এপ্রিল মাসেই জুলাইয়ের দহন! আমেরিকায় তাপমাত্রার রেকর্ড ভাঙার মহাপ্রলয়, বিপদে ১৬ কোটি মানুষ

এপ্রিল মাসেই জুলাইয়ের দহন! আমেরিকায় তাপমাত্রার রেকর্ড ভাঙার মহাপ্রলয়, বিপদে ১৬ কোটি মানুষ

যুক্তরাষ্ট্রে এ সপ্তাহে আবহাওয়ার এক নজিরবিহীন পরিবর্তন ঘটতে যাচ্ছে। সাধারণ সময়ের তুলনায় অনেক আগেই দেশজুড়ে তীব্র দাবদাহ বা ‘হিট ডোম’-এর প্রভাব লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এপ্রিল মাসেই জুন-জুলাইয়ের মতো প্রচণ্ড গরম অনুভূত হওয়ায় জনজীবনে নাভিশ্বাস ওঠার উপক্রম হয়েছে। বিশেষ করে মিড-আটলান্টিক থেকে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল পর্যন্ত তাপমাত্রা ৯০ ডিগ্রি ফারেনহাইট বা ৩২.২২ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছাড়িয়ে যাওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।

তীব্র গরমের কারণ ও জলবায়ু পরিবর্তন

আবহাওয়াবিদদের মতে, এই অস্বাভাবিক আবহাওয়ার সরাসরি যোগসূত্র রয়েছে বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তনের সঙ্গে। যেখানে সাধারণত বছরের মাঝামাঝি সময়ে এমন আবহাওয়া দেখা যায়, সেখানে এপ্রিলের মাঝামাঝিতেই তাপমাত্রা রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। বার্থলে আর্থ-এর বিজ্ঞানীদের মতে, গত মার্চ মাসটি ছিল ইতিহাসের অন্যতম উষ্ণ মাস, যার ধারাবাহিকতা এখন এপ্রিলেও দেখা যাচ্ছে।

বিপজ্জনক প্রভাব ও জনস্বাস্থ্য ঝুঁকি

আমেরিকার এই অস্বাভাবিক উত্তাপ কেবল দৈনন্দিন জীবনযাত্রাকেই ব্যাহত করছে না, বরং আরও কিছু গুরুতর সমস্যা তৈরি করছে:

  • খরা পরিস্থিতির অবনতি: দক্ষিণ ও পূর্বাংশের রাজ্যগুলোতে ইতিমধ্যে খরা চলছে। আগামী দুই সপ্তাহ বৃষ্টির সম্ভাবনা ক্ষীণ হওয়ায় এই সংকট আরও ঘনীভূত হতে পারে।
  • বিশাল জনগোষ্ঠী আক্রান্ত: নিউ ইংল্যান্ড থেকে মিডওয়েস্ট পর্যন্ত প্রায় ১৬ কোটি মানুষ সরাসরি এই উচ্চ তাপমাত্রার শিকার হতে চলেছেন।
  • ভাঙতে পারে শতবর্ষের রেকর্ড: আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, আমেরিকার প্রায় ৬০০টি স্থানে গরমের পুরনো সব রেকর্ড ভেঙে যেতে পারে।

রাজধানী ওয়াশিংটনে চরম সতর্কতা

রাজধানী ওয়াশিংটন ডিসিসহ গুরুত্বপূর্ণ শহরগুলোতে বুধবার এবং বৃহস্পতিবার তাপমাত্রা চরমে পৌঁছাতে পারে। ১৮৭২ সাল থেকে সংরক্ষিত তথ্য অনুযায়ী, ডিসি-তে এপ্রিল মাসের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল ৯৫ ডিগ্রি ফারেনহাইট (২০০২ সালে)। এ বছর সেই রেকর্ডও হুমকির মুখে। একইভাবে বাল্টিমোরে ১৯৬০ সালের ৯৪ ডিগ্রি ফারেনহাইটের রেকর্ডটি এ সপ্তাহে ভেঙে যাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে।

ভৌগোলিক বিস্তার

মঙ্গলবার থেকে এই গরমের তীব্রতা আরও বাড়বে এবং তা ক্রমশ পূর্ব দিকে ছড়িয়ে পড়বে। বুধবার ও বৃহস্পতিবারের মধ্যে তাপমাত্রা ৯০ ডিগ্রির মাঝামাঝি স্তরে পৌঁছে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিপরীতে আলাস্কা বা কানাডায় হাড়কাঁপানো শীত থাকলেও আমেরিকার মূল ভূখণ্ডের এই দাবদাহ অনেক বেশি তীব্র ও বিস্তৃত।

একঝলকে

  • আক্রান্ত মানুষ: প্রায় ১৬ কোটি।
  • রেকর্ড ভাঙার স্থান: ৬০০টিরও বেশি এলাকা।
  • সম্ভাব্য তাপমাত্রা: ৯০ ডিগ্রি ফারেনহাইটের বেশি।
  • সবচেয়ে উষ্ণ দিন: চলতি সপ্তাহের বুধবার ও বৃহস্পতিবার।
  • প্রধান কারণ: জলবায়ু পরিবর্তন ও অস্বাভাবিক মার্চ মাসের ধারাবাহিকতা।
  • সংকটের প্রকৃতি: তীব্র দাবদাহের পাশাপাশি খরা পরিস্থিতির অবনতি।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *