্তে ভিজল রাস্তা, পাল্টা আক্রান্ত বিজেপি প্রার্থী!

রণক্ষেত্র মাথাভাঙ্গা: তৃণমূল কাউন্সিলরের রক্তে ভিজল রাস্তা, পাল্টা আক্রান্ত বিজেপি প্রার্থী!

২০২৬ সালের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে কোচবিহারের রাজনৈতিক পরিস্থিতি ক্রমশ উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। রবিবার রাতে মাথাভাঙ্গা শহরের ঝংকার মোড় এলাকায় তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপি কর্মীদের মধ্যে এক রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এই ঘটনায় একদিকে যেমন শাসকদলের কাউন্সিলর গুরুতর আহত হয়েছেন, অন্যদিকে বিরোধী বিজেপি প্রার্থীর গাড়ি ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। ভোটের ঠিক আগে এই ধরনের ঘটনা স্থানীয় মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক সৃষ্টি করেছে।

বিজেপির প্রচার ঘিরে অশান্তির সূত্রপাত

রবিবার রাতে বিজেপির প্রার্থী নিশীথ প্রামাণিকের নির্বাচনী প্রচারকে কেন্দ্র করে উত্তেজনার পারদ চড়তে শুরু করে। অভিযোগ উঠেছে যে, বিজেপি প্রার্থীর মিছিল যখন মাথাভাঙ্গা শহরের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ঝংকার মোড় এলাকা দিয়ে যাচ্ছিল, তখনই তৃণমূলের একটি অস্থায়ী কার্যালয়ে হামলা চালানো হয়। এই হামলায় ৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর চন্দ্রশেখর রায় বসুনিয়া মারাত্মকভাবে জখম হন। প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, তাঁর মুখ ফেটে রক্ত ঝরতে দেখা গেছে। এই ঘটনায় বাপ্পা হোসেন নামে আরও এক তৃণমূল কর্মী আহত হয়েছেন। তৃণমূলের পক্ষ থেকে আরও অভিযোগ করা হয়েছে যে, তাদের এক মহিলা কর্মীর প্রতি চরম অশালীন আচরণ করা হয়েছে।

পাল্টা আক্রান্ত বিজেপি প্রার্থী সাবিত্রী বর্মন

মাথাভাঙ্গা শহরের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই শীতলকুচি রোডে ফের অশান্তি ছড়িয়ে পড়ে। রাত সাড়ে আটটা নাগাদ বিজেপির শীতলকুচি কেন্দ্রের প্রার্থী সাবিত্রী বর্মন হামলার মুখে পড়েন। অভিযোগ অনুযায়ী, প্রচার সেরে ফেরার পথে তৃণমূলের একটি ধরনা মঞ্চ থেকে তাঁর গাড়িতে আচমকা হামলা চালানো হয়। লাঠি ও পাথরের আঘাতে প্রার্থীর গাড়ির কাচ চুরমার হয়ে যায়। পরিস্থিতির ভয়াবহতা বুঝে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে সাবিত্রী বর্মনকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যায়।

রাজনৈতিক চাপানউতোর ও পারস্পরিক দোষারোপ

ঘটনার পর থেকেই দুই শিবিরের মধ্যে তীব্র বাগযুদ্ধ শুরু হয়েছে। তৃণমূল প্রার্থী সাবলু বর্মন এই ঘটনাকে পূর্বপরিকল্পিত বলে দাবি করেছেন। তিনি প্রশ্ন তোলেন, যারা মহিলা কর্মীদের ওপর হাত তোলে এবং খুনের রাজনীতি করে, মাথাভাঙ্গার মানুষ কি তাদের সমর্থন করবে? দোষীদের গ্রেফতারের দাবিতে তৃণমূল কর্মীরা দীর্ঘক্ষণ মাথাভাঙ্গা থানার সামনে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।

অন্যদিকে, নিশীথ প্রামাণিক সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে পাল্টা দাবি করেছেন যে, তৃণমূল কর্মীরাই প্রথম উস্কানিমূলক গালিগালাজ এবং পাথর বৃষ্টি শুরু করেছিল। তাঁর মতে, আক্রান্ত হওয়ার পর বিজেপি কর্মীরা কেবল আত্মরক্ষা করেছে। এছাড়া যে কার্যালয়ে হামলার কথা বলা হচ্ছে, সেটিকে তিনি ‘অবৈধ’ বলে অভিহিত করেছেন।

প্রশাসনের ভূমিকা ও বর্তমান পরিস্থিতি

সংঘর্ষের খবর পাওয়া মাত্রই মাথাভাঙ্গা জুড়ে পুলিশের বিশাল বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। জেলা প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্তারা পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছেন। রাতভর শহরজুড়ে পুলিশের টহলদারি চললেও সাধারণ মানুষের মধ্যে চাপা উত্তেজনা বিরাজ করছে। নির্বাচন কমিশন ও স্থানীয় প্রশাসন যাতে শান্তিপূর্ণ ভোটের পরিবেশ বজায় রাখতে পারে, সেটাই এখন কোচবিহারের বাসিন্দাদের মূল দাবি।

একঝলকে

  • স্থান: কোচবিহারের মাথাভাঙ্গা শহর (ঝংকার মোড়) এবং শীতলকুচি রোড।
  • আক্রান্ত: তৃণমূল কাউন্সিলর চন্দ্রশেখর রায় বসুনিয়া এবং বিজেপি প্রার্থী সাবিত্রী বর্মন।
  • ঘটনার কারণ: নিশীথ প্রামাণিকের প্রচার মিছিলের সময় তৃণমূলের কার্যালয়ে হামলা এবং পাল্টা বিজেপি প্রার্থীর গাড়ি ভাঙচুর।
  • বর্তমান অবস্থা: এলাকায় ব্যাপক পুলিশি টহল চলছে, পরিস্থিতি থমথমে।
  • দাবি: উভয় পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত হামলার অভিযোগ এনেছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *