“বোমার জবাব ভোটে, সিন্ডিকেটবাজদের উল্টো ঝুলিয়ে সোজা করবে বিজেপি!”—বাংলায় হুঙ্কার অমিত শাহের

“বোমার জবাব ভোটে, সিন্ডিকেটবাজদের উল্টো ঝুলিয়ে সোজা করবে বিজেপি!”—বাংলায় হুঙ্কার অমিত শাহের

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক পারদ এখন তুঙ্গে। সোমবার বীরভূম ও পশ্চিম বর্ধমানের একাধিক জনসভায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ তৃণমূল কংগ্রেস সরকারকে তীব্র আক্রমণ করেন। তিনি দাবি করেন, বাংলার মানুষ এবার পরিবর্তনের সংকল্প নিয়েছে এবং তৃণমূলের ‘সন্ত্রাসের রাজনীতি’র অবসান ঘটিয়ে বিজেপি রাজ্যে ‘ডবল ইঞ্জিন’ সরকার গঠন করবে।

দুর্নীতির বিরুদ্ধে কড়া হুঁশিয়ারি

বীরভূমের ময়ূরেশ্বর, খয়রাশোল এবং পশ্চিম বর্ধমানের রানিগঞ্জের সভায় শাহ স্পষ্ট জানান, বিজেপি ক্ষমতায় এলে রাজ্যে সিন্ডিকেট রাজ ও দুর্নীতিবাজদের রেহাই দেওয়া হবে না। তিনি বলেন, যারা জনগণের টাকা লুট করেছে এবং ঘুষখোরদের প্রশ্রয় দিয়েছে, বিজেপি সরকার তাদের ‘সোজা করার’ জন্য কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করবে। তার ভাষায়, নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের পর অপরাধীদের উপযুক্ত বিচার নিশ্চিত করা হবে।

অনুপ্রবেশ ও জাতীয় নিরাপত্তা ইস্যু

অনুপ্রবেশ ইস্যুতে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকারকে সরাসরি নিশানা করেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তার অভিযোগ:

  • রাজ্য সরকার সীমান্ত এলাকায় কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার জন্য জমি বরাদ্দ করছে না।
  • অনুপ্রবেশকারীরা বাংলার জনতাত্ত্বিক কাঠামো নষ্ট করছে।
  • বিজেপি ক্ষমতায় আসার ৪৫ দিনের মধ্যে সীমান্ত সিল করার কাজ শুরু করবে এবং দেশ থেকে প্রতিটি অনুপ্রবেশকারীকে চিহ্নিত করে বের করে দেওয়া হবে।

শিল্প ও উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি

রাজ্যে বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধির লক্ষ্যে শাহ বিজেপির নির্বাচনী ইশতেহারের কথা মনে করিয়ে দেন। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন যে, বিজেপি সরকার গঠন করলে বাংলায় পাঁচটি বড় শিল্প তালুক গড়ে তোলা হবে। এর ফলে স্থানীয় যুবকদের কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে এবং বাংলার হারানো অর্থনৈতিক গৌরব পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হবে।

মেরুকরণ ও ধর্মীয় প্রসঙ্গ

বক্তব্যে অযোধ্যার রাম মন্দির এবং রাম নবমীর শোভাযাত্রায় হামলার প্রসঙ্গ টেনে আনেন অমিত শাহ। তিনি অভিযোগ করেন, তৃণমূলের শাসনামলে রাজ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠ সম্প্রদায়কে ভয় দেখানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, ক্ষমতায় এলে বিজেপি পশ্চিমবঙ্গে ‘অভিন্ন দেওয়ানি বিধি’ বা ইউনিফর্ম সিভিল কোড (UCC) কার্যকর করার বিষয়ে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। নারীদের নিরাপত্তার প্রশ্নেও তিনি বিশেষ আশ্বাস দেন।

একঝলকে

  • বোমার রাজনীতির জবাব বাংলার মানুষ ভোটের মাধ্যমে দেবে।
  • সিন্ডিকেট রাজ ও ঘুষখোরদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
  • ক্ষমতায় আসার ৪৫ দিনের মধ্যে সীমান্ত সুরক্ষায় জমি বরাদ্দ নিশ্চিত করবে বিজেপি।
  • রাজ্যে শিল্পায়নের জন্য পাঁচটি বিশেষ ইন্ডাস্ট্রিয়াল এস্টেট তৈরির পরিকল্পনা।
  • অনুপ্রবেশ রুখতে এবং জাতীয় নিরাপত্তা বজায় রাখতে বিজেপি বদ্ধপরিকর।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *