বাংলায় রাহুল-ঝড়: উত্তর থেকে দক্ষিণ, হাত শিবিরের ভাগ্য ফেরাতে আজ তিন জেলায় ময়দানে নামছেন রাহুল গান্ধী

পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনে নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে এবং হারানো রাজনৈতিক আধিপত্য ফিরে পেতে মরিয়া হয়ে উঠেছে কংগ্রেস। কেরালা ও আসামের ভোট মিটতেই দলের শীর্ষ নেতা রাহুল গান্ধী এখন পশ্চিমবঙ্গের রণক্ষেত্রে। মঙ্গলবার উত্তর ও দক্ষিণবঙ্গের তিনটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল—মালদা, মুর্শিদাবাদ এবং রায়গঞ্জে (উত্তর দিনাজপুর) নির্বাচনী জনসভা করছেন তিনি। এবারের নির্বাচনে বামফ্রন্টের সাথে জোট ছাড়াই এককভাবে লড়াই করছে কংগ্রেস। তাদের মূল লক্ষ্য শূন্য থেকে ঘুরে দাঁড়িয়ে বিধানসভায় সম্মানজনক আসন সংখ্যা নিশ্চিত করা।
হারানো দুর্গ উদ্ধারের লড়াই
এক সময় উত্তর দিনাজপুর, মালদা এবং মুর্শিদাবাদ ছিল কংগ্রেসের অভেদ্য দুর্গ। কিন্তু ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে সংযুক্ত মোর্চা হিসেবে লড়াই করলেও কংগ্রেস ও বাম দলগুলো একটিও আসন জিততে পারেনি। ২০২১ সালের সেই শোচনীয় পরাজয় কাটিয়ে এবার নতুন কৌশল নিয়েছে দল। বিশেষ করে উত্তরবঙ্গের জেলাগুলোতে যেখানে একসময় কংগ্রেসের একচেটিয়া আধিপত্য ছিল, সেখানে পুনরায় সাধারণ মানুষের আস্থা অর্জনই রাহুল গান্ধীর সফরের প্রধান উদ্দেশ্য।
উত্তর দিনাজপুরে হারানো আধিপত্য ফেরানোর চ্যালেঞ্জ
রাহুল গান্ধীর প্রথম জনসভা উত্তর দিনাজপুরের রায়গঞ্জ (রানিগঞ্জ এলাকা) অঞ্চলে। ২০১৬ সালেও এই জেলার ৯টি আসনের মধ্যে ৫টিতে জিতেছিল কংগ্রেস-বাম জোট। কিন্তু ২০২১ সালে তৃণমূল কংগ্রেস ৭টি এবং বিজেপি ২টি আসন দখল করায় কংগ্রেস সম্পূর্ণ ধূলিসাৎ হয়ে যায়। রায়গঞ্জের এই সভায় রাহুল গান্ধী মূলত গ্রামীণ ও আদিবাসী ভোটব্যাংক লক্ষ্য করে প্রচার চালাচ্ছেন।
মালদার সমীকরণ ও মুসলিম ভোটব্যাংক
ফজলি আমের জন্য বিখ্যাত মালদা জেলা এক সময় গনি খান চৌধুরীর হাত ধরে কংগ্রেসের শক্ত ঘাঁটি ছিল। তবে বর্তমানে সেই সমীকরণ বদলেছে।
- ২০২১ সালে মালদার ১২টি আসনের মধ্যে তৃণমূল ৮টি এবং বিজেপি ৪টি জিতেছিল।
- ২০১৬ সালে যেখানে কংগ্রেস একাই ৮টি আসন পেয়েছিল, ২০২১ সালে তা শূন্যে নেমে আসে।সংখ্যালঘু অধ্যুষিত এই জেলায় তৃণমূলের একক আধিপত্যে ফাটল ধরিয়ে পুরনো ভোটারদের নিজেদের দিকে টানাই এখন কংগ্রেসের বড় চ্যালেঞ্জ।
মুর্শিদাবাদে অধীর চৌধুরীর নেতৃত্ব ও রাহুলের সফর
দক্ষিণবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলায় রাহুল গান্ধীর তৃতীয় জনসভাটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। এই জেলায় বিধানসভার ২২টি আসন রয়েছে।
- ২০২১ সালে তৃণমূল কংগ্রেস এখানে অভাবনীয় পারফরম্যান্স করে ২০টি আসন দখল করেছিল।
- কংগ্রেসের দীর্ঘদিনের নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরীকে এবার এই জেলায় বাড়তি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।ভোটার তালিকা নিয়ে বিতর্কের আবহে মুর্শিদাবাদে রাহুলের উপস্থিতি দলীয় কর্মীদের মনোবল চাঙ্গা করবে বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।
তৃণমূল ও বিজেপির দ্বিমুখী লড়াইয়ে তৃতীয় শক্তির উত্থান
পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতি বর্তমানে তৃণমূল কংগ্রেস ও বিজেপির মেরুকরণে বিভক্ত। এই দ্বিমুখী লড়াইয়ের মাঝে কংগ্রেস নিজেদের তৃতীয় বিকল্প হিসেবে তুলে ধরতে চাইছে। বিশেষ করে টিকিট বণ্টনে জাতিগত ও আঞ্চলিক সমীকরণ মাথায় রেখে কংগ্রেস এবার সুসংগঠিতভাবে এগোচ্ছে। রাহুল গান্ধীর এই ঝটিকা সফর কংগ্রেসের ভোট শতাংশ বৃদ্ধিতে কতটা সহায়ক হয়, এখন সেটাই দেখার।
একঝলকে
- প্রচার এলাকা: মালদা, মুর্শিদাবাদ ও রায়গঞ্জ।
- প্রধান লক্ষ্য: ২০২১-এর শূন্য আসন থেকে ঘুরে দাঁড়ানো এবং পুরনো দুর্গ উদ্ধার।
- পুরনো পরিসংখ্যান: ২০১৬ সালে এই তিন জেলায় কংগ্রেসের শক্ত অবস্থান থাকলেও ২০২১ সালে তা শূন্য হয়ে যায়।
- মূল নেতৃত্ব: রাহুল গান্ধীর পাশাপাশি মুর্শিদাবাদে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছেন অধীর রঞ্জন চৌধুরী।
- নির্বাচনী কৌশল: এককভাবে লড়াই করে নিজেদের ভোটব্যাংক পুনর্গঠন করা।