বিজেপি ভয়ংকর, বাংলায় ওদের রুখে দিন, পুরুলিয়ার প্রচার সভায় হুঙ্কার হেমন্ত সোরেনের

বাংলার বিধানসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক পারদ এখন তুঙ্গে। শনিবার আদিবাসী অধ্যুষিত পুরুলিয়া জেলায় তৃণমূল প্রার্থীদের সমর্থনে প্রচারে এসে বিজেপিকে তীব্র আক্রমণ শানালেন ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী তথা জেএমএম প্রধান হেমন্ত সোরেন। কাশীপুর, মানবাজার ও বান্দোয়ানের জনসভায় উপচে পড়া ভিড়ের সামনে তিনি স্পষ্ট হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, বিজেপি অত্যন্ত ভয়ংকর একটি শক্তি। তাদের বাংলায় কোনোভাবেই জায়গা দেওয়া উচিত নয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জঙ্গলমহলে আদিবাসী ভোটব্যাঙ্ক অক্ষুণ্ণ রাখতে হেমন্তের এই সফর তৃণমূলের জন্য বড় হাতিয়ার হতে পারে।
বিজেপির বিরুদ্ধে লড়াইয়ের ডাক
হেমন্ত সোরেন তাঁর ভাষণে নিজের রাজনৈতিক লড়াই ও জেলযাত্রার প্রসঙ্গ টেনে বিজেপিকে ‘চক্রান্তকারী’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। তিনি অভিযোগ করেন, গেরুয়া শিবির বিভাজনের রাজনীতি করে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। তাঁর মতে, ডবল ইঞ্জিন সরকারের নামে বিজেপি আসলে হিন্দু-মুসলমান এবং আদিবাসীদের মধ্যে বিবাদ সৃষ্টি করছে। এদিন তিনি হিন্দি ও সাঁওতালি ভাষায় বক্তব্য রাখার পাশাপাশি তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উন্নয়নের প্রশংসা করেন এবং আদিবাসী সমাজকে তৃণমূলের পাশে থাকার আহ্বান জানান।
জঙ্গলমহলে রাজনৈতিক সমীকরণ
তৃণমূল প্রার্থী সৌমেন বেলথরিয়া, সন্ধ্যারানি টুডু এবং রাজীব লোচন সোরেনের সমর্থনে প্রচার চালিয়ে হেমন্ত মনে করিয়ে দেন যে, বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোতে দলিত ও আদিবাসীরা প্রতিনিয়ত নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। বীরসা মুণ্ডা ও সিধো-কানহুর উত্তরাধিকারী হিসেবে আদিবাসীরা কাউকে ভয় পায় না—এই বার্তা দিয়ে তিনি মূলত বিজেপির বিরুদ্ধে একপ্রকার ‘যুদ্ধ’ ঘোষণা করেন। এই সফরের মাধ্যমে জঙ্গলমহলের পিছিয়ে পড়া জনজাতির মধ্যে তৃণমূলের জনভিত্তি আরও মজবুত হবে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
এক ঝলকে
- পুরুলিয়ার তিনটি বিধানসভা কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থীদের সমর্থনে প্রচার চালালেন ঝাড়খণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন।
- বিজেপিকে ‘বিভাজনকারী ও ভয়ংকর’ আখ্যা দিয়ে দলিত-আদিবাসী সমাজকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি।
- মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে বাংলার উন্নয়নের ভূয়সী প্রশংসা করে বিজেপিকে রোখার ডাক দেন জেএমএম প্রধান।
- জঙ্গলমহলের আদিবাসী ভোটের সমীকরণে হেমন্তের এই সফর অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।