অরুণাচল ভারতেরই থাকবে, চিনের ‘কাল্পনিক’ নামকরণ উড়িয়ে কড়া জবাব দিল্লির
অরুণাচল প্রদেশ ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ। এই ধ্রুব সত্যকে আড়াল করতে প্রতিবেশী দেশ চিন বারবার যে ‘কাল্পনিক’ নামকরণের চেষ্টা চালাচ্ছে, তার বিরুদ্ধে এবার চরম হুঁশিয়ারি দিল নয়াদিল্লি। ভারতের বিদেশ মন্ত্রক স্পষ্ট জানিয়েছে, ভিত্তিহীন আখ্যান তৈরি করে কোনো অঞ্চলের ভৌগোলিক বাস্তব বা সার্বভৌমত্ব বদলে দেওয়া সম্ভব নয়।
ভারতের কড়া অবস্থান ও বিশ্লেষণ
রবিবার (১২ এপ্রিল) ভারতের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এক বিবৃতিতে চিনের এই পদক্ষেপকে পুরোপুরি প্রত্যাখ্যান করেছেন। ভারতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে:
- অরুণাচল প্রদেশ ভারতের ছিল, আছে এবং চিরকাল ভারতেরই থাকবে।
- চিনের এই ধরণের ‘কাল্পনিক নামকরণ’ কেবল দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের অবনতি ঘটায়।
- সীমান্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার যে প্রক্রিয়া চলছে, বেজিংয়ের এই উস্কানিমূলক আচরণ তাকে চরমভাবে ব্যাহত করছে।
বিতর্কের প্রেক্ষাপট ও চিনের কৌশল
গত ১০ এপ্রিল চিনের নাগরিক বিষয়ক মন্ত্রক অরুণাচল প্রদেশের ২৩টি স্থানের একটি তথাকথিত ‘প্রমিত’ বা স্ট্যান্ডার্ড নামের তালিকা প্রকাশ করে। এটি ছিল তাদের ষষ্ঠ তালিকা। ২০১৭ সাল থেকে চিন ধারাবাহিকভাবে অরুণাচলকে ‘জাংনান’ বলে দাবি করে এই নামকরণের কৌশল চালিয়ে যাচ্ছে। এবারের তালিকায় প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখা (LAC) সংলগ্ন বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পাহাড়ি গিরিপথ, শৃঙ্গ এবং জনবসতিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
সীমান্তে চিনের ক্রমবর্ধমান তৎপরতা
চিনের এই আগ্রাসী মনোভাব কেবল অরুণাচলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। সাম্প্রতিক কিছু ঘটনা ভারতের উদ্বেগ বাড়িয়ে দিয়েছে:
- নতুন জেলা গঠন: পাকিস্তান অধিকৃত কাশ্মীর ও আফগানিস্তান সীমান্তের কাছে জিনজিয়াং প্রদেশে ‘চেনলিং’ নামে একটি নতুন জেলা তৈরি করেছে চিন।
- প্রশাসনিক রদবদল: ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে আকসাই চিনের বিতর্কিত অংশগুলোকে নিজেদের প্রশাসনিক এলাকার অন্তর্ভুক্ত করার ঘোষণা করেছিল বেজিং।
- বারবার উস্কানি: ২০২৫ সালের মার্চ মাসেও তারা ৩০টি স্থানের নাম পরিবর্তনের দাবি তুলেছিল।
কূটনৈতিক প্রভাব
২০২৪ সালে প্রকৃত নিয়ন্ত্রণরেখায় দীর্ঘ সামরিক অচলাবস্থা কাটানোর জন্য যখন দুই দেশ কিছু ইতিবাচক পদক্ষেপ নিয়েছিল, ঠিক তখনই চিনের এই নতুন উস্কানি কূটনৈতিক মহলে বড় প্রশ্নচিহ্ন খাড়া করেছে। ভারত সরকার স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে, জাতীয় স্বার্থ এবং ভূখণ্ড রক্ষা করতে তারা বদ্ধপরিকর। চিনের এই একতরফা পদক্ষেপ মূলত দুই দেশের পারস্পরিক আস্থাকেই তলানিতে নিয়ে যাচ্ছে।
একঝলকে
- অরুণাচলের ২৩টি স্থানের নাম পরিবর্তনের দাবি চিনের।
- ভারতের বিদেশ মন্ত্রক এই দাবিকে ‘ভিত্তিহীন ও কাল্পনিক’ বলে খারিজ করেছে।
- চিন ২০১৭ সাল থেকে নিয়মিত বিরতিতে এই ধরণের তালিকা প্রকাশ করছে।
- আকসাই চিন ও জিনজিয়াং প্রদেশেও চিনের প্রশাসনিক জবরদখলের চেষ্টা অব্যাহত।
- ভারতের স্পষ্ট বার্তা— কোনো কৃত্রিম নাম দিয়ে ঐতিহাসিক সত্য বদলানো যাবে না।