সহমত নয় বিরোধীরা, প্রধানমন্ত্রীর ভাষণকে ‘নাটক’ বলে তোপ দাগল কংগ্রেস ও তৃণমূল

সহমত নয় বিরোধীরা, প্রধানমন্ত্রীর ভাষণকে ‘নাটক’ বলে তোপ দাগল কংগ্রেস ও তৃণমূল

প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সাম্প্রতিক রাষ্ট্রীয় ভাষণকে কেন্দ্র করে উত্তাল হয়ে উঠেছে জাতীয় রাজনীতি। বিরোধীদের ‘নারী-বিরোধী’ হিসেবে চিহ্নিত করার পাল্টা জবাবে সরব হয়েছে কংগ্রেস ও তৃণমূল কংগ্রেস। কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ এই ভাষণকে অত্যন্ত ‘পক্ষপাতদুষ্ট’ এবং ‘বিতর্কিত হামলা’ বলে অভিহিত করেছেন। তাঁর মতে, প্রধানমন্ত্রীর ভাষণ যেখানে জাতীয় সংকল্প ও আত্মবিশ্বাস বাড়ানোর মাধ্যম হওয়া উচিত ছিল, সেখানে তিনি রাজনৈতিক সংকীর্ণতা প্রকাশ করেছেন।

নারী শক্তি বন্দন আইন নিয়ে সংঘাত

নারী শক্তি বন্দন আইন বা মহিলা সংরক্ষণ বিলের বিজ্ঞপ্তি জারি নিয়ে সরকারের সদিচ্ছা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিরোধীরা। কংগ্রেসের অভিযোগ, ২০২৩ সালে সর্বসম্মতিক্রমে বিলটি পাস হলেও দীর্ঘ ৩০ মাস পর ২০২৬ সালের এপ্রিলে এসে কেন এটি বিজ্ঞাপিত করা হলো। তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র একে নিছক ‘নাটক’ বলে দাবি করেছেন। তিনি সাফ জানিয়েছেন, আইন কার্যকর হওয়ার অপেক্ষায় না থেকে বিজেপি চাইলে এখনই তৃণমূলের মতো এক-তৃতীয়াংশ আসনে নারী প্রার্থী মনোনীত করতে পারে।

রাজনৈতিক অগ্রাধিকার ও বিরোধীদের প্রতিক্রিয়া

কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে প্রধানমন্ত্রীর ভাষণের কঠোর সমালোচনা করে বলেন, নরেন্দ্র মোদী তাঁর বক্তৃতায় ৫৯ বার কংগ্রেসের নাম নিয়েছেন, কিন্তু নারীদের কথা উল্লেখ করেছেন যৎসামান্য। বিরোধীদের মতে, এই পরিসংখ্যানই প্রমাণ করে সরকারের কাছে জনকল্যাণ বা নারী অধিকারের চেয়ে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সাংবিধানিক সংশোধনী ব্যর্থ হওয়ার দায় বিরোধীদের ওপর চাপানোর প্রচেষ্টাকে সরকার পক্ষের রাজনৈতিক দেউলিয়াপনা হিসেবেই দেখছেন বিরোধী শিবির।

এক ঝলকে

  • প্রধানমন্ত্রীর ভাষণকে ‘পক্ষপাতদুষ্ট’ ও ‘সংকীর্ণ রাজনৈতিক হামলা’ বলে আখ্যা দিলেন কংগ্রেস নেতা জয়রাম রমেশ।
  • ২০২৩ সালে নারী সংরক্ষণ বিল পাস হওয়ার পর বিজ্ঞপ্তি জারিতে ৩০ মাসের বিলম্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বিরোধী দলগুলো।
  • মল্লিকার্জুন খাড়গের দাবি অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী তাঁর ভাষণে নারীদের চেয়ে কংগ্রেসকে (৫৯ বার) বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন।
  • তৃণমূল সাংসদ মহুয়া মৈত্র এই ভাষণকে বাস্তব সত্য লুকানোর চেষ্টা ও ‘নাটক’ বলে কটাক্ষ করেছেন।

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *