অন্ধবিশ্বাসের বলি ১৪ বছরের কিশোর: ওঝার কথায় গঙ্গার জলে ১২ ঘণ্টা ‘জলসমাধি’, মর্মান্তিক মৃত্যু

অন্ধবিশ্বাসের বলি ১৪ বছরের কিশোর: ওঝার কথায় গঙ্গার জলে ১২ ঘণ্টা ‘জলসমাধি’, মর্মান্তিক মৃত্যু

আধুনিক চিকিৎসা বিজ্ঞানকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে একবিংশ শতাব্দীতেও অন্ধবিশ্বাসের করুণ বলি হতে হলো ১৪ বছরের এক কিশোরকে। বিষধর সাপের কামড়ে আক্রান্ত ওই কিশোরকে হাসপাতালে নেওয়ার পরিবর্তে তান্ত্রিকের ঝাড়ফুঁকের ওপর ভরসা রাখাই কাল হলো। বিহারের এই মর্মান্তিক ঘটনাটি আমাদের সমাজব্যবস্থায় বিদ্যমান কুসংস্কারের শিকড় কতটা গভীর, তা আবারও চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিল।

ঘটনার প্রেক্ষাপট ও তান্ত্রিকের ভ্রান্ত পরামর্শ

বাড়িতে কাজ করার সময় হঠাৎ বিষধর সাপ কামড় দেয় ওই কিশোরকে। যন্ত্রণায় ছটফট করতে থাকা কিশোরকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন থাকলেও তার পরিবার স্থানীয় এক তান্ত্রিকের শরণাপন্ন হয়। সেই তান্ত্রিক দাবি করেন, অলৌকিক ক্ষমতাবলে তিনি শরীর থেকে বিষ নামিয়ে দিতে পারবেন। তান্ত্রিকের পরামর্শ ছিল, কিশোরকে সারারাত গঙ্গার পবিত্র জলে ডুবিয়ে রাখলে গঙ্গার প্রভাবে শরীরের বিষ নেমে যাবে এবং সে পুনরায় জীবন ফিরে পাবে।

১২ ঘণ্টার অমানবিক যন্ত্রণা ও মৃত্যু

তান্ত্রিকের কথাকে বেদবাক্য মেনে পরিবারের সদস্যরা কিশোরটিকে কলাগাছের ভেলায় বেঁধে গঙ্গার জলে ভাসিয়ে দেন। প্রায় ১২ ঘণ্টা ধরে হাড়কাঁপানো ঠান্ডার মধ্যে জলের ওপরই পড়ে থাকে ওই কিশোর। একদিকে শরীরে ছড়িয়ে পড়া বিষ, অন্যদিকে দীর্ঘ সময় জলে ভিজে থাকায় শ্বাসকষ্ট ও শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হতে থাকে। পরদিন সকালে কিশোরের দেহে কোনো স্পন্দন না পেয়ে আতঙ্কিত পরিবার তাকে তড়িঘড়ি হাসপাতালে নিয়ে যায়।

চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণ ও স্থানীয় ক্ষোভ

হাসপাতালের চিকিৎসকরা পরীক্ষা করার পর কিশোরটিকে মৃত বলে ঘোষণা করেন। চিকিৎসকদের মতে, সময়মতো চিকিৎসা শুরু না হওয়ায় বিষ পুরো শরীরে ছড়িয়ে পড়েছিল। পাশাপাশি দীর্ঘ সময় জলে থাকার ফলে শ্বাসরোধ হয়ে মৃত্যু ত্বরান্বিত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এই ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং সচেতন মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। বিজ্ঞানমনস্ক সমাজকর্মীরা বলছেন, সঠিক সময়ে হাসপাতালে নিয়ে গেলে প্রাণটি হয়তো বাঁচানো সম্ভব হতো।

একঝলকে

  • ঘটনার স্থান: বিহারের গঙ্গা নদী উপকূলবর্তী এলাকা।
  • ভুক্তভোগী: ১৪ বছর বয়সী এক কিশোর।
  • মূল কারণ: সাপের কামড়ের পর হাসপাতালে না নিয়ে তান্ত্রিকের অপচিকিৎসা।
  • অন্ধবিশ্বাসের রূপ: তান্ত্রিকের কথায় ১২ ঘণ্টা গঙ্গা জলে ডুবিয়ে রাখা।
  • চিকিৎসকদের অভিমত: বিষক্রিয়া ও দীর্ঘ সময় জলে থাকায় শ্বাসরোধে মৃত্যু।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *