“সেদিন মনে হচ্ছিল হার্ট অ্যাটাক হবে!” দিল্লি হাইকোর্টে আবেগপ্রবণ কেজরিওয়াল, বিচারপতির সামনেই সওয়াল

“সেদিন মনে হচ্ছিল হার্ট অ্যাটাক হবে!” দিল্লি হাইকোর্টে আবেগপ্রবণ কেজরিওয়াল, বিচারপতির সামনেই সওয়াল

দিল্লি আবগারি নীতি মামলায় সোমবার দিল্লি হাইকোর্টে এক নজিরবিহীন নাটকীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। সাবেক মুখ্যমন্ত্রী অরবিন্দ কেজ্রিওয়াল বিচারপতি স্বর্ণকান্ত শর্মার এজলাসে নিজেই নিজের পক্ষে যুক্তি উপস্থাপন করতে গিয়ে আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েন। বিচারপতি শর্মা যাতে এই মামলার বিচার প্রক্রিয়া থেকে সরে দাঁড়ান (Recusal), সেই আর্জি জানিয়ে দায়ের করা আবেদনের শুনানিতেই এমন পরিস্থিতির উদ্ভব হয়।

বিচারপতি শর্মার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে কেজ্রিওয়াল বলেন, বিচারব্যবস্থার ওপর তাঁর পূর্ণ আস্থা রয়েছে। তবে গত ৯ মার্চের আদালতের একটি আদেশ দেখে তিনি মানসিকভাবে প্রচণ্ড ভেঙে পড়েছিলেন বলে আদালতকে জানান। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, সেদিন তাঁর মনে হয়েছিল যেন তাঁর হৃদস্পন্দন বন্ধ হয়ে যাবে।

নিজেকে নির্দোষ প্রমাণের লড়াই

আদালতে কেজ্রিওয়াল স্পষ্টভাবে জানান যে, তিনি বর্তমানে কোনো অভিযুক্ত হিসেবে দাঁড়াননি। তাঁর প্রধান যুক্তিগুলো হলো:

  • ট্রায়াল কোর্ট প্রায় ৪০ হাজার পৃষ্ঠার নথি পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা করে তাঁকে এই মামলা থেকে অব্যাহতি (Discharge) দিয়েছে।
  • সারাদিন ব্যাপী দীর্ঘ শুনানির পর ট্রায়াল কোর্ট তাঁকে নির্দোষ ঘোষণা করলেও হাইকোর্ট মাত্র কয়েক মিনিটের শুনানিতে সেই রায়ে ত্রুটি খুঁজে পাওয়ায় তিনি মর্মাহত হয়েছেন।
  • ট্রায়াল কোর্টের দেওয়া রায়ে সিবিআই-এর তদন্ত প্রক্রিয়ার দুর্বলতা নিয়েও কড়া পর্যবেক্ষণ ছিল।

বিবাদের মূল প্রেক্ষাপট ও বর্তমান পরিস্থিতি

ঘটনার সূত্রপাত গত ২৭ ফেব্রুয়ারি, যখন ট্রায়াল কোর্ট কেজ্রিওয়াল ও মনিষ সিসোদিয়াসহ ২১ জনকে নির্দোষ ঘোষণা করে। এরপর ৯ মার্চ সিবিআই এই রায়কে চ্যালেঞ্জ করে হাইকোর্টের দ্বারস্থ হয়। বিচারপতি স্বর্ণকান্ত শর্মা সেই আপিল গ্রহণ করে জানান যে, ট্রায়াল কোর্টের রায়ে পর্যালোচনার প্রয়োজন রয়েছে।

কেজ্রিওয়াল, সিসোদিয়া ও বিজয় নায়ারদের মূল আপত্তি হলো, বিচারপতি শর্মা অতীতে একটি নির্দিষ্ট আইনি সম্মেলনে অংশ নিয়েছিলেন। তাঁদের আশঙ্কা, এই বেঞ্চের অধীনে তাঁরা নিরপেক্ষ বিচার না-ও পেতে পারেন। অন্যদিকে সিবিআই এই যুক্তির তীব্র বিরোধিতা করে জানিয়েছে, কোনো অনুষ্ঠানে অংশ নিলেই বিচারপতির নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা যায় না।

দিল্লি হাইকোর্টের প্রধান বিচারপতি ইতিপূর্বেই এই মামলা অন্য বেঞ্চে বদলি করতে অস্বীকার করেছেন এবং সিদ্ধান্তের ভার সংশ্লিষ্ট বিচারপতির ওপরই ছেড়ে দিয়েছেন। এখন বিচারপতি স্বর্ণকান্ত শর্মা এই মামলা থেকে সরে দাঁড়াবেন নাকি শুনানি চালিয়ে যাবেন, তা নিয়ে দেশজুড়ে রাজনৈতিক ও আইনি মহলে ব্যাপক কৌতুহল সৃষ্টি হয়েছে।

একঝলকে

  • ট্রায়াল কোর্ট কেজ্রিওয়ালকে অব্যাহতি দিলেও হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণে তিনি ব্যথিত।
  • বিচারপতি স্বর্ণকান্ত শর্মাকে মামলা থেকে সরে দাঁড়ানোর আবেদন জানিয়েছেন সাবেক মুখ্যমন্ত্রী।
  • সিবিআই হাইকোর্টে ট্রায়াল কোর্টের রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়েছে।
  • পরবর্তী শুনানি এবং বিচারপতির সিদ্ধান্তের ওপর মামলার ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *