সিঁথিতে ভয়ংকর ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’! মুম্বই পুলিশের ভয় দেখিয়ে বৃদ্ধের ৬১ লক্ষ টাকা লুট
খাস কলকাতায় আবারও থাবা বসালো ভয়ঙ্কর সাইবার অপরাধ ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’। এবার দক্ষিণ সিঁথির এক প্রবীণ নাগরিককে ভয় দেখিয়ে তাঁর সারা জীবনের সঞ্চয় থেকে ৬১ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা হাতিয়ে নিয়েছে প্রতারকরা। মুম্বই পুলিশের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা সেজে এই বিপুল অঙ্কের আর্থিক জালিয়াতি করা হয়েছে।
যেভাবে ছড়ানো হয়েছিল প্রতারণার জাল
ঘটনার সূত্রপাত গত ১ এপ্রিল। বৃদ্ধের কাছে একটি ফোন আসে যেখানে ফোনের ওপার থেকে জানানো হয় যে তিনি মুম্বইয়ের কোলাবা থানা থেকে কথা বলছেন। প্রতারকরা দাবি করে, ওই বৃদ্ধের আধার নম্বর ব্যবহার করে মুম্বইয়ের একটি রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাঙ্কে অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে এবং সেই অ্যাকাউন্টটি সরাসরি সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপের অর্থায়নে ব্যবহৃত হচ্ছে। ঘটনার আকস্মিকতায় বৃদ্ধ আতঙ্কিত হয়ে পড়লে শুরু হয় আসল খেলা।
আতঙ্কের নাম ডিজিটাল অ্যারেস্ট
বৃদ্ধের বিশ্বাসযোগ্যতা অর্জনের জন্য সাইবার অপরাধীরা হোয়াটসঅ্যাপে কিছু ভুয়ো নথিপত্র এবং ব্যাঙ্ক ডিটেলস পাঠায়। একই সঙ্গে তাঁকে ভিডিও কলের মাধ্যমে নজরদারিতে রাখা হয়। পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদের নাম করে তাঁকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তোলা হয় এবং ভয় দেখানো হয় যে তদন্তে সহযোগিতা না করলে তাঁকে অবিলম্বে গ্রেফতার করা হবে। এই মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরে নিজের জমানো সব টাকা প্রতারকদের দেওয়া অ্যাকাউন্টে পাঠিয়ে দেন তিনি। টানা চার দিন ধরে তাঁকে এক প্রকার ‘ডিজিটাল বন্দি’ করে রাখা হয়েছিল।
সাইবার অপরাধীদের নয়া কৌশল ও বিশ্লেষণ
বর্তমান সময়ে সাইবার অপরাধীরা সাধারণ মানুষকে ফাঁদে ফেলতে সরকারি সংস্থা বা পুলিশের পরিচয় ব্যবহার করছে। ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’ এমন একটি প্রক্রিয়া যেখানে ইন্টারনেটের মাধ্যমে ভুক্তভোগীকে ভিডিও কলে যুক্ত রেখে বাইরের জগতের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়। এক্ষেত্রেও দুটি ভিন্ন মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে ক্রমাগত ভিডিও কলের মাধ্যমে বৃদ্ধকে নজরবন্দি রাখা হয়েছিল। মূলত আইনের প্রতি ভয় এবং স্পর্শকাতর বিষয়ে (যেমন সন্ত্রাসবাদ) সাধারণ মানুষের আতঙ্ককে পুঁজি করেই এই চক্র সফল হচ্ছে।
চার দিন পর পরিস্থিতির অস্বাভাবিকতা বুঝতে পেরে ওই বৃদ্ধ স্থানীয় থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। লালবাজার ও স্থানীয় থানার পুলিশ যৌথভাবে এই ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে।
একঝলকে
- ঘটনার স্থান: দক্ষিণ সিঁথি, কলকাতা।
- খোয়ানো অর্থের পরিমাণ: ৬১ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা।
- প্রতারণার কৌশল: মুম্বই পুলিশের ভুয়ো পরিচয় দিয়ে ‘ডিজিটাল অ্যারেস্ট’।
- ব্যবহৃত অজুহাত: আধার কার্ডের অপব্যবহার ও সন্ত্রাসবাদী কার্যকলাপে যুক্ত থাকার মিথ্যা অভিযোগ।
- তদন্তকারী সংস্থা: কলকাতা পুলিশ ও সাইবার ক্রাইম শাখা।