বিজয়-এর ডিজিটাল বিপ্লব: এআই প্রযুক্তিতে ঘুচবে দুর্নীতি, ঘরে বসেই মিলবে সরকারি পরিষেবা!

তামিলনাড়ু বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে রাজনীতিতে নতুন তরঙ্গ সৃষ্টি করেছেন তামিল ভেট্রি কাড়াগাম (TVK) প্রধান তথা জনপ্রিয় অভিনেতা বিজয়। কন্যাকুমারীর মহাদানপুরমে আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় বিজয় তাঁর নির্বাচনি ইশতেহার প্রকাশ করে বর্তমান ডিএমকে সরকারের বিরুদ্ধে তীব্র আক্রমণ চালিয়েছেন। তাঁর ভাষণে উঠে এসেছে আধুনিক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির সমন্বয়ে এক নতুন তামিলনাড়ু গড়ার অঙ্গীকার।
ডিজিটাল কার্ড ও এআই ভিত্তিক পরিষেবা
বিজয় ঘোষণা করেছেন যে তাঁর দল ক্ষমতায় এলে প্রতিটি পরিবারকে ‘তামিলনাড়ু সিটিজেন প্রিভিলেজ কার্ড’ প্রদান করা হবে। এই কার্ডের মাধ্যমে সরকারি সুযোগ-সুবিধা পেতে সাধারণ মানুষকে আর সরকারি দফতরে দৌড়ঝাঁপ করতে হবে না। আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা এআই (AI) ব্যবহারের মাধ্যমে যোগ্য ব্যক্তিদের কাছে সরাসরি সরকারি সুবিধা পৌঁছে দেওয়া হবে। একে একটি বৈজ্ঞানিক ও বাস্তবায়নযোগ্য পরিকল্পনা হিসেবে দাবি করেছেন তিনি।
সুপার অ্যাপ ও সেবার অধিকার আইন
নির্বাচনি প্রতিশ্রুতিতে বিজয় উল্লেখ করেছেন:
- সুপার অ্যাপ: ‘সাকসেস তামিলনাড়ু’ নামক একটি অ্যাপের মাধ্যমে ড্রাইভিং লাইসেন্স, রেশন কার্ড এবং জন্ম শংসাপত্রের মতো যাবতীয় নাগরিক পরিষেবা মোবাইল থেকেই পাওয়া যাবে।
- সেবার অধিকার আইন: ক্ষমতায় আসার ছয় মাসের মধ্যে এই আইন কার্যকর করা হবে যাতে সরকারি কাজে বিলম্ব হলে সংশ্লিষ্ট আধিকারিকদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
- এআই মন্ত্রণালয়: ভারতকে প্রযুক্তির শিখরে নিয়ে যেতে দেশে প্রথমবারের মতো একটি পৃথক ‘এআই মন্ত্রণালয়’ গঠনের পরিকল্পনা করেছেন তিনি।
স্বচ্ছ প্রশাসন ও জনগণের অংশগ্রহণ
বিজয় মনে করেন সাধারণ মানুষ কেবল ভোটার নয়, তারা প্রশাসনের অংশীদার। স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে তিনি ‘মাই ভিক্টরি তামিলনাড়ু’ ওয়েবসাইটের মাধ্যমে জনগণের পরামর্শ নেওয়া এবং বাজেটের খরচ পর্যবেক্ষণের সুযোগ দেওয়ার কথা বলেছেন। এছাড়া ‘মাক্কাল আরঙ্গম’ বা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সরাসরি বিধানসভায় মানুষের আবেদন পৌঁছানোর ব্যবস্থা করা হবে। যদি কোনো আবেদনে ৫ লক্ষ মানুষের স্বাক্ষর থাকে, তবে বিধানসভায় সে বিষয়ে আলোচনা বাধ্যতামূলক করা হবে।
অর্থনৈতিক সংকট ও ঋণ নিয়ে উদ্বেগ
রাজ্যের বর্তমান অর্থনৈতিক অবস্থা নিয়ে স্ট্যালিন সরকারকে তীব্র কটাক্ষ করেছেন বিজয়। তিনি জানান, বর্তমানে তামিলনাড়ুর ঋণের পরিমাণ ১০.৫ লক্ষ কোটি টাকায় পৌঁছেছে। গত ৭০ বছরে যা হয়নি, গত পাঁচ বছরে সেই পরিমাণ ঋণ নেওয়া হয়েছে। তিনি একে “শিশুদের ভবিষ্যৎ চুরি করা” বলে অভিহিত করেছেন এবং অতিরিক্ত কর আরোপ না করেই রাজস্ব বৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।
একঝলকে
- সিটিজেন প্রিভিলেজ কার্ড: আধারের আদলে কার্ডের মাধ্যমে সরাসরি পরিষেবা।
- এআই মন্ত্রণালয়: প্রশাসনিক কাজে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার প্রয়োগ ও বিশেষ মন্ত্রণালয় গঠন।
- ডিজিটাল অ্যাসেম্বলি: ৫ লক্ষ স্বাক্ষর সম্বলিত গণদাবিতে বিধানসভায় আলোচনা।
- দুর্নীতিমুক্ত শাসন: এআই ব্যবহারের মাধ্যমে ঘুষ ও মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য বন্ধ।
- অর্থনৈতিক সংস্কার: ঋণের বোঝা কমিয়ে নতুন আয়ের উৎস তৈরি।