১.২৫ কোটি দাও তবেই মিলবে মুক্তি! ৭ মাসের বিয়েতে নিঃস্ব স্বামী, সুপ্রিম কোর্টের কড়া নির্দেশ

১.২৫ কোটি দাও তবেই মিলবে মুক্তি! ৭ মাসের বিয়েতে নিঃস্ব স্বামী, সুপ্রিম কোর্টের কড়া নির্দেশ

সুপ্রিম কোর্টে সম্প্রতি একটি বিবাহ বিচ্ছেদ মামলার শুনানিতে এক চাঞ্চল্যকর ও নজিরবিহীন বিতর্ক উঠে এসেছে। মাত্র ৭ মাস একসঙ্গে সংসার করার পর বিচ্ছেদের পথ বেছে নেওয়া এই দম্পতি আইনি লড়াইয়ে একে অপরকে টেক্কা দিতে গিয়ে শেষ পর্যন্ত বিষয়টি বিশাল আর্থিক লেনদেনের পর্যায়ে নিয়ে গেছেন। এই ঘটনাটি আধুনিক বৈবাহিক সম্পর্ক ও বিচ্ছেদের আইনি জটিলতাকে নতুন করে সামনে এনেছে।

মামলার প্রেক্ষাপট ও স্বামীর অভিযোগ

আদালতে স্বামীর আইনজীবী জানান যে, মাত্র ৭ মাসের বৈবাহিক জীবনে বিবাদের জেরে স্বামী ইতিমধ্যে স্ত্রীকে ১.৬৫ কোটি টাকা প্রদান করেছেন। স্বামীর পক্ষের দাবি অনুযায়ী, বিবাদের ফলে তার পরিবার চরম হেনস্থার শিকার হয়েছে। স্ত্রী ওই পরিবারের বিরুদ্ধে মোট ২১টি পৃথক মামলা দায়ের করেছেন, যার ফলে স্বামীর বাবা এবং বোনকে কারাবরণ পর্যন্ত করতে হয়েছে। স্বামীর আইনজীবীর মতে, বিপুল পরিমাণ অর্থ দেওয়ার পর স্বামীর আর্থিক অবস্থা এখন তলানিতে, তাই নতুন করে কোনো দাবি মেটানো তার পক্ষে আসাম্ভব।

শেক্সপিয়রের শাইলক চরিত্রের অবতারণা

শুনানি চলাকালীন স্ত্রীর ক্রমবর্ধমান আর্থিক দাবির পরিপ্রেক্ষিতে স্বামীর আইনজীবী উইলিয়াম শেক্সপিয়রের বিখ্যাত নাটক ‘দ্য মার্চেন্ট অফ ভেনিস’-এর নিষ্ঠুর চরিত্র ‘শাইলক’-এর উদাহরণ টানেন। তিনি আদালতকে বলেন, স্ত্রী এখন শাইলকের মতো আচরণ করছেন, যে ঋণের বিনিময়ে মানুষের শরীর থেকে ‘এক পাউন্ড মাংস’ দাবি করেছিল। স্বামীর আর কোনো অর্থ দেওয়ার ক্ষমতা নেই বলে তিনি আদালতের কাছে আরজি জানান।

স্ত্রীর পক্ষের পাল্টা যুক্তি

অন্যদিকে স্ত্রীর আইনজীবীর দাবি ছিল ভিন্ন। তিনি আদালতকে জানান যে, বিষয়টি কেবল নগদ অর্থের নয়। স্ত্রীর প্রায় ১ কেজি ওজনের স্বর্ণালঙ্কার শ্বশুরবাড়ির সদস্যদের কাছে ছিল, যা তারা বন্ধক রেখেছেন। পূর্বের চুক্তি অনুযায়ী স্ত্রীকে সেই ১ কেজি সোনা ফেরত দেওয়ার কথা থাকলেও তা করা হয়নি। তাই নগদ অর্থের পাশাপাশি নিজের প্রাপ্য সোনা ফেরত পাওয়ার অধিকার স্ত্রীর রয়েছে বলে দাবি করা হয়।

সুপ্রিম কোর্টের চূড়ান্ত রায় ও বিশ্লেষণ

উভয় পক্ষের দলিলাদি ও যুক্তি শোনার পর দেশের সর্বোচ্চ আদালত এই মামলার চূড়ান্ত নিষ্পত্তি করেন। আদালত প্রথমে স্বামীকে ১ কেজি সোনা ফেরত দেওয়ার নির্দেশ দেন। কিন্তু স্বামী যখন জানান যে তিনি আর কোনো খরচ বহনে সক্ষম নন, তখন আদালত সেই সোনার মূল্যের সমপরিমাণ অর্থ প্রদানের নির্দেশ জারি করেন। সুপ্রিম কোর্ট স্পষ্টভাবে জানিয়ে দেয় যে, স্বামীকে সোনার মূল্য বাবদ আরও ১.২৫ কোটি টাকা স্ত্রীকে দিতে হবে। এই বিপুল পরিমাণ অর্থ পরিশোধ করার পরেই কেবল ওই দম্পতি আইনত বিবাহ বিচ্ছেদের অনুমতি পাবেন।

এই রায়টি নির্দেশ করে যে, বৈবাহিক বিবাদে দেনমোহর বা খোরপোশের পাশাপাশি স্ত্রীর ব্যক্তিগত সম্পদ (যেমন সোনা বা গয়না) ফেরত দেওয়া বা তার সমমূল্য পরিশোধ করা বাধ্যতামূলক। আর্থিক সঙ্গতি না থাকার অজুহাতে আইনি দায়বদ্ধতা থেকে মুক্তি পাওয়া সম্ভব নয়।

একঝলকে

  • দাম্পত্যের স্থায়িত্ব: মাত্র ৭ মাস।
  • স্বামী আগে পরিশোধ করেছেন: ১.৬৫ কোটি টাকা।
  • স্ত্রীর দায়ের করা মোট মামলা: ২১টি।
  • বিবাদের মূল কারণ: ১ কেজি সোনা যা শ্বশুরবাড়িতে ছিল।
  • সুপ্রিম কোর্টের নতুন নির্দেশ: সোনার পরিবর্তে আরও ১.২৫ কোটি টাকা দিতে হবে।
  • বিচ্ছেদের শর্ত: পুরো টাকা পরিশোধ করলেই মিলবে আইনি বিবাহ বিচ্ছেদ।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *