নির্বাচনী আবহে ‘বিস্ফোরক’ ফাঁস! নজরদারিতে অভিষেকের স্ত্রী? ফাঁস হওয়া মেসেজে তোলপাড় বাংলা

নির্বাচনী আবহে ‘বিস্ফোরক’ ফাঁস! নজরদারিতে অভিষেকের স্ত্রী? ফাঁস হওয়া মেসেজে তোলপাড় বাংলা

পশ্চিমবঙ্গের নির্বাচনী আবহে চাঞ্চল্যকর মোড় নিল তৃণমূল কংগ্রেসের একটি দাবি। শাসকদলের অভিযোগ, বিরোধীদের হেনস্থা করতে নির্বাচন কমিশন পক্ষপাতমূলক আচরণ করছে। সম্প্রতি তৃণমূল দুটি হোয়াটসঅ্যাপ স্ক্রিনশট প্রকাশ করেছে, যেখানে পুলিশ ও নির্বাচনী ব্যয় পর্যবেক্ষকদের নির্দিষ্টভাবে তৃণমূলের শীর্ষ নেতা এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্ত্রীকে তল্লাশির নির্দেশ দিতে দেখা যাচ্ছে। যদিও এই স্ক্রিনশটগুলোর সত্যতা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

নজরদারিতে তৃণমূলের হেভিওয়েট ও পরিবার

তৃণমূলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, ফাঁস হওয়া বার্তায় স্পষ্ট নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বাদে বাকি সমস্ত নিরাপত্তা পাওয়া তৃণমূল মন্ত্রী ও নেতাদের গাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়। বিশেষত, অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর স্ত্রীর ওপর কড়া নজরদারি রাখার কথা উল্লেখ করা হয়েছে ওই বার্তায়।

তৃণমূল নেতৃত্বের প্রশ্ন, যেখানে বিজেপি নেতারা কেন্দ্রীয় নিরাপত্তা নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন, সেখানে কেন কেবল বেছে বেছে শাসকদলকে নিশানা করা হচ্ছে? তৃণমূল মুখপাত্র কুণাল ঘোষ সাংবাদিক বৈঠকে তীব্র ক্ষোভ উগরে দিয়ে বলেন, যদি তল্লাশি চালাতেই হয় তবে অমিত শাহের হেলিকপ্টার ও বিজেপি নেতাদের গাড়িও কেন পরীক্ষা করা হবে না?

বহিরাজ্য থেকে নগদ টাকা প্রবেশের আশঙ্কা

প্রকাশ্যে আসা স্ক্রিনশট অনুযায়ী, ঝাড়খণ্ড, বিহার এবং নেপাল সীমান্ত দিয়ে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ পশ্চিমবঙ্গে ঢোকার সম্ভাবনা রয়েছে। বার্তায় বলা হয়েছে যে, পুরুলিয়া, ইসলামপুর ও পূর্ণিয়া সীমান্ত দিয়ে এই টাকা আসতে পারে। এছাড়া নদিয়া, বসিরহাট, ডায়মন্ড হারবার ও লালবাগের মতো নির্দিষ্ট কিছু এলাকায় চলা মেডিক্যাল ক্যাম্পগুলোতেও তল্লাশি চালানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

স্ক্রিনশট ঘিরে ঘনীভূত রহস্য

প্রকাশিত বার্তায় ‘অভিষেক’ নামটি দুভাবে লেখা হয়েছে— একবার ‘Abhishek’ এবং একবার ‘Avishek’। কোথাও কোনো পদবি উল্লেখ করা হয়নি। ফলে এই নির্দিষ্ট নির্দেশটি আদতে কার জন্য, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে। তৃণমূলের দাবি, ঝাড়খণ্ড বা বিহার থেকে যদি টাকা আসে, তবে সেই রাজ্যগুলোর সীমান্তেই কেন তা আটকানো হচ্ছে না? বাংলার মাটিতে ঢোকার জন্য কেন অপেক্ষা করছে কমিশন? এই প্রশ্ন তুলে একে রাজনৈতিক ষড়যন্ত্র হিসেবেই দেখছে ঘাসফুল শিবির।

প্রশাসনিক প্রতিক্রিয়া

এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগের বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও এখনো পর্যন্ত তাদের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি মেলেনি। তবে পুলিশ পর্যবেক্ষক ও ফ্লাইং স্কোয়াড (FST)-কে এই অভিযানে কেন্দ্রীয় বাহিনীর সাহায্য নিতে বলা হয়েছে বলে স্ক্রিনশটে দাবি করা হয়েছে।

একঝলকে

স্ক্রিনশটের সত্যতা এখনো যাচাই করা হয়নি এবং কমিশনের পক্ষ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া আসেনি।

তৃণমূলের দাবি অনুযায়ী, হোয়াটসঅ্যাপ বার্তার মাধ্যমে দলীয় নেতাদের হেনস্থার ছক কষছে কমিশন।

মুখ্যমন্ত্রী বাদে সমস্ত তৃণমূল মন্ত্রী ও নেতার গাড়িতে তল্লাশির নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের স্ত্রীকে কেন্দ্র করে বিশেষ নজরদারির কথা উল্লেখ রয়েছে ওই বার্তায়।

বিহার, ঝাড়খণ্ড ও নেপাল থেকে নগদ টাকা ঢোকার আশঙ্কায় নাকা তল্লাশির নির্দেশ।

বিজেপি নেতাদের কেন তল্লাশি করা হচ্ছে না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে তৃণমূল।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *