“অপেক্ষা ৪ দশকের, এবার ইতিহাস গড়বে ভারত”, সংসদ অধিবেশনের আগে বড় ঘোষণা প্রধানমন্ত্রীর
ভারতের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে এক নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হতে চলেছে। দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে চলতি সপ্তাহেই সংসদে পেশ হতে চলেছে ‘নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়ম’ বা মহিলা সংরক্ষণ বিলের সংশোধনী। সোমবার দিল্লির বিজ্ঞান ভবনে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এই পদক্ষেপকে একবিংশ শতাব্দীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হিসেবে অভিহিত করেছেন। প্রধানমন্ত্রীর মতে, এই বিল কেবল একটি আইনি প্রক্রিয়া নয়, বরং এটি ভারতের নারী শক্তির প্রতি বিশেষ সম্মান প্রদর্শন।
ঐতিহাসিক গুরুত্ব ও নারী ক্ষমতায়ন
প্রধানমন্ত্রী মোদী তাঁর বক্তব্যে জোর দিয়ে বলেন যে, ভারত আজ এক ঐতিহাসিক মুহূর্তের দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে আছে। তাঁর মতে, গণতন্ত্রে নারীর অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পাওয়া মানে গণতন্ত্রকে আরও বেশি শক্তিশালী করা। ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রাম থেকে শুরু করে দেশ গঠনের প্রতিটি স্তরে নারীদের ভূমিকা অনস্বীকার্য। প্রধানমন্ত্রী বিশ্বাস করেন, এই বিল পাশের মাধ্যমে ভবিষ্যতে এমন এক সমাজ গড়ে উঠবে যেখানে লিঙ্গ সাম্য এবং সামাজিক ন্যায়বিচার কেবল স্লোগান হয়ে থাকবে না, বরং তা নীতি নির্ধারণের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠবে।
বাস্তবায়নের পথে বড় চ্যালেঞ্জ
২০২৩ সালে পাশ হওয়া মূল বিলে উল্লেখ ছিল যে, পরবর্তী আদমশুমারি ও আসন পুনর্বিন্যাসের পরেই ৩৩ শতাংশ সংরক্ষণ কার্যকর হবে। তবে বর্তমান সংশোধনীতে কেন্দ্র চাইছে ২০১১ সালের জনগণনার ভিত্তিতেই এই আসন পুনর্বিন্যাস প্রক্রিয়া শুরু করতে। সরকারের এই দ্রুত পদক্ষেপের পেছনে বেশ কিছু রাজনৈতিক ও কৌশলগত কারণ রয়েছে:
- দশকব্যাপী ঝুলে থাকা আলোচনার অবসান ঘটিয়ে দ্রুত বাস্তবায়নের লক্ষ্য।
- একবিংশ শতাব্দীর উপযোগী করে নারীর রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা।
- সংসদীয় কাঠামোতে নারীদের সক্রিয় উপস্থিতি বৃদ্ধির মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় বৈচিত্র্য আনা।
বিরোধীদের উদ্বেগ ও রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট
মহিলা সংরক্ষণ বিল নিয়ে রাজনৈতিক মহলে উৎসাহ থাকলেও আসন পুনর্বিন্যাস নিয়ে সংশয় দানা বেঁধেছে। বিশেষ করে ২০১১ সালের তথ্যের ভিত্তিতে আসন বিন্যাস করা হলে নির্বাচনী মানচিত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা রয়েছে। কংগ্রেস নেত্রী সনিয়া গান্ধীসহ বিরোধী শিবিরের আশঙ্কা, এই প্রক্রিয়ায় গণতন্ত্রের স্বাভাবিক ছন্দ ব্যাহত হতে পারে। ১৬ থেকে ১৮ এপ্রিল আয়োজিত বিশেষ অধিবেশনে এই বিল ঘিরে উত্তপ্ত বিতর্কের সম্ভাবনা রয়েছে।
একঝলকে
- মহিলা সংরক্ষণ বিলের সংশোধনী চলতি সপ্তাহেই সংসদে পেশ হতে চলেছে।
- প্রধানমন্ত্রী এটিকে নারী শক্তির প্রতি বিশেষ উৎসর্গ বলে বর্ণনা করেছেন।
- লোকসভা ও রাজ্য বিধানসভায় ৩৩ শতাংশ আসন নারীদের জন্য সংরক্ষিত করার লক্ষ্য।
- ২০১১ সালের আদমশুমারির ভিত্তিতে আসন পুনর্বিন্যাস করার পরিকল্পনা করছে কেন্দ্র।
- ১৬, ১৭ ও ১৮ এপ্রিল সংসদের বিশেষ অধিবেশনে এই বিল নিয়ে আলোচনা হবে।