সুস্থ থাকতে রোজ দুধ খাচ্ছেন? সতর্ক হোন! আপনার অজান্তেই শরীরে দানা বাঁধছে না তো এই মরণব্যাধি?

সুস্থ থাকতে দুধের কোনো বিকল্প নেই—এই ধারণা আমাদের সমাজে বেশ প্রচলিত। তবে সাম্প্রতিক কিছু গবেষণায় উঠে এসেছে এক চাঞ্চল্যকর তথ্য। নিয়মিত এবং অতিরিক্ত পরিমাণে দুগ্ধজাত পণ্য বিশেষ করে দুধ পানের সঙ্গে পারকিনসন নামক স্নায়বিক রোগের ঝুঁকির একটি যোগসূত্র খুঁজে পেয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। চিকিৎসকদের মতে, এই সম্পর্কটি সরাসরি কারণ না হলেও অবহেলার মতো বিষয় নয়।
গবেষণার ফলাফল ও পরিসংখ্যান
হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির দীর্ঘ ২৫ বছরের এক গবেষণায় নার্স এবং স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের ডাটা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, যারা প্রতিদিন অন্তত তিনবার বা তার বেশি লো-ফ্যাট বা স্কিমড মিল্ক পান করেন, তাদের ক্ষেত্রে পারকিনসন রোগের ঝুঁকি প্রায় ৩৪ শতাংশ বেশি। আমেরিকান ক্যান্সার সোসাইটির অন্য একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে, পুরুষদের ক্ষেত্রে এই ঝুঁকির হার ১.৮ গুণ এবং নারীদের ক্ষেত্রে ১.৩ গুণ বেশি।
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ড. সাদিক পাঠান জানিয়েছেন যে, ডেইরি প্রোডাক্টের অতিরিক্ত সেবন পুরুষদের মধ্যে ২০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত পারকিনসন রোগের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে।
দুধ কেন ঝুঁকির কারণ হতে পারে
গবেষকরা দুধের ক্ষতিকারক প্রভাবের পেছনে বেশ কিছু সম্ভাব্য কারণ চিহ্নিত করেছেন:
- কীটনাশকের উপস্থিতি: দুধে হেপ্টাক্লোর এপোক্সাইডের মতো কীটনাশকের অবশিষ্টাংশ থাকতে পারে, যা মস্তিষ্কের কোষের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর।
- গ্যালাকটোজের প্রভাব: দুধে থাকা গ্যালাকটোজ নামক উপাদানটি অতিরিক্ত মাত্রায় শরীরে প্রবেশ করলে স্নায়ুর ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
- গাট-ব্রেন কানেকশন: দুগ্ধজাত পণ্য আমাদের অন্ত্রের মাইক্রোবায়োমকে প্রভাবিত করতে পারে। অন্ত্রে তৈরি হওয়া বিশেষ কিছু প্রোটিন মস্তিষ্কে পৌঁছে স্নায়বিক রোগের ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে ধারণা করা হয়।
সতর্ক হওয়া প্রয়োজন যাদের
গবেষণা অনুযায়ী, যারা হোল মিল্ক বা পূর্ণ ননীযুক্ত দুধের চেয়ে লো-ফ্যাট বা ফ্যাটমুক্ত দুধ বেশি পান করেন, তাদের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি। তবে এর অর্থ এই নয় যে দুধ পান সম্পূর্ণ বন্ধ করে দিতে হবে। বিশেষজ্ঞরা সুষম ও পরিমিত খাদ্যাভ্যাসের ওপর জোর দিচ্ছেন।
পারকিনসন রোগের প্রাথমিক লক্ষণ
ভারতে পারকিনসন আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। এর প্রধান লক্ষণগুলো হলো:
- হাত বা আঙুল কাঁপা এবং শরীরের পেশিতে জড়তা।
- শারীরিক চলাফেরার গতি ধীর হয়ে যাওয়া।
- হাঁটাচলার ভারসাম্য বা অঙ্গবিন্যাস নষ্ট হওয়া।
- প্রাথমিক পর্যায়ে কোষ্ঠকাঠিন্য, ঘ্রাণশক্তি কমে যাওয়া এবং ঘুমের সমস্যা দেখা দেওয়া।
পারকিনসন একটি দুরারোগ্য ব্যাধি হলেও স্বাস্থ্যকর জীবনযাত্রা এবং খাদ্যাভ্যাসে ভারসাম্য বজায় রেখে এই ঝুঁকির মাত্রা কমিয়ে আনা সম্ভব।
একঝলকে
- অতিরিক্ত দুধ পানে পারকিনসন রোগের ঝুঁকি বাড়ে।
- লো-ফ্যাট ডেইরি প্রোডাক্ট গ্রহণে ৩৪ শতাংশ পর্যন্ত ঝুঁকি বৃদ্ধি পেতে পারে।
- পুরুষদের ক্ষেত্রে এই স্নায়বিক রোগের ঝুঁকি নারীদের তুলনায় বেশি।
- দুধে থাকা কীটনাশকের অবশিষ্টাংশ মস্তিষ্কের জন্য বিষক্রিয়া তৈরি করতে পারে।
- সুষম ও পরিমিত পরিমাণে দুগ্ধজাত খাবার গ্রহণ করাই নিরাপদ।