‘আমেরিকার সামনে মাথা নোয়াব না’, ৫ বছর যুদ্ধ চালাতেও প্রস্তুত ইরান!

আমেরিকা ও ইরানের উত্তেজনা আর হোর্মুজ প্রণালীর সংকট নিয়ে বর্তমান বিশ্ব রাজনীতি এখন টালমাটাল। সম্প্রতি ভারতে নিযুক্ত ইরানের সর্বোচ্চ নেতার প্রতিনিধি ড. আব্দুল মাজিদ হাকিম এলাহী এক গুরুত্বপূর্ণ বক্তব্যে ইরানের অবস্থান ও ভবিষ্যতের রূপরেখা স্পষ্ট করেছেন। তার এই বক্তব্য থেকে পরিষ্কার বোঝা যায় যে, ইরান কোনো চাপের মুখে মাথানত করতে রাজি নয়।
হোর্মুজ প্রণালী ও সার্বভৌমত্বের লড়াই
ড. এলাহী স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, হোর্মুজ প্রণালী (Strait of Hormuz) কোনো একক রাষ্ট্রের সম্পত্তি নয়। এটি একটি আন্তর্জাতিক জলপথ এবং এর ওপর অধিকার সমস্ত দেশের। বর্তমানে এই এলাকায় যে অস্থিরতা চলছে, তার জন্য তিনি সরাসরি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে দায়ী করেছেন। ইরান চায় এই পথ সবার জন্য উন্মুক্ত থাকুক, কিন্তু বর্তমান উত্তপ্ত পরিস্থিতির কারণে নিরাপত্তার খাতিরে জাহাজ চলাচলে কড়াকড়ি আরোপ করতে তারা বাধ্য হচ্ছে।
আলোচনার প্রস্তাব ও শর্ত
ইরান কখনোই আলোচনার টেবিল থেকে সরে যায়নি বলে দাবি করেন ড. এলাহী। তার মতে, আলোচনার দরজা সব সময় খোলা, তবে তা হতে হবে নির্দিষ্ট কিছু শর্তের ভিত্তিতে:
- যৌক্তিকতা ও মানবিক মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধা থাকতে হবে।
- ইরানের অধিকার ও জাতীয় মর্যাদা সমুন্নত রাখতে হবে।
- যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের অযৌক্তিক দাবি ত্যাগ করতে হবে।
তিনি অভিযোগ করেন যে, আমেরিকা আলোচনার বিষয়ে কখনোই আন্তরিক ছিল না। তারা মূলত সময়ক্ষেপণ করার কৌশল গ্রহণ করেছিল।
যুদ্ধের চেয়ে আত্মরক্ষা বড়
ইরান বিশ্বকে একটি শক্ত বার্তা দিয়েছে যে তারা শান্তিকামী দেশ এবং কোনো যুদ্ধ শুরু করেনি। তবে তাদের ওপর যুদ্ধ চাপিয়ে দেওয়া হলে তারা পিছপা হবে না। ড. এলাহী বলেন, “আমরা দুই, তিন এমনকি পাঁচ বছর ধরেও নিজেদের রক্ষা করতে পারব, কিন্তু কারোর কাছে আমাদের অধিকার সঁপে দেব না।” পারস্য উপসাগরে মার্কিন যুদ্ধজাহাজের উপস্থিতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি তাদের ওই এলাকা ত্যাগ করার আহ্বান জানান।
ভারতের ভূমিকা ও সংহতি
ইরানের এই কঠিন সময়ে ভারত সরকারের অবস্থানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন ড. এলাহী। আয়াতুল্লাহ খামেনির শাহাদাত বার্ষিকীর অনুষ্ঠানে ভারত সরকারের প্রতিনিধি এবং রাজনৈতিক নেতাদের অংশগ্রহণকে তিনি বন্ধুত্বের অনন্য নিদর্শন হিসেবে দেখছেন। ভারতের এই সংহতি দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের গভীরতাকেই প্রকাশ করে।
একঝলকে
- হোর্মুজ প্রণালী বন্ধ করা ইরানের লক্ষ্য নয়, তবে নিরাপত্তার প্রয়োজনে কড়াকড়ি চলছে।
- আমেরিকার অযৌক্তিক দাবির কারণেই আলোচনার পথ রুদ্ধ হয়েছে।
- ইরান ৫ বছর যুদ্ধ চালিয়ে যেতে সক্ষম হলেও শান্তি বজায় রাখতে আগ্রহী।
- পারস্য উপসাগর থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে ইরান।
- ভারতের সমর্থন ও সংহতির জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে তেহরান।