“নেতারাই সবচেয়ে বেশি পর্ন দেখেন!” সংসদে বিস্ফোরক দাবি সাংসদ পাপ্পু যাদবের

নারী সংরক্ষণ বিল ও লোকসভা কেন্দ্রের সীমানা পুনর্নির্ধারণ বিল-২০২৬ নিয়ে আলোচনার সময় উত্তপ্ত হয়ে উঠল ভারতের সংসদ ভবন। বিহারের পূর্ণিয়ার সংসদ সদস্য পাপ্পু যাদব রাজনৈতিক নেতাদের নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ করেছেন। তাঁর দাবি, গুগলে পর্নোগ্রাফি বা আপত্তিকর বিষয়বস্তু খোঁজার তালিকায় রাজনৈতিক নেতারাই শীর্ষে রয়েছেন। এই মন্তব্য ঘিরে লোকসভার ভেতরে ও বাইরে তীব্র বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।
রাজনৈতিক নেতাদের নৈতিকতা নিয়ে প্রশ্ন
পাপ্পু যাদব তাঁর বক্তব্যে বিভিন্ন পরিসংখ্যান তুলে ধরে দাবি করেন যে, প্রায় ৭৫৫ জন সংসদ সদস্যের বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ রয়েছে এবং এর মধ্যে ১৫৫ জনের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে। তাঁর মতে, যৌন অপরাধের তালিকায় রাজনীতিবিদরা প্রথম সারিতে রয়েছেন, যার পরেই রয়েছেন ধর্মগুরু ও উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তারা। তিনি সরাসরি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে বলেন, “আমরা সবাই উন্মোচিত, এখানে কেউ ধোয়া তুলসী পাতা নয়।”
নারী সংরক্ষণ বিলের বিরোধিতা
বর্তমান রূপে নারী সংরক্ষণ বিলের তীব্র বিরোধিতা করে তিনি এতে ওবিসি, ইবিসি, দলিত, আদিবাসী এবং সংখ্যালঘু নারীদের জন্য আলাদা কোটা দাবি করেছেন। পাপ্পু যাদবের মতে, এই বিশেষ কোটা ছাড়া বিলটি পাস হলে তা সমাজে বৈষম্য আরও বাড়িয়ে দেবে। এ ছাড়াও তিনি সিনেমা, মিডিয়া ও ফ্যাশন জগতে প্রায় ৮০ শতাংশ নারীর যৌন হেনস্থার শিকার হওয়ার তথ্য সামনে এনে সংশ্লিষ্ট মহলে ব্যাপক চাঞ্চল্য তৈরি করেছেন।
এক ঝলকে
- সংসদ সদস্য পাপ্পু যাদব দাবি করেছেন যে, গুগলে পর্নোগ্রাফি দেখার ক্ষেত্রে রাজনীতিবিদরাই সবচেয়ে এগিয়ে।
- প্রায় ৭৫৫ জন এমপির বিরুদ্ধে যৌন হেনস্থার অভিযোগ এবং ১৫৫ জনের বিরুদ্ধে চার্জশিট থাকার দাবি তুলেছেন তিনি।
- নারী সংরক্ষণ বিলে দলিত, সংখ্যালঘু ও অনগ্রসর শ্রেণির নারীদের জন্য আলাদা সাব-কোটার দাবি জানিয়েছেন এই নেতা।
- তাঁর এই বিস্ফোরক বক্তব্যের পর সংসদের ভেতর ‘শেম শেম’ স্লোগান ও তীব্র প্রতিবাদের মুখে পড়তে হয় তাঁকে।