স্বামীর লালসার শিকার স্ত্রী! ১২০ জনের কাছে স্ত্রীকে বিক্রি করে উপার্জনের পাহাড় গড়ল পাষণ্ড স্বামী

ইউরোপের দেশ সুইডেনে নৈতিক অবক্ষয় ও পাশবিকতার এক চরম নিদর্শন প্রকাশ্যে এসেছে। নিজের স্ত্রীকে উপার্জনের মাধ্যম বানিয়ে ১২০ জন পুরুষের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনে বাধ্য করার অভিযোগে ৬২ বছর বয়সী এক ব্যক্তির বিচার শুরু হয়েছে। এই ঘটনাটি আধুনিক সভ্য সমাজের মানবিক মূল্যবোধের ওপর এক বড় আঘাত হিসেবে দেখা হচ্ছে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট ও ভয়াবহতা
২০২২ সাল থেকে শুরু হওয়া এই নারকীয় ঘটনা দীর্ঘ চার বছর ধরে চলে আসছিল। অভিযুক্ত ব্যক্তি ইন্টারনেটের মাধ্যমে বিভিন্ন পুরুষের সাথে যোগাযোগ করত এবং অর্থের বিনিময়ে তাদের কাছে নিজের স্ত্রীকে তুলে দিত। পুরো বিষয়টি সে সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে পর্যবেক্ষণ করত বলে তদন্তে উঠে এসেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, গত চার বছরে সুইডেনের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা অন্তত ১২০ জন পুরুষ এই অনৈতিক কাজে লিপ্ত হয়েছে।
অবশ করতে ব্যবহার হতো মাদক
তদন্তকারীদের মতে, অভিযুক্ত ব্যক্তি তার স্ত্রীকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং বাধা দূর করতে নিয়মিত মাদক বা নেশাজাতীয় দ্রব্য ব্যবহার করত। নির্যাতিতার শারীরিক ও মানসিক দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে তাকে এই জঘন্য পথে ঠেলে দেওয়া হয়েছিল। প্রসিকিউশন পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে, স্ত্রী রাজি না হলে তাকে প্রাণে মেরে ফেলার এবং পেট্রোল ঢেলে পুড়িয়ে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হতো।
কুখ্যাত ‘পেলিকট’ মামলার পুনরাবৃত্তি
সুইডেনের এই ঘটনাটি ফ্রান্সের আলোচিত ‘গিসেল পেলিকট’ মামলার কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে। ফ্রান্সেও একইভাবে স্বামী তার স্ত্রীকে মাদকাসক্ত করে অন্য পুরুষদের দিয়ে ধর্ষণ করাত। ২০২৪ সালে সেই মামলায় অপরাধী ডোমিনিক পেলিকটকে ২০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছিল। সুইডেনের এই বর্তমান মামলাটি সেই একই মানসিক বিকৃতির প্রতিচ্ছবি বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা।
বিচার বিভাগীয় পর্যবেক্ষণ ও বর্তমান অবস্থা
২০২৫ সালের অক্টোবরে ভুক্তভোগী নারী পুলিশের কাছে অভিযোগ জানালে এই লোমহর্ষক ঘটনাটি জানাজানি হয়। অভিযুক্ত ব্যক্তি আদালতে নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেছে যে, সব কিছুই সম্মতির ভিত্তিতে করা হয়েছে। তবে পুলিশ ও আইনজীবীরা তার এই দাবি নাকচ করে দিয়েছেন। বর্তমানে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে ধর্ষণ, ধর্ষণের চেষ্টা এবং শারীরিক লাঞ্ছনার মতো গুরুতর ধারায় মামলা চলছে।
একঝলকে
- ঘটনার স্থান: সুইডেন।
- মূল অভিযুক্ত: ৬২ বছর বয়সী স্বামী।
- অভিযোগের সময়কাল: ২০২২ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত।
- ভুক্তভোগীর সংখ্যা: ১ জন (অভিযুক্তের স্ত্রী)।
- পুরুষের সংশ্লিষ্টতা: প্রায় ১২০ জন পুরুষ এই অপরাধের সাথে জড়িত।
- শাস্তির ধরন: ধর্ষণ ও মারধরের অভিযোগে বর্তমানে বিচার চলছে।