নিজের মামলা লড়তে নিজেই আইনজীবী কেজরিওয়াল! হাইকোর্টে দাঁড়িয়ে বললেন, ‘আমাকে মহাদুর্নীতিবাজ সাজানোর চেষ্টা চলছে’

আবগারি নীতি মামলায় নাটকীয় মোড় নিল দিল্লি হাইকোর্ট। সোমবার শুনানির সময় আম আদমি পার্টির জাতীয় আহ্বায়ক তথা দিল্লির প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজরিওয়াল নিজেই নিজের আইনজীবী হিসেবে সওয়াল করেন। বিচারপতি স্বর্ণ কান্তা শর্মার এজলাসে এই মামলার শুনানি চলাকালীন তিনি নিরপেক্ষ বিচার নিয়ে প্রশ্ন তুলে বিচারক পরিবর্তনের বা ‘রিকিউজাল’ আবেদন জানান। কেজরিওয়ালের দাবি, ইডি এবং সিবিআইয়ের পুরো মামলাটি কেবল রাজসাক্ষীদের বয়ানের ওপর ভিত্তি করে সাজানো হয়েছে, যার কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই।
আদালতে দেওয়া কেজরিওয়ালের বক্তব্যের মূল নির্যাস ও বিশ্লেষণ নিচে তুলে ধরা হলো:
রাজসাক্ষীর বয়ান ও সিবিআইয়ের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন
শুনানির শুরুতেই কেজরিওয়াল অভিযোগ করেন যে, সিবিআইয়ের পুরো মামলাটি রাজসাক্ষীদের বয়ানের ওপর দাঁড়িয়ে আছে। তিনি দাবি করেন, কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলো অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে ভয় দেখিয়ে বা দরকষাকষি করে নির্দিষ্ট নাম বলতে বাধ্য করেছে। ট্রায়াল কোর্ট ইতিমধ্যেই রাজসাক্ষীদের এই ধরনের বয়ানকে অবিশ্বস্ত বলে উল্লেখ করেছে এবং তাদের আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
তদন্তে কোনো আর্থিক হদিস মেলেনি
প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী আদালতে জোর দিয়ে বলেন যে, ইডি এবং সিবিআই শত শত তল্লাশি চালিয়েও এক টাকাও উদ্ধার করতে পারেনি। তিনি বলেন, “আমাদের দুর্নীতিবাজ হিসেবে প্রমাণ করার আপ্রাণ চেষ্টা করা হয়েছে, কিন্তু ট্রায়াল কোর্ট আমাদের রেহাই দিয়েছে। গোয়ায় টাকা পাঠানো বা ঘুষ নেওয়ার কোনো প্রমাণ মেলেনি।”
বিচারক পরিবর্তনের আবেদন ও নিরপেক্ষতা নিয়ে শঙ্কা
কেজরিওয়াল বিচারপতি স্বর্ণ কান্তা শর্মার পূর্ববর্তী কিছু পর্যবেক্ষণের দিকে ইঙ্গিত করে জানান, আগে এই আদালত থেকে মণীশ সিসোদিয়ার মামলায় যে ধরনের মন্তব্য করা হয়েছিল, তাতে মনে হয়েছিল যেন বিচার শেষ হওয়ার আগেই তাঁদের ‘মহাদুর্নীতিবাজ’ ঘোষণা করা হয়েছে। তিনি প্রশ্ন তোলেন, আদালতের পুরনো দৃষ্টিভঙ্গি কি এই পর্যায়ে এসে পরিবর্তন করা সম্ভব? এই কারণেই তিনি বিচারক পরিবর্তনের আবেদন জানিয়েছেন।
মণীশ সিসোদিয়ার মামলার উদাহরণ
অরবিন্দ কেজরিওয়াল সওয়াল করেন যে, সিসোদিয়ার ক্ষেত্রে মাত্র তিনটি শুনানির ভিত্তিতে রায় দেওয়া হয়েছিল এবং সুপ্রিম কোর্ট পরবর্তীতে সেই সিদ্ধান্তকে গুরুত্ব দেয়নি। ট্রায়াল কোর্ট সিসোদিয়াকে নির্দোষ মনে করলেও এই উচ্চ আদালত ভিন্ন অবস্থান নিয়েছিল। তবে সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা কেজরিওয়ালের এই বক্তব্যের বিরোধিতা করে বলেন যে, সুপ্রিম কোর্ট আগের কোনো রায় পুরোপুরি খারিজ করেনি।
বিশ্লেষণ ও প্রভাব
কেজরিওয়ালের নিজেই নিজের সওয়াল করার এই পদক্ষেপটি রাজনৈতিক এবং আইনি উভয় দিক থেকেই তাৎপর্যপূর্ণ। আইনজীবীর বদলে সরাসরি বিচারপতির মুখোমুখি হয়ে তিনি এটি বোঝাতে চেয়েছেন যে, এই লড়াই তাঁর কাছে কেবল আইনি নয়, বরং রাজনৈতিক মর্যাদার লড়াই। রাজসাক্ষীদের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা এবং ট্রায়াল কোর্টের পর্যবেক্ষণের দোহাই দিয়ে তিনি কেন্দ্রীয় সংস্থাগুলোর তদন্তের দুর্বলতা পাঠকদের সামনে তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন।
একঝলকে
- দিল্লি হাইকোর্টে নিজের মামলা নিজেই লড়লেন অরবিন্দ কেজরিওয়াল।
- বিচারপতি স্বর্ণ কান্তা শর্মার এজলাস থেকে মামলা সরানোর আবেদন।
- সিবিআইয়ের মামলাকে ‘রাজসাক্ষীদের সাজানো বয়ান’ বলে অভিহিত করেছেন তিনি।
- ইডি-সিবিআই শত তল্লাশিতেও কোনো টাকা উদ্ধার করতে পারেনি বলে দাবি।
- ট্রায়াল কোর্টের ইতিবাচক রায়ের প্রসঙ্গ টেনে উচ্চ আদালতে সুর চড়ালেন আপ প্রধান।