‘এটাই সঠিক সময়’, মহিলা সংরক্ষণ বিল পাশে বিরোধীদের সাহায্য চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

‘এটাই সঠিক সময়’, মহিলা সংরক্ষণ বিল পাশে বিরোধীদের সাহায্য চাইলেন প্রধানমন্ত্রী

ভারতের আইনসভায় নারীদের ৩৩ শতাংশ অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর। আগামী ১৬ থেকে ১৮ এপ্রিল সংসদের বিশেষ অধিবেশন ডাকা হয়েছে মূলত ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’ বা মহিলা সংরক্ষণ (সংশোধনী) বিলটি পাসের লক্ষ্যেই। এই ঐতিহাসিক মুহূর্ত সফল করতে লোকসভা ও রাজ্যসভার সব দলের নেতাদের চিঠি লিখে সহযোগিতার আবেদন জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তবে এই পদক্ষেপকে ঘিরে শাসক ও বিরোধী শিবিরের মধ্যে শুরু হয়েছে তীব্র বাকযুদ্ধ।

প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান ও সরকারি তৎপরতা

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাঁর চিঠিতে উল্লেখ করেছেন যে, ২০২৯ সালের লোকসভা ও বিধানসভা নির্বাচনে মহিলা সংরক্ষণ ব্যবস্থা থাকা অপরিহার্য। তিনি মনে করেন, উন্নত ভারত গড়তে মহাকাশ থেকে শুরু করে সশস্ত্র বাহিনী—সব ক্ষেত্রে সফল নারীদের পূর্ণ অংশগ্রহণ প্রয়োজন। এই বিলটি পাসের বিষয়ে বিজেপি এতটাই গুরুত্ব দিচ্ছে যে, দলের সব সাংসদ ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রীদের জন্য ১৬ থেকে ১৮ এপ্রিল পর্যন্ত তিন লাইনের কড়া ‘হুইপ’ জারি করা হয়েছে। এই সময়ে কোনো ছুটি মঞ্জুর করা হবে না এবং সংসদে উপস্থিত থাকা বাধ্যতামূলক।

বিরোধীদের সংশয় ও রাজনৈতিক বিশ্লেষণ

কেন্দ্রের এই অতি-সক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে। তাঁর মূল আপত্তির জায়গাগুলো হলো:

  • বিলম্বের কারণ: ২০২৩ সালে বিরোধীদের সহায়তায় বিলটি পাস হওয়ার পর দীর্ঘ ৩০ মাস কেন সরকার কোনো পদক্ষেপ নেয়নি?
  • ভোটের রাজনীতি: পাঁচ রাজ্যের বিধানসভা নির্বাচনের আবহে তড়িঘড়ি কেন বিশেষ অধিবেশন ডাকা হলো?
  • আলোচনার অভাব: আসন পুনর্বিন্যাসের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে বিরোধীদের সঙ্গে আলোচনা ছাড়াই কেন সরকার এগোচ্ছে?

খাড়গের দাবি, সব রাজ্যের ভোট শেষ হওয়ার পর ২৯ এপ্রিলের পরে সর্বদলীয় বৈঠক ডাকা হোক। অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্যসভার নেতা ডেরেক ও’ব্রায়েন একে ‘নাটক ও ভাঁওতাবাজি’ বলে কটাক্ষ করেছেন।

সরকারের পাল্টা যুক্তি

বিরোধীদের অভিযোগের জবাবে সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী কিরেন রিজিজু দাবি করেছেন, সরকার আলোচনার পথ সবসময় খোলা রেখেছিল। তিনি জানান, গত ১৬ মার্চ খাড়গে ও জয়রাম রমেশের সঙ্গে কথা বলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল এবং ২৬ মার্চ খাড়গের সঙ্গে আলাপচারিতায় বিলটির সংশোধনী নিয়ে সহযোগিতার আর্জিও জানানো হয়েছিল।

বিশ্লেষকদের মতে, ২০২৯ সালের নির্বাচনে মহিলাদের ৩৩ শতাংশ প্রতিনিধিত্ব কার্যকর করতে গেলে এখনই আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা জরুরি। তবে নির্বাচনের ঠিক আগে এই পদক্ষেপকে বিরোধীরা সরকারের ‘রাজনৈতিক ফায়দা’ তোলার চেষ্টা হিসেবেই দেখছে।

একঝলকে

  • অধিবেশন: ১৬–১৮ এপ্রিল সংসদের বিশেষ অধিবেশন।
  • প্রধান লক্ষ্য: নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম (মহিলা সংরক্ষণ) বিল পাস।
  • বিজেপির অবস্থান: সব সাংসদের ওপর হুইপ জারি, কোনো ছুটি নয়।
  • প্রধানমন্ত্রীর বার্তা: উন্নত ভারত গড়তে ২০২৯ সাল থেকেই সংরক্ষণ জরুরি।
  • বিরোধীদের প্রশ্ন: ৩০ মাস পর কেন হঠাৎ এই অতি-সক্রিয়তা এবং ভোটের মুখে কেন এই সিদ্ধান্ত?
  • তৃণমূলের প্রতিক্রিয়া: এই পদক্ষেপকে রাজনৈতিক ‘নাটক’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *