ভোটের মুখে লালবাজারে বড় রদবদল: কার হাতে কোন দায়িত্ব? জেনে নিন বিস্তারিত

আসন্ন নির্বাচনের রণকৌশল সাজাতে কলকাতা পুলিশের প্রশাসনিক কাঠামোয় বড়সড় রদবদল করল নির্বাচন কমিশন। মূলত যুগ্ম কমিশনার ও অতিরিক্ত কমিশনার স্তরে দায়িত্ব পুনর্বিন্যাস করে লালবাজারের ভিত আরও মজবুত করতে চাইছে কমিশন। এই রদবদলের মাধ্যমে শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষা এবং নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে নিশ্ছিদ্র করাই মূল লক্ষ্য বলে মনে করা হচ্ছে।
প্রশাসনিক এই রদবদলের মাধ্যমে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ শাখাগুলোতে দক্ষ আধিকারিকদের নিয়োগ করা হয়েছে। বিশেষ করে আইন-শৃঙ্খলা, গোয়েন্দা বিভাগ এবং নির্বাচন সেলের মতো বিভাগগুলোতে কাজের পরিধি সুনির্দিষ্ট করে দেওয়া হয়েছে।
গুরুত্বপূর্ণ পদে নিয়োগ ও দায়িত্ব বণ্টন
নির্বাচন কমিশনের নির্দেশিকা অনুযায়ী, যুগ্ম কমিশনার স্তরে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ রদবদল হয়েছে:
- সুদীপ সরকার: যুগ্ম কমিশনার (সদর) হিসেবে তিনি আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা, কন্ট্রোল রুম এবং নির্বাচন সেলের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিভাগগুলো সামলাবেন।
- সোমা দাস মিত্র: যুগ্ম কমিশনার (অপরাধ) হিসেবে তাঁর কাঁধে ডিটেকটিভ ডিপার্টমেন্ট (ডিডি), সাইবার ক্রাইম এবং আদালত সংক্রান্ত বিষয়গুলোর দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
- দেবস্মিতা দাস: ইন্টেলিজেন্স বা গোয়েন্দা শাখার প্রধান হিসেবে তিনি বিশেষ শাখা ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়গুলো তদারকি করবেন।
- রূপেশ কুমার: তাঁর অধীনে থাকছে ট্রাফিক ও পরিবহণ সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ দফতরগুলো।
অতিরিক্ত কমিশনার স্তরে প্রশাসনিক রদবদল
প্রশাসনের উচ্চস্তরে কাজের গতি বাড়াতে অতিরিক্ত কমিশনারদের দায়িত্বেও পরিবর্তন আনা হয়েছে:
- দেবেন্দ্র প্রকাশ সিংহ: আইন-শৃঙ্খলা, নির্বাচন সেল এবং সশস্ত্র পুলিশের মতো সংবেদনশীল বিভাগগুলোর তদারকি করবেন তিনি।
- সন্তোষ পাণ্ডে: ট্রাফিক ম্যানেজমেন্টের পাশাপাশি সিসিটিভি সেল, ডায়াল ১০০ এবং কমিউনিটি পুলিশিংয়ের দায়িত্ব সামলাবেন।
- ধ্রুবজ্যোতি দে: বিশেষ শাখা, গোয়েন্দা বিভাগ এবং নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়গুলো তাঁর নজরদারিতে থাকবে।
- অশেষ বিশ্বাস: নিয়োগ প্রক্রিয়া, আধুনিকীকরণ এবং আর্থিক ও প্রশাসনিক দফতরগুলোর দায়িত্বে তাঁকে আনা হয়েছে।
নির্বাচনের আগে এই পরিবর্তনের গুরুত্ব ও প্রভাব
নির্বাচনের প্রাক্কালে এই ধরণের রদবদল প্রশাসনিক তৎপরতা বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়। গোয়েন্দা শাখা এবং নির্বাচন সেলকে নতুন করে সাজানোর উদ্দেশ্য হলো যে কোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়ানো এবং নির্বাচনী নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। লালবাজারের অভ্যন্তরীণ সূত্রে জানা যাচ্ছে, এই পুনর্বিন্যাসের ফলে কাজের স্বচ্ছতা বাড়বে এবং ভোটের সময় নজরদারি আরও কঠোর হবে। বিশেষ করে সাইবার অপরাধ এবং ট্রাফিক নিয়ন্ত্রণে আলাদা গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে যাতে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও যাতায়াত নির্বিঘ্ন থাকে।
একঝলকে
- কলকাতা পুলিশের যুগ্ম ও অতিরিক্ত কমিশনার স্তরে বড় রদবদল।
- আইন-শৃঙ্খলা ও নির্বাচন সেলের বিশেষ দায়িত্বে সুদীপ সরকার ও দেবেন্দ্র প্রকাশ সিংহ।
- গোয়েন্দা ও নিরাপত্তা বিভাগের দায়িত্বে দেবস্মিতা দাস ও ধ্রুবজ্যোতি দে।
- অপরাধ দমন ও সাইবার শাখার ভার সোমা দাস মিত্রের হাতে।
- ট্রাফিক ও আধুনিকীকরণে জোর দিতে রূপেশ কুমার ও অশেষ বিশ্বাসের ওপর আস্থা।