লেবানন সীমান্তে ইজরায়েলি ধ্বংসলীলা: আস্ত গ্রাম এখন শুধুই ধ্বংসস্তূপ, ‘ডোমিসাইড’-এর কবলে জনপদ!

লেবানন সীমান্তে ইজরায়েলি ধ্বংসলীলা: আস্ত গ্রাম এখন শুধুই ধ্বংসস্তূপ, ‘ডোমিসাইড’-এর কবলে জনপদ!

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এক ভয়াবহ মোড় নিয়েছে। একদিকে যখন আন্তর্জাতিক মহলে শান্তি আলোচনার তোড়জোড় চলছে, অন্যদিকে দক্ষিণ লেবাননের সীমান্ত সংলগ্ন গ্রামগুলোতে ইসরায়েলি বাহিনীর বিধ্বংসী অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সুপরিকল্পিতভাবে একের পর এক গ্রামকে মানচিত্র থেকে মুছে ফেলার এই প্রক্রিয়াকে বিশ্লেষকরা ‘ডোমিসাইড’ বা আবাসস্থল ধ্বংসের মহোৎসব হিসেবে আখ্যা দিচ্ছেন।

পরিকল্পিত ধ্বংসযজ্ঞ ও রাফাহ মডেল

দক্ষিণ লেবাননের তাইবে, নাখৌরা এবং দের সেরিয়ানের মতো গ্রামগুলোতে এখন শুধুই হাহাকার। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী নিজেরাই এমন কিছু ভিডিও প্রকাশ করেছে যেখানে দেখা যাচ্ছে, সীমান্ত এলাকার বাড়িঘরগুলোতে বিস্ফোরক ভর্তি করে রিমোট কন্ট্রোলের সাহায্যে উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। গত বছর গাজার রাফাহ এবং বাইত হ্যানুন এলাকায় যেভাবে ৯০ শতাংশ ঘরবাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল, লেবাননেও সেই একই ‘রাফাহ মডেল’ অনুসরণের ঘোষণা দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা মন্ত্রী।

ডোমিসাইড: মানুষের বসবাসের অযোগ্য করার কৌশল

বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি কেবল সামরিক অভিযান নয়, বরং এটি একটি ‘ডোমিসাইড’। এর অর্থ হলো কোনো একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলকে স্থায়ীভাবে মানুষের বসবাসের অযোগ্য করে তোলার লক্ষ্যে সেখানকার ঘরবাড়ি ও অবকাঠামো পদ্ধতিগতভাবে ধ্বংস করা। হিজবুল্লাহর সুড়ঙ্গ ও অস্ত্রভাণ্ডার ধ্বংসের অজুহাতে ইসরায়েল এই অভিযান চালালেও, বাস্তবে লিতানি নদী পর্যন্ত এলাকাকে একটি জনশূন্য ‘সিকিউরিটি জোন’ হিসেবে গড়ে তোলার চেষ্টা চলছে বলে মনে করা হচ্ছে।

প্রাণহানি ও মানবিক বিপর্যয়

হিজবুল্লাহকে লক্ষ্য করে চালানো এই ক্রমাগত হামলায় নিহতের সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে। গত শনিবারের হামলায় আরও ১৮ জনের মৃত্যুর পর লেবাননে মোট নিহতের সংখ্যা ২,০০০ ছাড়িয়ে গেছে। হাজার হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়ে খোলা আকাশের নিচে দিন কাটাচ্ছেন, যাদের ফিরে যাওয়ার মতো ঘরবাড়িও আজ আর অবশিষ্ট নেই।

ব্যর্থ শান্তি আলোচনা ও অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ

একদিকে যখন বোমা বর্ষণ চলছে, অন্যদিকে কূটনৈতিক টেবিলে সমাধানের পথ খুঁজছে বিশ্বশক্তি। সম্প্রতি পাকিস্তানে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে উচ্চপর্যায়ের এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর এটিই ছিল দুই দেশের মধ্যে সবচেয়ে বড় বৈঠক। তবে মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স এই প্রস্তাবকে ‘শেষ ও সেরা সুযোগ’ বললেও ইরান তাতে সায় দেয়নি। দুই পক্ষের আস্থাহীনতার কারণে শান্তি আলোচনা আপাতত স্থবির হয়ে আছে।

একঝলকে

  • দক্ষিণ লেবাননের সীমান্ত গ্রামগুলোতে ইসরায়েলের ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ।
  • বিস্ফোরক দিয়ে একের পর এক জনপদ উড়িয়ে দেওয়ার ‘ডোমিসাইড’ কৌশল।
  • লেবাননে মোট নিহতের সংখ্যা ২,০০০ অতিক্রম করেছে।
  • লিতানি নদী পর্যন্ত এলাকাকে জনশূন্য নিরাপত্তা বলয় করার পরিকল্পনা।
  • আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে অনুষ্ঠিত উচ্চপর্যায়ের শান্তি আলোচনা কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *