পাকিস্তানে বন্ধের পথে ক্যান্সার চিকিৎসা, মৃত্যুর মুখে হাজার হাজার রোগী!

আর্থিক সংকটে থমকে পাকিস্তানের ক্যানসার চিকিৎসা পরিষেবা
পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে তীব্র আর্থিক সংকটের কারণে সরকারি ক্যানসার চিকিৎসা পরিষেবা কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। হায়াতাবাদ মেডিকেল কমপ্লেক্স, খাইবার টিচিং হাসপাতাল এবং আইয়ুব টিচিং হাসপাতালের মতো গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রগুলোতে জীবনদায়ী ওষুধের তীব্র অভাব দেখা দিয়েছে। সরকারি তহবিলে বরাদ্দকৃত অর্থের তুলনায় প্রয়োজনের বিশাল ফারাক থাকায় কয়েক হাজার নথিভুক্ত ক্যানসার রোগীর জীবন এখন চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের তথ্যমতে, ওষুধের নতুন চাহিদা পূরণ না হওয়ায় অন্তত ১০০০ রোগী বর্তমানে চিকিৎসার অপেক্ষায় রয়েছেন।
তহবিলের ঘাটতি ও আকাশছোঁয়া দাম
স্বাস্থ্য দপ্তরের হিসাব অনুযায়ী, চলতি অর্থবর্ষে ক্যানসার কর্মসূচির জন্য ১৫০০ মিলিয়ন পাকিস্তানি টাকা প্রয়োজন থাকলেও মিলছে মাত্র ৮২০ মিলিয়ন টাকা। ৬৮০ মিলিয়ন টাকার এই বিশাল ঘাটতি চিকিৎসার পথে প্রধান বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এর পাশাপাশি বাজারে ওষুধের দাম ৫০ থেকে ৫০০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পাওয়ায় সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে প্রয়োজনীয় ওষুধ। ক্যানসার বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, এই পরিস্থিতিতে চিকিৎসায় বিরতি মানে রোগীদের জন্য এক প্রকার ‘মৃত্যুর পরোয়ানা’। নিম্নবিত্ত পরিবারগুলোর পক্ষে এই ব্যয়বহুল চিকিৎসা ব্যক্তিগত খরচে চালিয়ে যাওয়া আসাম্ভব বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
এক ঝলকে
- খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে তহবিলের অভাবে ক্যানসার রোগীদের জন্য সরকারি ওষুধ সরবরাহ বন্ধ হওয়ার উপক্রম।
- চলতি অর্থবর্ষে প্রয়োজনীয় ১৫০০ মিলিয়ন টাকার তুলনায় মাত্র ৮২০ মিলিয়ন টাকা বরাদ্দ পাওয়ায় সংকট তীব্র হয়েছে।
- পেশোয়ার ও অ্যাবোটাবাদের হাসপাতালের অন্তত ১০০০ নথিভুক্ত রোগী বর্তমানে ওষুধের অপেক্ষায় রয়েছেন।
- ওষুধের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি ও সরকারি তহবিল সংকটে হাজার হাজার মুমূর্ষু রোগীর ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চিত।