খেলো ইন্ডিয়াতেই বাজিমাত! দেশীয় খেলার মান বাড়ালেন মোদী, লখনউয়ে দাবি রাজনাথের

লখনউয়ের কেডি সিং বাবু স্টেডিয়ামে আয়োজিত ‘সাংসদ খেল মহাকুম্ভ’-এ দেশের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী রাজনাথ সিং ভারতের ক্রীড়া ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্তের কথা তুলে ধরেন। তাঁর মতে, গত ১১ বছরে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর নেতৃত্বে ভারতে খেলাধুলার একটি নতুন যুগ শুরু হয়েছে। এই পরিবর্তন কেবল পদক জয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং এটি সমাজ ও ঐতিহ্যের ক্ষমতায়নের এক নতুন পথ প্রশস্ত করেছে।
ঐতিহ্যবাহী খেলার পুনর্জাগরণ ও সরকারি সহায়তা
খেলো ইন্ডিয়া প্রকল্পের মাধ্যমে ভারতের বিলুপ্তপ্রায় এবং ঐতিহ্যবাহী খেলাগুলো যেমন— গটকা, মল্লখম্ব, থাং-টা, কলরিপায়াট্টু এবং যোগাসনকে নতুন করে মূলধারায় ফিরিয়ে আনা হয়েছে। এই খেলাগুলোকে উৎসাহিত করতে সরকার বিশেষ স্কলারশিপের ব্যবস্থা করছে, যা তৃণমূল স্তরের খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে তুলছে।
পরিকাঠামো উন্নয়ন ও আধুনিক প্রশিক্ষণ
ভারতের প্রত্যন্ত গ্রামেও এখন পৌঁছে যাচ্ছে আধুনিক খেলার সরঞ্জাম এবং পরিকাঠামো। প্রতিরক্ষা মন্ত্রী জানান, ক্রীড়া পরিকাঠামো উন্নয়নে সরকার প্রায় পাঁচ হাজার কোটি টাকা ব্যয় করেছে। দেশজুড়ে তৈরি করা হচ্ছে:
- ১০০০টি খেলো ইন্ডিয়া সেন্টার।
- প্রায় দুই ডজন ন্যাশনাল সেন্টার অফ এক্সিলেন্স।
- উত্তরপ্রদেশের মিরাটে মেজর ধ্যানচাঁদ ক্রীড়া বিশ্ববিদ্যালয়।
নারী শক্তি ও শিক্ষানীতিতে খেলাধুলা
বর্তমান জাতীয় শিক্ষানীতিতে খেলাধুলাকে কেবল একটি অতিরিক্ত কার্যক্রম হিসেবে না রেখে একটি নির্দিষ্ট বিষয় হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া খেলো ইন্ডিয়া ওমেনস লিগের মাধ্যমে ক্রীড়াঙ্গনে নারীদের অংশগ্রহণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। উত্তরপ্রদেশ সরকারের প্রশংসা করে রাজনাথ সিং জানান, রাজ্যটিতে ক্রীড়া প্রকল্পের জন্য হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয় করা হচ্ছে, যা তরুণ প্রজন্মের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করছে।
বিশ্বমঞ্চে ভারতের ক্রমবর্ধমান শক্তি
এক সময় খেলাধুলাকে কেবল বিনোদন হিসেবে দেখা হলেও, বর্তমানে এটি ভারতের জাতীয় শক্তির প্রতীক হয়ে উঠেছে। আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় ভারতীয় অ্যাথলিটদের ধারাবাহিক সাফল্যই প্রমাণ করে যে, দেশের তরুণ খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাস এখন তুঙ্গে। আধুনিক ট্রেনিং ফ্যাসিলিটি এবং স্পোর্টস সায়েন্সের যথাযথ ব্যবহার ভারতকে একটি বিশ্বমানের ক্রীড়া শক্তিতে পরিণত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।
একঝলকে
- খেলো ইন্ডিয়া প্রকল্পের মাধ্যমে দেশীয় ঐতিহ্যবাহী খেলার প্রচার ও প্রসার।
- ক্রীড়া পরিকাঠামো তৈরিতে প্রায় ৫০০০ কোটি টাকা বিনিয়োগ।
- দেশজুড়ে ১০০০টি খেলো ইন্ডিয়া সেন্টার এবং প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন।
- জাতীয় শিক্ষানীতিতে খেলাধুলাকে পাঠ্যক্রমের অন্তর্ভুক্ত করা।
- নারী খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণ বৃদ্ধিতে ওমেনস লিগের বিশেষ ভূমিকা।
- আধুনিক ক্রীড়া বিজ্ঞানের সাহায্যে খেলোয়াড়দের বিশ্বমানের প্রশিক্ষণ প্রদান।