গ্যাসের ‘ভুতুড়ে’ কারবার! সিলিন্ডার না এলেও ফোনে ঢুকছে মেসেজ, ৫০০০ টাকায় বিকোচ্ছে ব্ল্যাক মার্কেটে!

বর্তমানে রান্নার গ্যাসের বাজারে এক নতুন ধরনের জালিয়াতি বা ‘ঘোস্ট ডেলিভারি’ আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। গ্রাহকের হাতে সিলিন্ডার পৌঁছানোর আগেই ফোনে আসছে “সফলভাবে ডেলিভারি করা হয়েছে” এমন মেসেজ। মূলত মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার কারণে এলপিজি আমদানিতে ঘাটতি দেখা দেওয়ায় এই সংকটকে পুঁজি করে এক শ্রেণির অসাধু গ্যাস ডিস্ট্রিবিউটর ও কালোবাজারি সক্রিয় হয়ে উঠেছে। সাধারণ গৃহিণীরা এই চক্রের খপ্পরে পড়ে দিশেহারা হয়ে পড়ছেন।
গোপন কারসাজির কৌশল ও ভোগান্তি
এই চক্রটি মূলত গ্রাহকদের অজান্তেই তাদের নামে সিলিন্ডার বুকিং দেখিয়ে দিচ্ছে। দক্ষিণ দিল্লির একজন ৭২ বছর বয়সী বৃদ্ধার অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে, তিনি কোনো সিলিন্ডার বুক না করা সত্ত্বেও তার ফোনে ডেলিভারি সফল হওয়ার মেসেজ আসে। সরকারি নিয়ম অনুযায়ী, একবার সিলিন্ডার নেওয়ার অন্তত ২৫ দিন পর পুনরায় বুকিং করা সম্ভব। ফলে জালিয়াতির মাধ্যমে একবার ডেলিভারি দেখিয়ে দেওয়ায় গ্রাহক যখন বাস্তবে গ্যাসের সংকটে পড়ছেন, তখন সিস্টেম থেকে তাকে নতুন বুকিং করতে বাধা দেওয়া হচ্ছে।
কালোবাজারির রমরমা বাণিজ্য
আমদানি সংকটের সুযোগ নিয়ে ডিস্ট্রিবিউটররা সাধারণ মানুষের বরাদ্দের গ্যাস সরিয়ে দিচ্ছে ব্ল্যাক মার্কেটে। এই চক্রের ভয়াবহতা নিচের তথ্যগুলো থেকে স্পষ্ট হয়:
- সরকারি নির্ধারিত দর যেখানে প্রায় ৯১৪ টাকা, সেখানে ব্ল্যাক মার্কেটে প্রতিটি সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে ৪,০০০ থেকে ৫,০০০ টাকায়।
- সড়কপথের ধারের হোটেল, ছোট রেস্টুরেন্ট এবং বৈধ কাগজপত্রহীন অভিবাসী শ্রমিকরাই মূলত এই চড়া দামের গ্যাসের প্রধান ক্রেতা।
- একজন গ্রাহককে সিলিন্ডার পৌঁছে দিলে যে সামান্য কমিশন পাওয়া যায়, তার চেয়ে কালোবাজারে বিক্রি করলে প্রায় ৪,০০০ টাকা বেশি মুনাফা হচ্ছে।
প্রযুক্তি ফাঁকি দেওয়ার অপচেষ্টা
সিলিন্ডার ডেলিভারির সময় ওটিপি (OTP) দেওয়ার নিয়ম থাকলেও অসাধু কর্মীরা ‘সার্ভার সমস্যা’ বা ‘টেকনিক্যাল ত্রুটির’ দোহাই দিয়ে তা এড়িয়ে যাচ্ছে। একটি লরিতে থাকা ৩৬০টি সিলিন্ডার দ্রুত ডেলিভারি না দেখালে পরবর্তী লোড পাওয়া যায় না, এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে কম গ্যাস ব্যবহারকারী বা সহজ-সরল গ্রাহকদের টার্গেট করে সিলিন্ডারগুলো সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
প্রশাসনের কড়া পদক্ষেপ
দেশজুড়ে গ্রাহকদের অভিযোগের ভিত্তিতে কেন্দ্রীয় সরকার বিশেষ অভিযান শুরু করেছে। ১০ এপ্রিল পর্যন্ত দেশব্যাপী বিভিন্ন অভিযানে প্রায় ৫০,০০০ অবৈধ সিলিন্ডার জব্দ করা হয়েছে এবং অভিযুক্ত এজেন্সিগুলোকে শোকজ নোটিশ পাঠানো হয়েছে। সাধারণ মানুষের দাবি, এই গ্যাস মাফিয়ার বিরুদ্ধে সরকার যেন আরও কঠোর অবস্থান গ্রহণ করে।
একঝলকে
- ঘটনা: সিলিন্ডার না দিয়েই ‘ঘোস্ট ডেলিভারি’র মাধ্যমে গ্রাহক হয়রানি।
- মূল কারণ: আমদানিতে ঘাটতির সুযোগ নিয়ে সিলিন্ডার পাচার।
- কালোবাজারি মূল্য: ৯১৪ টাকার সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে ৫,০০০ টাকা পর্যন্ত।
- ক্ষতিগ্রস্ত: নিয়মিত গ্রাহকরা সময়মতো নতুন বুকিং করতে পারছেন না।
- সরকারি পদক্ষেপ: দেশজুড়ে ৫০ হাজার অবৈধ সিলিন্ডার জব্দ।