সাবধান! ইনকাম ট্যাক্স রিটার্নে এবার দিতে হবে ২ নম্বর আর ২ ঠিকানা, না দিলেই বিপদ? জেনে নিন নতুন নিয়ম

সাবধান! ইনকাম ট্যাক্স রিটার্নে এবার দিতে হবে ২ নম্বর আর ২ ঠিকানা, না দিলেই বিপদ? জেনে নিন নতুন নিয়ম

আয়করদাতাদের জন্য কেন্দ্রীয় আয়কর দপ্তর ২০২৬-২৭ অ্যাসেসমেন্ট ইয়ারের (কর নির্ধারণী বর্ষ) নতুন গাইডলাইন প্রকাশ করেছে। গত সপ্তাহে আইটিআর-১ থেকে আইটিআর-৭ পর্যন্ত নতুন ফর্মগুলো বিজ্ঞপ্তি আকারে প্রকাশ করা হয়েছে। এবারের পরিবর্তনের মূল লক্ষ্য হলো কর প্রদানের প্রক্রিয়াকে আরও স্বচ্ছ, আধুনিক এবং ঝামেলামুক্ত করা। বিশেষ করে যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং তথ্য প্রদানের ক্ষেত্রে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ আপডেট আনা হয়েছে।

কেন চাওয়া হচ্ছে দুটি মোবাইল নম্বর ও দুটি ঠিকানা

নতুন আয়কর ফর্মের ‘পার্ট-এ’ বিভাগে করদাতার ব্যক্তিগত তথ্যের কলামে বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। আগে যেখানে একটি স্থায়ী ঠিকানা ও একটি মোবাইল নম্বর দিলেই চলত, এখন সেখানে ‘প্রাইমারি’ ও ‘সেকেন্ডারি’ বিকল্প যুক্ত করা হয়েছে।

  • যোগাযোগের নিশ্চয়তা: অনেক সময় করদাতার প্রধান মোবাইল নম্বরটি বন্ধ থাকে বা নেটওয়ার্কের বাইরে থাকে। ফলে দপ্তরের জরুরি নোটিশ বা রিফান্ডের বার্তা তাদের কাছে পৌঁছায় না। বিকল্প নম্বর থাকলে এই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঝুঁকি কমবে।
  • বাসস্থানের আপডেট: যারা পেশাগত কারণে ঘনঘন শহর পরিবর্তন করেন বা ভাড়াবাড়িতে থাকেন, তাদের জন্য দুটি ঠিকানার বিকল্প রাখা হয়েছে। এতে করে করদাতার সঙ্গে দপ্তরের দাপ্তরিক চিঠিপত্র আদান-প্রদান আরও নিশ্চিত হবে।

প্রতিনিধিদের জন্য সহজ নিয়ম

অনেক ক্ষেত্রে করদাতা নিজে রিটার্ন জমা না দিয়ে চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট বা পরিবারের কোনো সদস্যের মাধ্যমে ফাইল জমা দেন। আগে এই প্রতিনিধিদের প্যান, আধার এবং বিস্তারিত ব্যক্তিগত তথ্য দিতে হতো। নতুন নিয়মে এই প্রক্রিয়া অনেক সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে। এখন থেকে প্রতিনিধিদের শুধুমাত্র নাম, মোবাইল নম্বর এবং ইমেল আইডি দিলেই চলবে। এতে পেশাদারদের কাজের চাপ ও কাগজের কাজ অনেকটাই কমবে।

ক্যাপিটাল গেইন রিপোর্টিংয়ে স্বস্তি

শেয়ার বাজার বা সম্পত্তি বিক্রয় থেকে যারা আয় করেন, তাদের জন্য এবারের ফর্মটি কিছুটা সহজ করা হয়েছে। আগে ট্যাক্স হারের পরিবর্তনের কারণে সম্পদ বিক্রির সঠিক তারিখ এবং সেই সময়ের হার নিয়ে আলাদা করে হিসাব দিতে হতো। কিন্তু ২০২৬-২৭ অ্যাসেসমেন্ট ইয়ারে ট্যাক্স স্ল্যাবে কোনো পরিবর্তন না হওয়ায়, এখন আর ট্রান্সফারের তারিখ অনুযায়ী আলাদা করে বিস্তারিত হিসাব দেওয়ার প্রয়োজন পড়বে না। এটি করদাতাদের ‘ডুয়াল রিপোর্টিং’ বা দ্বৈত তথ্যের ঝামেলা থেকে মুক্তি দেবে।

সময়সীমা ও নতুন ধারণা

২০২৫-২৬ অর্থবর্ষের (১ এপ্রিল ২০২৫ থেকে ৩১ মার্চ ২০২৬) আয়ের হিসাব জমা দিতে হবে ২০২৬-২৭ অ্যাসেসমেন্ট ইয়ারে। এই রিটার্ন জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ৩১ জুলাই ২০২৬। উল্লেখ্য, ২০২৬ সালের ১ এপ্রিল থেকে ‘অ্যাসেসমেন্ট ইয়ার’ ধারণাটি বদলে গিয়ে এটি কেবল ‘ট্যাক্স ইয়ার’ হিসেবে পরিচিত হবে।

একঝলকে

  • নতুন গাইডলাইন: ২০২৬-২৭ কর নির্ধারণী বর্ষের জন্য আইটিআর ১-৭ ফর্ম প্রকাশ।
  • দ্বৈত যোগাযোগ: এখন থেকে ফর্মে দুটি মোবাইল নম্বর এবং দুটি ঠিকানার বিকল্প থাকবে।
  • সহজ তথ্য: প্রতিনিধিদের এখন আর আধার বা প্যান দেওয়ার প্রয়োজন নেই, নাম ও ফোন নম্বরই যথেষ্ট।
  • ক্যাপিটাল গেইন: শেয়ার বা সম্পত্তি বিক্রির হিসাব দেওয়ার পদ্ধতি আরও সহজ করা হয়েছে।
  • সময়সীমা: এই নতুন ফর্মে আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার শেষ তারিখ ৩১ জুলাই ২০২৬।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *