ডিভোর্সের বিনিময়ে ১৭০ কোটির সোনা! সুপ্রিম কোর্টে চরম ধমক খেলেন মহিলা— ‘এমন মামলা অঙ্কুরেই বিনাশ করা উচিত’

ডিভোর্সের বিনিময়ে ১৭০ কোটির সোনা! সুপ্রিম কোর্টে চরম ধমক খেলেন মহিলা— ‘এমন মামলা অঙ্কুরেই বিনাশ করা উচিত’

সম্প্রতি ঘরোয়া হিংসার মামলা নিয়ে এক নজিরবিহীন পর্যবেক্ষণ দিয়েছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত। ডিভোর্সের পর সমঝোতা হয়ে যাওয়ার পরেও স্বামীর কাছ থেকে ১৭০ কোটি টাকার সোনা দাবি করায় এক মহিলার প্রতি তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেছে সুপ্রিম কোর্ট। আদালতের মতে, ভিত্তিহীন অভিযোগের ওপর ভিত্তি করে তৈরি এমন মামলাগুলোকে শুরুতেই কঠোরভাবে দমন করা উচিত।

ঘটনার প্রেক্ষাপট ও অবিশ্বাস্য দাবি

২০০০ সালে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়া এই দম্পতি ২০২২-২৩ সাল থেকে আলাদা থাকতে শুরু করেন। ২০২৪ সালের মে মাসে পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে তাঁদের বিবাহবিচ্ছেদের প্রক্রিয়া শুরু হয়। সেই সময় ১.৫ কোটি টাকার বিনিময়ে চূড়ান্ত রফাদফা হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে ওই মহিলা নতুন করে ঘরোয়া হিংসার মামলা ঠুকে দেন এবং দাবি করেন যে, ডিভোর্সের বিনিময়ে তাঁকে ১২০ কোটি টাকার সোনার গয়না এবং ৫০ কোটি টাকার সোনার বিস্কুট দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল।

আদালতের বিশ্লেষণ ও হস্তক্ষেপ

দিল্ল হাই কোর্ট এই মামলা চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দিলেও সুপ্রিম কোর্ট সেই নির্দেশ বাতিল করে দেয়। বিচারপতিরা এই মামলার গভীরে গিয়ে দেখেন যে:

  • প্রমাণের অভাব: ১৭০ কোটি টাকার সোনার দাবির সপক্ষে কোনো লিখিত দলিল বা পূর্ববর্তী নথিতে উল্লেখ নেই।
  • আইনের অপব্যবহার: কর ফাঁকি দেওয়ার অজুহাতে বিষয়টি লিখিত আকারে রাখা হয়নি বলে মহিলা দাবি করলেও আদালত তাকে সরাসরি নাকচ করে দেয়।
  • সমঝোতা লঙ্ঘন: যখন ১.৫ কোটি টাকার বিনিময়ে রফাদফা হয়ে গিয়েছিল এবং উভয় পক্ষ অর্থ ও গয়না লেনদেন করেছিল, তখন কেন নতুন করে এই অভিযোগ তোলা হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে।

অনুচ্ছেদ ১৪২ প্রয়োগ ও চূড়ান্ত রায়

সুপ্রিম কোর্ট লক্ষ্য করেছে যে, দীর্ঘ বিবাহিত জীবনে এর আগে কখনো ঘরোয়া হিংসার অভিযোগ ওঠেনি। তাই এই মামলাটিকে স্রেফ হয়রানির উদ্দেশ্যে করা একটি ‘পরিকল্পিত পদক্ষেপ’ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। শীর্ষ আদালত স্পষ্ট জানিয়েছে, আবেগ দিয়ে ফৌজদারি মামলা চালানো যায় না। শেষ পর্যন্ত সংবিধানের ১৪২ নম্বর অনুচ্ছেদ প্রয়োগ করে আদালত এই বিয়ে বাতিল ঘোষণা করেছে। আদালতের মতে, এই সম্পর্কটি পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে এবং পুনরায় জোড়া লাগার কোনো সম্ভাবনা নেই।

বিচার ব্যবস্থার বার্তা

এই রায়ের মাধ্যমে আদালত একটি শক্তিশালী বার্তা দিয়েছে যে, ঘরোয়া হিংসা প্রতিরোধের আইন যেন ব্যক্তিগত স্বার্থসিদ্ধি বা প্রতিশোধ নেওয়ার অস্ত্র হিসেবে ব্যবহৃত না হয়। ভিত্তিহীন অভিযোগের মাধ্যমে আইনি প্রক্রিয়াকে দীর্ঘায়িত করা ন্যায়বিচারের পরিপন্থী।

একঝলকে

  • ২০২৪ সালে ১.৫ কোটি টাকায় চূড়ান্ত রফাদফা ও ডিভোর্সের সমঝোতা হয়।
  • পরবর্তীতে ওই মহিলা ১৭০ কোটি টাকার সোনা দাবি করে ঘরোয়া হিংসার মামলা করেন।
  • সুপ্রিম কোর্ট এই দাবিকে ভিত্তিহীন ও কাল্পনিক বলে প্রত্যাখ্যান করেছে।
  • আদালত সংবিধানের ১৪২ নম্বর অনুচ্ছেদ ব্যবহার করে বৈবাহিক সম্পর্ক সমাপ্ত ঘোষণা করেছে।
  • অযৌক্তিক ও প্রমাণহীন মামলা শুরুতেই বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছে সর্বোচ্চ আদালত।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *