বছরে দু’বার বোর্ড পরীক্ষা! CBSE-র নতুন নীতিতে নম্বর বাড়ানোর সুযোগ কীভাবে পাবেন? জানুন বিস্তারিত

ভারতের বর্তমান শিক্ষাব্যবস্থায় কয়েক দশকের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য ভেঙে সেন্ট্রাল বোর্ড অফ সেকেন্ডারি এডুকেশন (সিবিএসই) প্রবর্তন করেছে ‘বছরে দুইবার পরীক্ষা’র নিয়ম। আগামী এপ্রিলেই এই নতুন পদ্ধতির অধীনে প্রথম দফার পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশিত হতে চলেছে। এরপর মে মাসে দ্বিতীয় দফার পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। তবে এই বৈপ্লবিক পরিবর্তন শিক্ষার্থীদের মানসিক চাপ কমাবে নাকি শিক্ষক ও অভিভাবকদের ওপর বাড়তি বোঝা চাপিয়ে দেবে, তা নিয়ে দেশজুড়ে বড় ধরনের বিতর্ক শুরু হয়েছে।
নতুন পদ্ধতির মূল পরিবর্তনসমূহ
জাতীয় শিক্ষানীতি (NEP 2020)-এর আলোকে তৈরি এই ব্যবস্থায় বেশ কিছু নতুন দিক উন্মোচিত হয়েছে:
- দুবার সুযোগ: শিক্ষার্থীরা বছরে দুবার বোর্ড পরীক্ষায় বসার সুযোগ পাবে।
- সেরা স্কোর গ্রহণ: দুই পরীক্ষার মধ্যে যেটিতে শিক্ষার্থী বেশি নম্বর পাবে, সেটিকেই চূড়ান্ত ফলাফল হিসেবে বিবেচনা করা হবে।
- ঐচ্ছিক ব্যবস্থা: দ্বিতীয়বার পরীক্ষায় অংশগ্রহণ বাধ্যতামূলক নয়, এটি সম্পূর্ণ শিক্ষার্থীর ইচ্ছার ওপর নির্ভর করবে।
- সিলেবাস অপরিবর্তিত: পরীক্ষার ধরনে পরিবর্তন এলেও মূল সিলেবাসে কোনো বদল আনা হয়নি।
শিক্ষকদের ওপর বাড়তি কাজের চাপ
নতুন এই শিক্ষাবর্ষের সূচি শিক্ষকদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফেব্রুয়ারির পরীক্ষার খাতা মূল্যায়ন শেষ হতে না হতেই মে মাসে দ্বিতীয় পরীক্ষার প্রস্তুতি নিতে হচ্ছে। শিক্ষাবিদদের মতে, ইনভিজিলেশন, উত্তরপত্র মূল্যায়ন এবং একই সঙ্গে নতুন ব্যাচের ক্লাস নেওয়া—সব মিলিয়ে শিক্ষকরা চরম ক্লান্তির মুখে পড়তে পারেন। গ্রীষ্মের ছুটির সময়েও কাজের এই ধারাবাহিকতা তাদের ব্যক্তিগত ও পেশাগত ভারসাম্যের ওপর প্রভাব ফেলবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
শিক্ষার্থীদের দ্বিমুখী সংকট ও একাদশ শ্রেণির পড়াশোনা
সাধারণত দশম শ্রেণির পরীক্ষা শেষ হওয়ার পরপরই স্কুলগুলোতে একাদশ শ্রেণির ক্লাস শুরু হয়ে যায়। এখন মে মাসে দ্বিতীয়বার পরীক্ষা দিতে চাওয়া শিক্ষার্থীদের জন্য বড় সমস্যা তৈরি হয়েছে। তাদের একদিকে যেমন দশম শ্রেণির রিভিশন দিতে হচ্ছে, অন্যদিকে একাদশ শ্রেণির নতুন পাঠ্যক্রম অনুসরণ করতে হচ্ছে। এছাড়া প্রি-বোর্ড পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে অনেক সময় একাদশ শ্রেণির গ্রুপ নির্ধারণ করা হয়। চূড়ান্ত ফলাফলের পর যদি কাউকে বিভাগ পরিবর্তন করতে হয়, তবে মূল্যবান সময় নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকছে।
অভিভাবকদের আর্থিক দুশ্চিন্তা
দুইবার পরীক্ষার এই পদ্ধতি মধ্যবিত্ত পরিবারের ওপর নতুন করে অর্থনৈতিক চাপ সৃষ্টি করেছে। দ্বিতীয় দফার প্রস্তুতির জন্য শিক্ষার্থীদের বাড়তি কোচিং বা টিউশন ফি দিতে হচ্ছে। এছাড়া প্রতিবার পরীক্ষার জন্য আলাদা ফি এবং যাতায়াত খরচ অভিভাবকদের চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ইতিবাচক বনাম নেতিবাচক প্রভাব
বিশেষজ্ঞদের একটি অংশ মনে করেন, গণিত বা বিজ্ঞানের মতো কঠিন বিষয়ে নম্বর উন্নয়নের জন্য এটি একটি দারুণ সুযোগ। এতে ফেল করার ভয় বা এক বছরেই সব শেষ হয়ে যাওয়ার মানসিক চাপ কমবে। অন্যদিকে, শিক্ষার্থীদের একাংশের মতে, মে মাসের প্রচণ্ড দাবদাহে পরীক্ষা দেওয়ার চেয়ে ফেব্রুয়ারিতে একবার পরীক্ষা দিয়ে গ্রীষ্মের ছুটি উপভোগ করাই বেশি স্বস্তিদায়ক।
একঝলকে
- সিবিএসই এখন বছরে দুবার বোর্ড পরীক্ষা নেওয়ার নীতি গ্রহণ করেছে।
- দুই পরীক্ষার মধ্যে প্রাপ্ত সর্বোচ্চ নম্বরটি চূড়ান্ত হিসেবে গণ্য হবে।
- দ্বিতীয় দফার পরীক্ষা মে মাসে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
- শিক্ষকদের ওপর কাজের চাপ দ্বিগুণ হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
- দশম ও একাদশ শ্রেণির পড়াশোনা একই সঙ্গে সামলানো শিক্ষার্থীদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ।
- অতিরিক্ত কোচিং ও পরীক্ষার ফি বাবদ অভিভাবকদের খরচ বাড়বে।