বউকে রান্নাঘরে ঢুকতে না দেওয়াও কি নিষ্ঠুরতা? স্বামীর আর্জি খারিজ করে বড় রায় বম্বে হাইকোর্টের!

বউকে রান্নাঘরে ঢুকতে না দেওয়াও কি নিষ্ঠুরতা? স্বামীর আর্জি খারিজ করে বড় রায় বম্বে হাইকোর্টের!

পারিবারিক বিবাদ ও দাম্পত্য কলহ নিয়ে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ দিয়েছে বম্বে হাইকোর্টের নাগপুর বেঞ্চ। আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে যে, একজন বিবাহিত নারীকে তাঁর শ্বশুরবাড়ির রান্নাঘরে প্রবেশ করতে বাধা দেওয়া ভারতীয় দণ্ডবিধির ৪৯৮এ ধারার অধীনে ‘মানসিক নিষ্ঠুরতা’ হিসেবে গণ্য হতে পারে। বিচারপতি ঊর্মিলা যোশী ফালকের একক বেঞ্চ এই মামলার রায় দিতে গিয়ে স্বামীর বিরুদ্ধে দায়ের করা এফআইআর (FIR) বাতিল করতে অস্বীকার করেছেন।

ঘটনার প্রেক্ষাপট ও অভিযোগের ধরণ

আকোলা জেলার এক নারীর অভিযোগের ভিত্তিতে এই মামলাটি সামনে আসে। ২০২২ সালের ২৯ নভেম্বর ওই নারীর বিয়ে হয়েছিল। তাঁর অভিযোগ অনুযায়ী, বিয়ের পর থেকেই তাঁকে ক্রমাগত মানসিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে:

  • স্বামীকে তাঁর স্ত্রী রান্নাঘরে ঢুকতে বাধা দিতেন এবং বাইরে থেকে খাবার কিনে এনে খেতে বাধ্য করতেন।
  • স্ত্রীর স্বাধীনভাবে চলাফেরার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছিল।
  • এমনকি ওই নারীকে তাঁর বাপের বাড়িতে যেতেও বাধা দেওয়া হতো।
  • শুধু তাই নয়, স্ত্রীকে অপমান করা, তাঁর ব্যক্তিগত জিনিসপত্র ঘর থেকে বাইরে ফেলে দেওয়া এবং বিবাহবিচ্ছেদের জন্য চাপ দেওয়ার মতো গুরুতর অভিযোগও আনা হয়েছে।

আদালতের পর্যবেক্ষণ ও আইনি ব্যাখ্যা

স্বামীর পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছিল যে, বিবাহবিচ্ছেদের মামলার পাল্টা জবাব হিসেবে এই ভিত্তিহীন এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। তবে আদালত এই যুক্তি গ্রহণ করেনি। বিচারপতি ঊর্মিলা যোশী ফালকে জানান, স্বামীর বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো সুনির্দিষ্ট এবং বিশ্বাসযোগ্য। আদালতের মতে, স্ত্রীকে মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত করা এবং ঘরের কাজে বাধা দেওয়া তাঁর মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে।

আইনজীবীদের মতে, ভারতীয় দণ্ডবিধির ৪৯৮এ ধারা অনুযায়ী নিষ্ঠুরতা বলতে এমন কোনো ইচ্ছাকৃত কাজকে বোঝায়, যা একজন নারীকে মানসিক বা শারীরিক ক্ষতির দিকে ঠেলে দেয় অথবা তাঁকে আত্মহত্যার মতো চরম সিদ্ধান্ত নিতে প্ররোচিত করে। এই ক্ষেত্রে স্ত্রীকে রান্নাঘরে ঢুকতে না দেওয়া সেই মানসিক নিষ্ঠুরতারই বহিঃপ্রকাশ।

শাশুড়ির ক্ষেত্রে আদালতের নমনীয়তা

স্বামীর বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিলেও, আদালত ওই নারীর শাশুড়িকে স্বস্তি দিয়েছে। বিচারপতির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, শাশুড়ির বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো ছিল অত্যন্ত সাধারণ এবং অস্পষ্ট। কোনো নির্দিষ্ট প্রমাণের অভাব থাকায় শাশুড়ির বিরুদ্ধে দায়ের করা এফআইআর ও আইনি কার্যক্রম বাতিল করার নির্দেশ দিয়েছে হাইকোর্ট।

একঝলকে

দাম্পত্য জীবনে মানসিক স্বাস্থ্যের গুরুত্বকে প্রাধান্য দিল আদালত।

স্ত্রীকে রান্নাঘরে ঢুকতে বাধা দেওয়া মানসিক নির্যাতনের শামিল।

এই ধরনের আচরণ ৪৯৮এ ধারার অধীনে অপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে।

স্বামীর বিরুদ্ধে দায়ের করা এফআইআর বাতিল করতে অস্বীকার করল বম্বে হাইকোর্ট।

নির্দিষ্ট তথ্যপ্রমাণের অভাবে মামলার দায় থেকে মুক্তি পেলেন শাশুড়ি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *