“হারার ভয়েই SIR নিয়ে অযথা শোরগোল করছে তৃণমূল, ১৫ বছরে কোনো কাজই হয়নি”: তোপ মিঠুন চক্রবর্তীর

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে রাজ্যের রাজনৈতিক পরিস্থিতি। সম্প্রতি ভোটার তালিকার বিশেষ ব্যাপক সংশোধন বা ‘এসআইআর’ (SIR) প্রক্রিয়া নিয়ে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেসের আপত্তির কড়া সমালোচনা করেছেন ভারতীয় জনতা পার্টির নেতা ও অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তী। পশ্চিম মেদিনীপুরে এক নির্বাচনী রোড শো চলাকালীন তিনি দাবি করেন, তৃণমূল আসলে পরাজয়ের ভয়ে এই সাংবিধানিক প্রক্রিয়াকে ইস্যু বানানোর চেষ্টা করছে।
এসআইআর এবং মিঠুন চক্রবর্তীর অবস্থান
মিঠুন চক্রবর্তীর মতে, ভোটার তালিকার এই বিশেষ সংশোধন প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ সাংবিধানিক নিয়ম মেনে নির্বাচন কমিশন পরিচালনা করেছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, তামিলনাড়ুর মতো অন্যান্য রাজ্যে এই প্রক্রিয়া অত্যন্ত সুচারুভাবে সম্পন্ন হলেও শুধুমাত্র পশ্চিমবঙ্গেই এটি নিয়ে বিতর্ক তৈরি করা হচ্ছে। তার দাবি, এসআইআর কারও অধিকার কেড়ে নেয় না, বরং এটি একটি স্বচ্ছ নির্বাচনী প্রক্রিয়ার অংশ।
তৃণমূলের আপত্তির কারণ ও রাজনৈতিক বিশ্লেষণ
তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এসআইআর নিয়ে যে অভিযোগ তোলা হয়েছে, তাকে সরাসরি ‘ভীতি’ হিসেবে দেখছেন এই বিজেপি নেতা। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ভোটার তালিকায় স্বচ্ছতা নিয়ে নির্বাচন কমিশনের কড়াকড়ি শাসক দলের জন্য উদ্বেগের কারণ হতে পারে। মিঠুন চক্রবর্তী স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বাধীন সরকার গত ১৫ বছরে উল্লেখ্যযোগ্য কোনো কাজ করতে পারেনি। তাই এখন জনগণের রায় বিপক্ষে যাওয়ার ভয়ে তারা সাধারণ একটি প্রশাসনিক প্রক্রিয়াকে রাজনৈতিক হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে।
নির্বাচনের সময়সূচী ও প্রেক্ষাপট
রাজ্যের এই রাজনৈতিক টানাপড়েনের মধ্যেই ঘনিয়ে আসছে নির্বাচনের তারিখ। আগামী ২৩ এপ্রিল এবং ২৯ এপ্রিল দুই দফায় পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে চলেছে। ভোট গণনার দিন ধার্য করা হয়েছে ৪ মে। এই নির্বাচনকে সামনে রেখে মিঠুন চক্রবর্তীর মতো তারকা প্রচারকদের আক্রমণাত্মক ভঙ্গি ভোটারদের মনে কতটা প্রভাব ফেলে, এখন সেটাই দেখার বিষয়।
একঝলকে
- ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধন বা এসআইআর নিয়ে বিতর্কে সরব মিঠুন চক্রবর্তী।
- তৃণমূলের আপত্তির নেপথ্যে ‘পরাজয়ের ভয়’ কাজ করছে বলে দাবি।
- এসআইআর প্রক্রিয়াকে সম্পূর্ণ সাংবিধানিক ও আইনি বলে মন্তব্য।
- সরকারের গত ১৫ বছরের উন্নয়ন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এই বিজেপি নেতা।
- পশ্চিমবঙ্গে ২৩ ও ২৯ এপ্রিল দুই দফায় ভোটগ্রহণ এবং ৪ মে ফলাফল প্রকাশ।