৮০ কোটি বেকারত্বের ঝুঁকি! বিশ্বব্যাংকের সতর্কবার্তায় কাঁপছে দুনিয়া

বিশ্বজুড়ে ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার মধ্যেই এক চরম সংকটের সতর্কবার্তা দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। সংস্থাটির মতে, আগামী এক দশকে কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা যে হারে বাড়বে, সেই তুলনায় কাজের সুযোগ তৈরি হবে না। এই ভারসাম্যহীনতা কোটি কোটি মানুষের জীবনযাত্রায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলার পাশাপাশি সামাজিক ও বৈশ্বিক স্থিতিশীলতাকেও ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারে।
শ্রমবাজারের বিশাল ঘাটতি ও সম্ভাব্য ঝুঁকি
বিশ্বব্যাংকের প্রেসিডেন্ট অজয় বাঙ্গা এক বিবৃতিতে জানান, আগামী ১০ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে উন্নয়নশীল দেশগুলোতে প্রায় ১২০ কোটি মানুষ কর্মক্ষম বয়সে পৌঁছাবে। কিন্তু বর্তমান অর্থনৈতিক প্রেক্ষাপটে এই সময়ের মধ্যে মাত্র ৪০ কোটি নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা সম্ভব হতে পারে। অর্থাৎ বিশ্বজুড়ে প্রায় ৮০ কোটি চাকরির বিশাল এক ঘাটতি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
নীতিনির্ধারকরা প্রায়ই মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের মতো স্বল্পমেয়াদী সমস্যা নিয়ে ব্যস্ত থাকেন। কিন্তু কর্মসংস্থানের মতো দীর্ঘমেয়াদী এবং গভীর সমস্যাগুলো ক্রমশ নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। সময়মতো এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করা না গেলে অবৈধ অভিবাসন এবং চরম সামাজিক অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।
সমাধানের পথ ও বিশ্বব্যাংকের সংস্কার পরিকল্পনা
এই সংকট কাটাতে বিশ্বব্যাংক উন্নয়নশীল দেশগুলোতে বিনিয়োগ বাড়াতে এবং বাজার কাঠামোর আমূল পরিবর্তনের ওপর জোর দিচ্ছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:
- ব্যবসা পরিচালনার নিয়ম সহজীকরণ এবং লাল ফিতার দৌরাত্ম্য কমানো।
- ভূমি ও শ্রম আইনের আধুনিকায়ন এবং প্রয়োজনীয় সংস্কার সাধন।
- পণ্য পরিবহন বা লজিস্টিক সেবা আরও উন্নত ও শক্তিশালী করা।
- দুর্নীতির রাশ টেনে ধরে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা।
বেসরকারি খাত ও অবকাঠামোর গুরুত্ব
সংকট মোকাবিলায় রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ কিংবা মাহিন্দ্রা গ্রুপের মতো বড় কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর বিনিয়োগ ও সম্প্রসারণ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি ১ বিলিয়ন মানুষের কাছে বিশুদ্ধ জল এবং আফ্রিকার বিস্তীর্ণ অঞ্চলে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়ার মতো লক্ষ্য নিয়েও কাজ করছে বিশ্বব্যাংক। মূলত স্বাস্থ্যসেবা, কৃষি ও উৎপাদন খাতের উন্নয়নই পারে আগত এই বেকারত্বের ঢেউ সামাল দিতে।
একঝলকে
- আগামী ১৫ বছরে ১২০ কোটি মানুষ কর্মক্ষম বয়সে পৌঁছাবে।
- নতুন চাকরি তৈরি হওয়ার সম্ভাবনা মাত্র ৪০ কোটি।
- ঘাটতি থাকতে পারে প্রায় ৮০ কোটি কর্মসংস্থানের।
- কর্মসংস্থান না বাড়লে অবৈধ অভিবাসন ও অস্থিরতা বৃদ্ধির শঙ্কা।
- কৃষি, স্বাস্থ্য ও ম্যানুফ্যাকচারিং খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোর পরামর্শ।