মগজ নেই, নেই হৃদপিণ্ড; রক্ত নয়, শরীরে বয় সমুদ্রের জল! প্রকৃতির এই অদ্ভুত সৃষ্টিকে চেনেন কি?

মগজ নেই, নেই হৃদপিণ্ড; রক্ত নয়, শরীরে বয় সমুদ্রের জল! প্রকৃতির এই অদ্ভুত সৃষ্টিকে চেনেন কি?

প্রকৃতির সৃষ্টি সত্যিই রহস্যময়। সাধারণত প্রাণিজগতে বেঁচে থাকার জন্য মস্তিষ্ক এবং হৃৎপিণ্ড অপরিহার্য অঙ্গ হিসেবে বিবেচিত হয়। কিন্তু সমুদ্রের তলদেশে এমন এক বিস্ময়কর প্রাণীর বাস যার কোনো মস্তিষ্ক নেই, এমনকি নেই কোনো হৃৎপিণ্ড। অথচ এই প্রতিকূলতার মধ্যেই তারা অত্যন্ত বুদ্ধিমত্তার সাথে নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রেখেছে। এই অদ্ভুত প্রাণীটি হলো ‘স্টারফিশ’ বা নক্ষত্র মাছ।

রক্ত নয় শরীরে বইছে সমুদ্রের জল

স্টারফিশের শরীরে মানুষের মতো লাল রক্ত প্রবাহিত হয় না। এর পরিবর্তে এরা সমুদ্রের জলকেই জীবনধারা হিসেবে ব্যবহার করে। এদের শরীরে একটি বিশেষ ‘ওয়াটার ভাস্কুলার সিস্টেম’ (Water Vascular System) রয়েছে। এই প্রক্রিয়ায় সমুদ্রের জল শরীরের বিভিন্ন অংশে অক্সিজেন এবং পুষ্টি উপাদান সরবরাহ করে। রক্ত সঞ্চালন করার জন্য কোনো হৃদযন্ত্রের প্রয়োজন পড়ে না বলেই এটি প্রকৃতির এক অনন্য সৃষ্টি।

মস্তিষ্কহীন জীবনের বুদ্ধিমত্তা

আশ্চর্যের বিষয় হলো, কেন্দ্রীয় মস্তিষ্ক না থাকা সত্ত্বেও স্টারফিশ অত্যন্ত সুশৃঙ্খলভাবে চলাফেরা করতে পারে। এদের মুখের চারপাশে একটি স্নায়ু বলয় (Nerve Ring) থাকে, যা শরীরের সমস্ত নড়াচড়া নিয়ন্ত্রণ করে। এছাড়া এদের প্রতিটি বাহুর প্রান্তে ছোট ছোট চোখ থাকে যা আলো এবং ছায়ার পার্থক্য বুঝতে সাহায্য করে। এর মাধ্যমে তারা শিকারের অবস্থান ও গতিবিধি শনাক্ত করে।

অদ্ভুত পুনরুৎপাদন ক্ষমতা

স্টারফিশের সবচেয়ে শক্তিশালী দিক হলো এদের পুনরুৎপাদন ক্ষমতা। যদি কোনো কারণে এদের শরীরের কোনো বাহু বা অংশ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়, তবে এরা তা পুনরায় তৈরি করে নিতে পারে। কিছু প্রজাতির স্টারফিশ এতটাই শক্তিশালী যে শরীরের বিচ্ছিন্ন হওয়া ছোট একটি অংশ থেকেও একটি পূর্ণাঙ্গ দেহ তৈরি করতে সক্ষম।

জলের চাপে পথচলা

স্টারফিশের দেহের নিচে শত শত ছোট টিউব পা (Tube Feet) থাকে। এরা কোনো পেশিশক্তির চেয়ে জলের চাপ ব্যবহার করে সমুদ্রের তলদেশে অত্যন্ত ধীরগতিতে চলাচল করে। মূলত হাইড্রোলিক সিস্টেমের মতো এই কৌশল ব্যবহার করেই তারা পাথরের গায়ে আটকে থাকে বা শিকার ধরে।

কোটি কোটি বছর ধরে বিবর্তনের ধারায় কোনো জটিল অঙ্গ ছাড়াই এই প্রাণী যেভাবে টিকে আছে, তা বিজ্ঞানীদের কাছে আজও এক বড় বিস্ময়।

একঝলকে

  • স্টারফিশের শরীরে কোনো মস্তিষ্ক বা হৃৎপিণ্ড নেই।
  • এদের শরীরে রক্তের বদলে সমুদ্রের জল প্রবাহিত হয়।
  • স্নায়ু বলয়ের মাধ্যমে এরা শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ নিয়ন্ত্রণ করে।
  • বিচ্ছিন্ন হওয়া দেহাংশ পুনরায় গজানোর ক্ষমতা এদের রয়েছে।
  • জলের চাপের মাধ্যমে এরা টিউব পায়ের সাহায্যে চলাচল করে।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *