বাড়তে চলেছে লোকসভার আসন সংখ্যা! নারী শক্তি না কি রাজনীতির চাল? সংসদে বিশেষ অধিবেশন কাল

নারী শক্তি বন্দন অধিনিয়াম বা নারী সংরক্ষণ বিল কার্যকর করার লক্ষ্যে কাল ১৬ এপ্রিল থেকে শুরু হচ্ছে সংসদের তিন দিনের বিশেষ অধিবেশন। ২০২৯ সালের লোকসভা নির্বাচনের আগেই নারীদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন নিশ্চিত করতে বদ্ধপরিকর মোদী সরকার। তবে এই প্রক্রিয়া বাস্তবায়নে লোকসভা ও বিধানসভা আসনগুলোর সীমানা পুনর্নির্ধারণ (Delimitation) করার পরিকল্পনা নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের সঙ্গে বিরোধী দলগুলোর সংঘাত চরম আকার ধারণ করেছে। বিশেষ করে দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলো এই পরিকল্পনার বিরুদ্ধে রীতিমতো যুদ্ধের ডাক দিয়েছে।
নারী ক্ষমতায়নে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ বার্তা
বিশেষ অধিবেশনের প্রাক্কালে দেশের নারীদের উদ্দেশে একটি খোলা চিঠি লিখেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি উল্লেখ করেছেন যে, ২০২৯ সালের সাধারণ নির্বাচন যদি পূর্ণ নারী সংরক্ষণের সাথে অনুষ্ঠিত হয়, তবে ভারতের গণতন্ত্র আরও শক্তিশালী ও প্রাণবন্ত হবে। প্রধানমন্ত্রীর মতে, নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে নারীদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ‘বিকसित ভারত’ গড়ার স্বপ্নকে ত্বরান্বিত করবে।
দক্ষিণের রাজ্যগুলোর ক্ষোভ ও প্রতিবাদের কারণ
সীমানা পুনর্নির্ধারণের এই উদ্যোগে সবথেকে বেশি আতঙ্কিত দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলো। তেলেঙ্গানার মুখ্যমন্ত্রী এ. রেবন্ত রেড্ডি এবং তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এম. কে. স্ট্যালিন কেন্দ্রের এই পদক্ষেপের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। তাদের আপত্তির মূল কারণগুলো হলো:
- রাজনৈতিক ভারসাম্যের অভাব: জনসংখ্যার ভিত্তিতে যদি লোকসভার আসন বাড়ানো হয়, তবে উত্তর ভারতের রাজ্যগুলোর রাজনৈতিক ক্ষমতা অত্যধিক বেড়ে যাবে।
- দক্ষিণের বঞ্চনা: দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলো সফলভাবে জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করেছে। এখন জনসংখ্যার ভিত্তিতে আসন বিন্যাস হলে ভালো কাজের পুরস্কার হিসেবে তারা রাজনৈতিক গুরুত্ব হারাবে, যা তাদের কাছে ‘অবিচার’ বলে মনে হচ্ছে।
- আঞ্চলিক ঐক্য: রেবন্ত রেড্ডি ইতিমধ্যেই অন্ধ্রপ্রদেশ, কর্ণাটক, কেরালা এবং পুদুচেরির মুখ্যমন্ত্রীদের নিয়ে একটি যৌথ কৌশল তৈরির আহ্বান জানিয়েছেন। স্ট্যালিন হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, তামিলনাড়ুর ওপর কোনো সিদ্ধান্ত জোর করে চাপিয়ে দিলে ব্যাপক আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।
আসন সংখ্যা বৃদ্ধি ও সংরক্ষণের সমীকরণ
সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, নারী সংরক্ষণ কার্যকর করতে হলে লোকসভার বর্তমান ৫৪৩টি আসন বাড়িয়ে প্রায় ৮৫০টি করতে হতে পারে। একইভাবে রাজ্য বিধানসভাগুলোর আসন সংখ্যাও বৃদ্ধি পাবে। সংবিধান সংশোধনী বিলের খসড়াটি ইতিমধ্যে সাংসদদের মধ্যে বিলি করা হয়েছে। তবে কংগ্রেস এই পদক্ষেপের স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। তাদের দাবি, বিলের উদ্দেশ্য যদি ‘বিভ্রান্তিকর’ হয়, তবে তা সংসদীয় গণতন্ত্রের জন্য বড় বিপদ ডেকে আনবে।
এনডিএ শিবিরের সমর্থন
বিরোধীদের আপত্তির মুখেও অনড় এনডিএ জোট। মহারাষ্ট্রের উপ-মুখ্যমন্ত্রী একনাথ শিন্ডে এই পদক্ষেপকে ‘ঐতিহাসিক’ এবং ভারতীয় গণতন্ত্রের ‘স্বর্ণালী অধ্যায়’ বলে অভিহিত করেছেন। অন্ধ্রপ্রদেশের মুখ্যমন্ত্রী এন. চন্দ্রবাবু নাইডুও নারী সংরক্ষণ আইনের সংশোধনীতে সব দলকে সমর্থন দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
একঝলকে
- অধিবেশনের সময়কাল: ১৬ এপ্রিল থেকে ১৯ এপ্রিল ২০২৪।
- মূল লক্ষ্য: ২০২৯ সালের আগে নারী সংরক্ষণ ও সীমানা পুনর্নির্ধারণ সম্পন্ন করা।
- আসন পরিবর্তন: লোকসভার আসন ৫৪৩ থেকে বেড়ে প্রায় ৮৫০ হওয়ার সম্ভাবনা।
- সংরক্ষণ: লোকসভা ও বিধানসভায় নারীদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন নিশ্চিত করা।
- বিরোধিতা: তামিলনাড়ু ও তেলেঙ্গানাসহ দক্ষিণ ভারতের রাজ্যগুলো জনসংখ্যাভিত্তিক আসন বিন্যাসের বিরুদ্ধে সরব।