“পাপের সাজা পাবে বিরোধীরা!” মহিলা সংরক্ষণ বিল ইস্যুতে জাতির উদ্দেশ্যে মোদীর রুদ্রমূর্তি

লোকসভায় ‘নারী শক্তি অধিনিয়ম’ বা মহিলা সংরক্ষণ বিল পাস করতে না পারার যন্ত্রণায় এবার সরাসরি দেশবাসীর সামনে হাজির হলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। শনিবার রাতে জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে তিনি দেশের নারী শক্তির কাছে ক্ষমা চেয়ে নেন। পর্যাপ্ত সংখ্যাগরিষ্ঠতার অভাবে বিলটি থমকে যাওয়ায় তিনি বিরোধীদের কঠোর সমালোচনা করে জানান, কিছু দলের নেতিবাচক রাজনীতির কারণেই দেশের মহিলারা তাঁদের প্রাপ্য অধিকার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
উন্নয়নের পথে বাধা ও রাজনৈতিক সংঘাত
প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে কংগ্রেসসহ বিরোধী দলগুলোকে উন্নয়নের চিরশত্রু হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। ডিজিটাল পেমেন্ট, জিএসটি এবং ৩৭০ ধারা বিলোপের প্রসঙ্গ টেনে তিনি দাবি করেন, দেশের প্রতিটি সংস্কারমূলক পদক্ষেপে কংগ্রেস বাধা দিয়েছে। মোদীর মতে, আঞ্চলিক দলগুলোর ওপর ভর করে টিকে থাকা এই দলগুলো চায় না সাধারণ পরিবারের মেয়েরা নেতৃত্বে আসুক, কারণ তাতে তাদের পরিবারতান্ত্রিক রাজনীতি হুমকির মুখে পড়বে। তৃণমূল কংগ্রেস, ডিএমকে এবং সমাজবাদী পার্টির মতো দলগুলোকেও তিনি মা-বোনেদের ধোঁকা দেওয়ার দায়ে অভিযুক্ত করেন।
সংরক্ষণ বিলের ভবিষ্যৎ ও জটিলতা
দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে ঝুলে থাকা এই ১২৮তম সংবিধান সংশোধনী বিলের মূল লক্ষ্য হলো লোকসভা ও বিধানসভাগুলোতে মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন নিশ্চিত করা। বর্তমান অচলাবস্থার মূলে রয়েছে ‘কোটা উইদিন কোটা’ বা ওবিসি ও সংখ্যালঘু মহিলাদের জন্য পৃথক উপ-সংরক্ষণের দাবি। বিরোধীরা এই দাবিতে অনড় থাকায় বিলটি প্রয়োজনীয় ৬৬ শতাংশ ভোট পেতে ব্যর্থ হয়। তবে প্রধানমন্ত্রী স্পষ্ট করেছেন যে, এই স্থবিরতা সাময়িক এবং নারী শক্তির অধিকার আদায়ের লড়াই অব্যাহত থাকবে।
এক ঝলকে
- লোকসভায় প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা না পাওয়ায় মহিলা সংরক্ষণ বিলটি আপাতত স্থগিত হয়ে গেল।
- বিল পাস না হওয়ায় জাতির উদ্দেশে ভাষণে দেশের মহিলাদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী।
- বিরোধীদের ‘পরিবারবাদী’ রাজনীতি এবং ওবিসি কোটার দাবিতে অনড় থাকাকেই এই ব্যর্থতার মূল কারণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে কেন্দ্র।
- লোকসভা ও রাজ্য বিধানসভাগুলোতে মহিলাদের জন্য ৩৩ শতাংশ আসন সংরক্ষিত করাই ছিল এই ‘নারী শক্তি অধিনিয়ম’-এর মূল লক্ষ্য।