হোরমুজ প্রণালী বন্ধ হলে কি থমকে যাবে পৃথিবী? তেলের দাম থেকে শেয়ার বাজার—আসন্ন মহাপ্রলয়ের ৫টি লক্ষণ!

হোরমুজ প্রণালী বন্ধ হলে কি থমকে যাবে পৃথিবী? তেলের দাম থেকে শেয়ার বাজার—আসন্ন মহাপ্রলয়ের ৫টি লক্ষণ!

পশ্চিম এশিয়ায় ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার কেন্দ্রে এখন হোরমুজ প্রণালী। পারস্য উপসাগর ও ওমান উপসাগরকে সংযুক্তকারী এই সংকীর্ণ জলপথটি বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের প্রধান ধমনী হিসেবে পরিচিত। সাম্প্রতিক ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতায় এই পথটি বন্ধ হওয়ার উপক্রম হলে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে আসতে পারে বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন। প্রায় ৩৩ কিলোমিটার চওড়া এই রুট দিয়ে প্রতিদিন গড়ে ২০ মিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল ও পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য পরিবহন করা হয়।

জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য হোরমুজ প্রণালীর গুরুত্ব

বিশ্বের মোট ব্যবহৃত তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এবং সমুদ্রপথে হওয়া তেল বাণিজ্যের ২৫ শতাংশই এই হোরমুজ প্রণালী দিয়ে পার হয়। এছাড়া কাতার থেকে উৎপাদিত বিপুল পরিমাণ এলএনজি (LNG) বা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস রপ্তানির প্রধান পথও এটি। ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে রাজনৈতিক উত্তেজনা বৃদ্ধি পালে এই কৌশলগত পথটি যে কোনো সময় অবরুদ্ধ হতে পারে, যার ফলাফল হবে সুদূরপ্রসারী।

বৈশ্বিক অর্থনীতিতে সম্ভাব্য ৫টি বড় বিপর্যয়

হোরমুজ প্রণালী বন্ধ হলে বিশ্ব অর্থনীতি যে সংকটের মুখে পড়তে পারে তা নিচে বিশ্লেষণ করা হলো:

  • জ্বালানি তেলের আকাশচুম্বী দাম: সরবরাহে ২০ শতাংশ ঘাটতি দেখা দিলে অপরিশোধিত তেলের দাম এক ধাক্কায় ৩০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়ে যেতে পারে। এর সরাসরি প্রভাব পড়বে পেট্রোল, ডিজেল ও রান্নার গ্যাসের ওপর। ভারত ও চীনের মতো দেশগুলো তাদের প্রয়োজনের সিংহভাগ তেল এই পথ দিয়ে আমদানি করে বলে সেখানে জ্বালানি সংকট তীব্র হবে।
  • লাগামহীন মুদ্রাস্ফীতি: জ্বালানির দাম বাড়লে পরিবহন ও বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচ বাড়বে। ফলে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যাবে। মুদ্রাস্ফীতির সাথে অর্থনৈতিক মন্দা বা ‘স্ট্যাগফ্লেশন’ তৈরি হওয়ার প্রবল আশঙ্কা রয়েছে।
  • খাদ্য সংকটের ঝুঁকি: তেল ও গ্যাসের দাম বাড়লে সার উৎপাদন খরচ বহুগুণ বেড়ে যায়। এতে কৃষিকাজ ব্যাহত হবে এবং ফসলের উৎপাদন কমলে বিশ্বজুড়ে খাদ্যসংকট দেখা দিতে পারে, যা বিশেষ করে দরিদ্র দেশগুলোকে বিপন্ন করবে।
  • সাপ্লাই চেইন বা সরবরাহ ব্যবস্থায় স্থবিরতা: তেল ও গ্যাসের পাশাপাশি বিভিন্ন রাসায়নিক ও জরুরি পণ্য এই পথে যাতায়াত করে। শিপিং রুট পরিবর্তন করতে হলে সময় ও খরচ দুই-ই বাড়বে, যা বৈশ্বিক শিল্পোৎপাদন কমিয়ে বেকারত্ব বাড়িয়ে দিতে পারে।
  • শেয়ার বাজারে ধস: জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা সরাসরি বিনিয়োগকারীদের আতঙ্কিত করে তোলে। বিশ্বব্যাপী শেয়ার বাজারে বড় ধরনের দরপতন এবং দীর্ঘমেয়াদী অনিশ্চয়তা তৈরি হতে পারে।

একঝলকে

  • বিশ্বের ২০ শতাংশ তেল সরবরাহের একমাত্র পথ হোরমুজ প্রণালী।
  • পথটি বন্ধ হলে তেলের দাম ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়তে পারে।
  • ভারত, চীন ও জাপানের মতো এশীয় দেশগুলো সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
  • পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় বিশ্বজুড়ে মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা।
  • খাদ্য ও সার উৎপাদনে ঘাটতি তৈরি হয়ে বিশ্বজুড়ে অস্থিরতা দেখা দিতে পারে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *