ভোটার তালিকায় নাম নেই? ‘অন্ধ হবেন না’, বাংলার ভোট নিয়ে কমিশনকে নজিরবিহীন হুঁশিয়ারি সুপ্রিম কোর্টের!
/indian-express-bangla/media/media_files/2025/02/07/cZ1eq83jg12Qj6lFAIPn.jpg?w=640&resize=640,360&ssl=1)
পশ্চিমবঙ্গের আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভোটারদের অধিকার সংক্রান্ত এক অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ পর্যবেক্ষণ দিল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়া এবং আপিল ট্রাইব্যুনালে তা বিচারাধীন থাকা সংক্রান্ত একটি মামলার শুনানিতে সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, ভোট পরিচালনার ব্যস্ততায় সাধারণ মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার যেন কোনোভাবেই খর্ব না হয়।
বিচারপতি সূর্য কান্ত এবং বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর ডিভিশন বেঞ্চ এই মামলার শুনানি চলাকালীন নির্বাচন কমিশন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে সতর্ক করে বলেন, “নির্বাচনের চাপে অন্ধ হয়ে যাবেন না।” আদালতের মতে, কোনো নাগরিকের ভোটার তালিকায় নাম থাকার অধিকার কেবল সাংবিধানিক নয়, বরং এটি একটি গভীর আবেগের বিষয়।
ভোটার তালিকা এবং কমিশনের অবস্থান
মামলাটির মূল প্রেক্ষাপট ছিল ভোটার তালিকা চূড়ান্ত বা ‘ফ্রিজ’ করার সময়সীমা বৃদ্ধি করা। আবেদনকারীদের দাবি ছিল, যাঁদের নাম তালিকা থেকে বাদ পড়েছে এবং যাঁরা আপিল করেছেন, তাঁরা জয়ী হলে যেন এই নির্বাচনেই ভোট দিতে পারেন। এর বিপরীতে নির্বাচন কমিশন আদালতকে জানায় যে, গত ৯ এপ্রিল ভোটার তালিকা চূড়ান্ত করার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে আদালত জানায়, ভোটার তালিকায় নাম থাকা একটি ধারাবাহিক প্রক্রিয়া এবং এটি নাগরিকত্বের পরিচয়ের সঙ্গে যুক্ত।
দুই সংস্থার চাপে সাধারণ ভোটার
শুনানি চলাকালীন বিচারপতিরা মন্তব্য করেন যে, বাংলা ভোটারদের একটি বড় অংশ বর্তমানে দুটি সাংবিধানিক সংস্থার টানাপোড়েনে সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছেন। আদালত মনে করে, এটি রাজ্য সরকার বনাম নির্বাচন কমিশনের কোনো লড়াই নয়, বরং এখানে ভোটাররা দুই পক্ষের মাঝে পড়ে অধিকার হারাচ্ছেন। সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্ট করে দেয় যে, বিচার বিভাগ সবসময় নির্বাচন প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিতে সাহায্য করে, বাধা দিতে নয়। তবে নাগরিকদের অধিকার রক্ষার বিষয়টি সবকিছুর ঊর্ধ্বে।
নির্বাচনী ফলাফলে প্রভাব ও আদালতের যুক্তি
নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপের বিষয়ে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী একটি গাণিতিক বিশ্লেষণ তুলে ধরেন। তিনি জানান, যদি বিপুল সংখ্যক ভোটার তালিকা থেকে বাদ না পড়েন, তবে সাধারণত আদালত হস্তক্ষেপ করে না। তবে যদি দেখা যায় যে জয়ের ব্যবধান ৫ শতাংশের কম এবং ভোটার তালিকা থেকে বাদ পড়া নাগরিকের সংখ্যা তার চেয়ে বেশি, তবে সেটি বিচার্য বিষয় হয়ে দাঁড়াতে পারে। অর্থাৎ, ভোটারদের অধিকার সরাসরি নির্বাচনের ফলাফলকে প্রভাবিত করার ক্ষমতা রাখে।
ট্রাইব্যুনালের কাজে ধীরগতি
আবেদনকারীদের পক্ষ থেকে অভিযোগ তোলা হয় যে, আপিল ট্রাইব্যুনালগুলোতে মামলার শুনানি অত্যন্ত ধীরগতিতে চলছে। এর ফলে ভোটাররা অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। যদিও প্রধান বিচারপতি আবেদনকারীদের ট্রাইব্যুনালেই যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন, তবুও তিনি বিচারকদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি না করার বিষয়েও সতর্ক করেছেন।
একঝলকে
- ভোটার তালিকায় নাম থাকা নাগরিকের সাংবিধানিক ও আবেগগত অধিকার।
- নির্বাচন কমিশন ৯ এপ্রিল ভোটার তালিকা চূড়ান্ত করেছে বলে আদালতে জানিয়েছে।
- নির্বাচনের চাপে ভোটারদের অধিকার যেন লঙ্ঘিত না হয়, সেই বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টের কড়া হুঁশিয়ারি।
- রাজ্য ও কমিশনের টানাপোড়েনে ভোটারদের স্বার্থ বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ।
- আপিল ট্রাইব্যুনালের কার্যক্রম দ্রুত করার বিষয়ে আবেদনকারীদের দাবি।
- জয়ের ব্যবধান কম হলে ভোটার তালিকা সংক্রান্ত ত্রুটি বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে আদালতের পর্যবেক্ষণ।