ভোটের ৭২ ঘণ্টা আগেই ‘অ্যাকশন’! ৯০ জন দাগির তালিকা গেল কমিশনে, কাঁপছে লালবাজার?

ভোটের ৭২ ঘণ্টা আগেই ‘অ্যাকশন’! ৯০ জন দাগির তালিকা গেল কমিশনে, কাঁপছে লালবাজার?

পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনকে অবাধ ও শান্তিপূর্ণ করতে নজিরবিহীন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে নির্বাচন কমিশন। ভোট শুরুর ঠিক ৭২ ঘণ্টা আগে এলাকার চিহ্নিত ও সক্রিয় অপরাধীদের গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মূলত ভোটারদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে এবং নির্বাচনী হিংসা রুখতে এই আগাম সতর্কতামূলক গ্রেপ্তার বা ‘প্রিভেনটিভ অ্যারেস্ট’-এর কৌশল নিয়েছে কমিশন।

সময়সীমা ও কমিশনের কড়াকড়ি

নির্বাচন কমিশনের নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, ভোট গ্রহণের তিন দিন আগেই সংশ্লিষ্ট এলাকার অপরাধীদের জালে পুরতে হবে। এই নির্দেশ পালনে সুনির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে:

  • ২৩ এপ্রিল যে সব কেন্দ্রে ভোট রয়েছে, সেখানে ১৯ এপ্রিল রাতের মধ্যে অভিযান শেষ করতে হবে।
  • ২৯ এপ্রিলের ভোটের ক্ষেত্রে ২৫ এপ্রিল রাতের মধ্যে দাগিদের গরাদে ভরতে হবে।

কলকাতা পুলিশের প্রস্তুতি ও ৯০ জনের তালিকা

নির্বাচন কমিশনের নির্দেশে প্রতিটি থানাকে তাদের এলাকার শীর্ষ ১০ জন সক্রিয় অপরাধীর তালিকা তৈরির দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। কলকাতা পুলিশের অধীনে থাকা ৯১টি থানা থেকে ইতিমধ্যেই প্রায় ৯০ জন দুষ্কৃতীর নাম লালবাজারে জমা পড়েছে। প্রতিটি থানার ‘অ্যান্টি রাউডি’ অফিসাররা এই তালিকা তৈরির কাজ করছেন। কলকাতার পুলিশ কমিশনার অজয় নন্দ জানিয়েছেন, দাগি অপরাধীদের তালিকা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া শুরু হয়েছে।

বিশেষ নজরদারিতে যেসব এলাকা

শহরের শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখতে নির্দিষ্ট কিছু এলাকার ওপর বাড়তি গুরুত্ব দিচ্ছে প্রশাসন। বিশেষ করে বেলেঘাটা, তপসিয়া, তিলজলা, কড়েয়া, ফুলবাগান এবং বন্দর এলাকার ওপর কড়া নজরদারি চালানো হচ্ছে। এছাড়া ভাঙড়, বেহালা, পর্ণশ্রী, ঠাকুরপুকুর, গিরিশপার্ক, জোড়াবাগান এবং কলেজ স্ট্রিট এলাকাতেও পুলিশের বিশেষ অভিযান চলছে।

আইনি প্রক্রিয়া ও সতর্কতা

শুধুমাত্র গ্রেপ্তার নয়, ‘হ্যাবিচুয়াল অফেন্ডার’ বা অভ্যাসগত অপরাধীদের চিহ্নিত করে প্রথমে সমন পাঠিয়ে সতর্ক করার নির্দেশ দিয়েছে কমিশন। যদি কোনো অপরাধী সেই সতর্কবার্তা উপেক্ষা করে এলাকায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করে, তবে সংশ্লিষ্ট জেলা পুলিশ সুপার বা পুলিশ কমিশনারদের সরাসরি গ্রেপ্তারের ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। তবে সোনা পাপ্পুর মতো কিছু পলাতক অপরাধীর ক্ষেত্রে পুলিশের ভূমিকা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন থাকলেও, প্রশাসন দাবি করেছে যে কোনো ধরনের অশুভ শক্তিকে দমন করতে তারা বদ্ধপরিকর।

একঝলকে

  • ভোট শুরুর ৭২ ঘণ্টা আগে দুষ্কৃতীদের গ্রেপ্তারের চূড়ান্ত সময়সীমা।
  • লালবাজারে ৯০ জন দাগি অপরাধীর নামের তালিকা জমা।
  • প্রতিটি থানার শীর্ষ ১০ জন অপরাধীকে শনাক্ত করার নির্দেশ।
  • বেলেঘাটা, বন্দর ও ভাঙড়সহ একাধিক স্পর্শকাতর এলাকায় বিশেষ অভিযান।
  • অবাধ্য অপরাধীদের সমন পাঠানোর পর কঠোর আইনি ব্যবস্থা।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *